চলতি বছর বিপিএল আয়োজন না করার আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন দেশের ক্রিকেটাররা। যারা ঘরোয়া ক্রিকেটের ওপর নির্ভরশীল তাদের জন্য চাপটা আরও বেশি হতে পারে।
বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল কদিন আগে বিপিএল আয়োজন নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। আগের জোড়াতালি আয়োজনের পথে না হেঁটে গুছিয়ে নতুন করে শুরু করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
বিপিএল মাঠে না গড়ালে এর প্রভাব পড়বে ক্রিকেটারদের ওপর। জাতীয় দলের ২০-২৫ জন ক্রিকেটারের বাইরে সবাইকে বিপিএল ও ডিপিএলের ওপর নির্ভর করতে হয়। এদিকে চলতি বছরের ডিপিএলেও পারিশ্রমিক কমে গেছে!
এমন পরিস্থিতিতে বিপিএল নিয়ে মুখ খুললেন বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি বলছিলেন, 'হাজারো সমস্যা, আর্থিক লোকসান এবং নানাবিধ বিতর্ক জড়িয়ে থাকার পরও কি আগের ফরম্যাটেই বিপিএল আয়োজনের পক্ষ সমর্থন করা উচিত? গত কয়েক বছরে বিপিএল আসলে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কী দিয়েছে?’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এমন এক সময়ে যখন ক্রিকেটারদের ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়াতে এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিসিবি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন টুর্নামেন্ট চালু করেছে। তখন বিদ্যমান ফরম্যাটেই বিপিএল আয়োজন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কতটা যৌক্তিকতা রয়েছে?’
জোড়াতালি দিয়ে আয়োজন করার চেয়ে টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করিয়ে বিপিএলের পক্ষে এই পরিচালক, ‘কোনো রকমে কেবল একটি বছরের জন্য বিপিএল আয়োজন করার চেয়ে, সেই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে এটিকে একটি সঠিক ও টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোই হবে অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত। এরপর আগামী বছরগুলোতে বিপিএলকে একটি সুগঠিত এবং যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্ত টুর্নামেন্ট হিসেবে আয়োজন করা হলে, তা নিঃসন্দেহে জোরালো সমর্থন পাওয়ার যোগ্য হবে।'
এদিকে, বিপিএল না হলেও ক্রিকেটারদের জন্য বিকল্প কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। মিঠুন বলেন, ‘বিপিএল না হয়েও যদি অন্য কিছু একটা করে কিছু করা যায়, হয়তোবা ১০০% বিপিএলের মতো হবে না। আমরা খেলতে চাই। খেলার মাধ্যমেই আমরা আমাদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক চাই।’
তবে বিপিএল প্রতি বছর আয়োজন করলেই হবে না, টুর্নামেন্টটি সঠিক কাঠামোয় করার পক্ষপাতী কোয়াব সভাপতিও। একই সঙ্গে ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান তার, ‘আমরা ডেফিনেটলি একটা উইন-উইন সিচুয়েশনে যেতে চাই। বিপিএল যেভাবে হচ্ছে সেভাবে হওয়া ঠিক না, কারণ প্রপারভাবে একটা বিপিএল আয়োজন করা খুবই জরুরি। এভাবে ভঙ্গুরভাবে প্রতিবছর বিতর্ক নিয়ে টুর্নামেন্ট করা হোক এটাও আমরা চাই না। আর্থিক নিরাপত্তাটা গুরুত্বপূর্ণ।'
এসএইচ/এফআই
