বিজ্ঞাপন

লিড নিয়েও অস্বস্তিতে শ্রীলঙ্কা, জয় থেকে ৪ উইকেটের দূরত্বে ভারত

লিড নিয়েও অস্বস্তিতে শ্রীলঙ্কা, জয় থেকে ৪ উইকেটের দূরত্বে ভারত

প্রথম ইনিংসে বেশ বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় ফলো-অনে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা ভারতের বিপক্ষে লিড নিতেও শুরু করেছে। তবে সেটি ঠিক স্বস্তি দিচ্ছে স্বাগতিকদের। কারণ হাতে আর ৪ উইকেট। চতুর্থ দিন শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৯ রান, তবে লিড স্রেফ ১৬ রানের। সে হিসেবে ১-০ তে এগিয়ে থাকা ভারতের সিরিজ নিশ্চিতের সুযোগটাই বেশি!

কলম্বো টেস্টের প্রথম ইনিংসে সোনাল দিনুশার সেঞ্চুরি এবং পাসিন্দু সুরিয়াবান্দরার দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৮০ ও ৯২ রানের ভর করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে শ্রীলঙ্কা। তবে টেস্টে বারবারই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে ভারত। দিনুশার সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ঘাটতি কমে ২১৩ রানে নেমে আসে। ফলো-অন করার পর সুরিয়াবান্দারা ও কামিন্দু মেন্ডিসের শতরানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে টেস্ট বাঁচানোর ভালো সুযোগ এনে দিয়েছিল।

Pasindu Sooriyabandara and Kamindu Mendis put on a century stand, Sri Lanka vs India, 2nd Test, Colombo, 4th day, August 26, 2026

তবে শেষ সেশনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। মূলত স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে ২৯০ রানে অলআউট হওয়ায় ভারত বড় মোমেন্টাম পেয়ে গেছে। এর আগে অবশ্য চতুর্থ দিনের শুরুতে লঙ্কানদের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ২৬৫ রান, ভারতের চেয়ে পিছিয়ে ছিল ২৩৮ রানে। ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন দিনুশা। দিনের শুরুতেই সারাংশ জৈনের ওপর চড়াও হন তিনি। একটি করে ছক্কা-চার মারার পর প্রসিধের বলে বাউন্ডারি মেরে সিরিজে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটার।

লাহিরু কুমারাও আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন। সারাংশকে মিড-অনের ওপর দিয়ে চার মারেন তিনি। তবে দুই বল পরই সেই আক্রমণাত্মক মানসিকতার খেসারত দিতে হয়। লফটেড শট খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল তুলে দেন ডিপ কাভারে। নিচু হয়ে দারুণ ক্যাচ নেন ধ্রুব জুরেল। টেস্ট ক্রিকেটে এটি সারাংশের প্রথম উইকেট। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি দিনুশাও। সারাংশের বলে অফস্টাম্পের বাইরে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্লিপে লোকেশ রাহুলকে ক্যাচ দেন ১০৩ রানে। থেমে যায় লঙ্কানদের প্রথম ইনিংসও।

Image

দ্বিতীয় ইনিংসে লঙ্কানরা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। যদিও দ্রুতই হারিয়েছে লাহিরু উদারার উইকেট। দ্বিতীয় উইকেটে সুরিয়াবান্দারার সঙ্গে কাইল মিশারা ৫৮ রানের জুটি গড়েন। মিশারা ফেরার পর কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে পাল্টা আক্রমণে যান সুরিয়াবান্দারা। ২০১৮ সালে দানুশকা গুনাথিলাকার পর কলম্বোর সিংহলিজ মাঠে টেস্টে একই ম্যাচে দুটি ফিফটি করা প্রথম শ্রীলঙ্কান ব্যাটার হন তিনি। কামিন্দুও ফিফটি করেছেন। তার বিদায়ে ভাঙে ১১৬ রানের জুটি।

কামিন্দু ৫৫ এবং সুরিয়াবান্দারা ৮ রানের আক্ষেপ নিয়ে ৯২ করে থামেন। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ২৩ রানে ফেরার কিছুক্ষণ পর সুরিয়াবান্দারাও আউট। শেষ সেশনে শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধ ভেঙে পড়তে শুরু করে। নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবারও নিজেদের হাতে নেয় ভারত। মানভ সুথার এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ উইকেট নিয়েছেন। ক্রিজে সোনাল দিনুশা ৭ এবং কেশারা নুয়ান্থা ৩ রানে অপরাজিত আছেন।

এএইচএস