বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনা গড়িয়েছে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি পর্যন্ত। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের ওপর ফিফার শাস্তির খড়্গ নামার পর এবার সেই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার সাফ কথা, ওই ঘটনার পেছনে তার শিষ্যদের কোনো দায় ছিল না।
ঘটনার তদন্ত শেষে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলারকে সব মিলিয়ে ১৮ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। লিয়ান্দ্রো পারেদেস সবচেয়ে বেশি ১০ ম্যাচ এবং নাহুয়েল মোলিনা ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। এ ছাড়া এক ম্যাচের শাস্তি পেয়েছেন থিয়াগো আলমা। পাশাপাশি তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা। অন্যদিকে স্পেনের হয়ে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন মিডফিল্ডার গাভি।
ফিফার এমন শাস্তির প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দে লা ফুয়েন্তে পুরো ঘটনাকে ‘অসহনীয়’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন দৃশ্য কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফুটবলাররা নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হয়েছে এবং দিনশেষে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তবে ঘটনার পর দুই দলের কোচের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চিত্রও সামনে এনেছেন দে লা ফুয়েন্তে। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে মেসেজ পাঠিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ও স্প্যানিশ দলের সদস্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন।
ভবিষ্যতে যেন এমন অপ্রীতিকর ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক করে স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘ফুটবল হলো সমাজকে এক সুতোয় বাঁধার মাধ্যম। এটি ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতির কথা বলে। কিন্তু এর মাঝে কিছু কুৎসিত বিষয়ও সামনে চলে আসে, যা একদমই কাম্য নয়। খেলাটির স্বার্থেই এসব বিষয় সামনে এনে বন্ধ করা উচিত, যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’
এফআই
