বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল এখন কোচদের হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোচনায়। গতকাল এই খবর চাউর হওয়ার পর দিন আজ (মঙ্গলবার) বাফুফে বিকেল ৪টায় এএফসি অ-২০ টুর্নামেন্টের বাছাই নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে সম্মেলন স্থগিত করা হয় দুপুর সাড়ে ১২টায়।
দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে বাফুফের ডেপুটি মিডিয়া ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ সাংবাদিকদের উদ্দেশে জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে লেখেন, ‘বাংলাদেশ অ-২০ জাতীয় ফুটবল দলের সার্বিক বিষয়ে অবহিত করার জন্য আজ বিকাল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্ধারিত তারিখ থাকলেও অনিবার্য কারণবশত উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পরবর্তীতে উক্ত সংবাদ সম্মেলন আয়োজন সম্পর্কে যথাসময়ে অবহিত করা হবে।’
বাংলাদেশ দলের উজবেকিস্তানের ভিসা হয়েছে। টিকিটও চূড়ান্ত, ২৭ ও ২৮ আগস্ট রাতে দুই ভাগে দল যাবে। ওই সফরের ২৩ জনের স্কোয়াডও চূড়ান্ত। এরপরও কেন সংবাদ সম্মেলন স্থগিত– এমন প্রশ্নে ম্যানেজার সামিদ কাশেমের জবাব, ‘আজ একটু শিডিউলে সমস্যা হয়েছে। এজন্য প্রেস কনফারেন্স হচ্ছে না। আমরা দেশ ছাড়ার আগে অবশ্যই সংবাদ সম্মেলন করেই যাব।’
গতকাল বাংলাদেশ অ-২০ দল ফর্টিজের সঙ্গে ম্যাচ খেলছে। আজ সংবাদ সম্মেলনের জন্য কোচ বিকেলের পরবর্তীতে সকালে অনুশীলন রেখেছে। দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের সময়ও সংবাদ সম্মেলনের জন্য প্রস্তত ছিলেন। এরপরও আকস্মিকভাবে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত কেন এ নিয়ে ফুটবলাঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হওয়ার পর খবর ছড়ায় জেরার্ড জোন্স বরখাস্ত। কিছুক্ষণ পর জোন্স একটি ভিডিও বার্তা দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি এখনও বাংলাদেশ অ-২০ দলের কোচ। তাকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে ফেডারেশন কিছু জানায়নি। বরখাস্তের খবরকেও ভুল হিসেবে আখ্যা দেন জোন্স।
অ-২০ দলের দায়িত্ব বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির। সেই কমিটির চেয়ারম্যান বাফুফে সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী ব্যক্তিগত সফরে দেশের বাইরে থাকায় তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য ও অ-২০ দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেমের বক্তব্য, ‘আমার জানা মতে, জোন্স এখনও আমাদের হেড কোচ। পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সবাই সফরে যাব।’ বাফুফের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকেও সবার উজবেকিস্তানে যাওয়ার তথ্যই পাওয়া গেছে।
দিনভর বিভিন্ন সূত্রে গুঞ্জন ছিল, জোন্সকে সরাসরি বরখাস্ত করা হয়নি; তাকে উজবেকিস্তান সফরে পাঠানো হবে না। সেই অনুযায়ী, দল থেকে তাকে সাময়িকভাবে দূরে রাখা হতে পারে। যদিও সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ পায়নি। সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুকেও হেড কোচের দায়িত্ব বা কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। জোন্সকে বরখাস্ত করলে ৩ মাসের বেতন দিতে হবে ফেডারেশনকে। সেই বিষয়টি কীভাবে এড়ানো বা কমানো যায় সেটাও দেখছে ফেডারেশন।
ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্স গতকাল রাতে আবার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, তিনি কর্মক্ষেত্রে শারীরিকভাবে আহত হওয়ায় পুলিশ ডেকেছেন নিজের নিরাপত্তার জন্য। তিনি মূলত সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুকে ইঙ্গিত করেছেন। আবার মিশুও জোন্সের মাধ্যমে আঘাত পেয়েছেন, তার শরীরেও আঘাত রয়েছে। সেটা তিনি ফেডারেশনকে জানিয়েছেন। মিশু গত বুধবারই ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়অ হয়নি। একদিন পর জোন্স উল্টো হোটেলে পুলিশ ডাকেন।
দুই কোচের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার পাঁচ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর ম্যানেজার বলছেন, ‘কেন ঘটেছে, কী ঘটেছে কার কি দায় সব কিছু আমরা দেখছি।’ গত বুধবার এমন ঘটনা ঘটলেও বাফুফের দায়িত্বশীল কেউ হোটেলে যাননি এখনও। এর মাঝে শুধু দুই দিন অনুশীলনে গিয়েছিলেন ম্যানেজার।
এজেড/এএইচএস
