বিজ্ঞাপন

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থক নয়, তাদের বিপক্ষে খেলার মানসিকতা চান ডুলি

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থক নয়, তাদের বিপক্ষে খেলার মানসিকতা চান ডুলি

‘আমরা চাই, বাচ্চারা আর্জেন্টিনার সমর্থক হতে না চেয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে, ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলার জন্য ফুটবলার হতে চাইবে’– ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলি। বাংলাদেশকে ফুটবলের বড় সমর্থক পরিচয়ের চেয়ে নিজেরাও যে ফুটবল খেলে, বিশ্বের কাছে সেটাই জানান দেওয়ার লক্ষ্যের কথা তিনি জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনাসদস্যের সন্তান ডুলির বেড়ে ওঠা জার্মানিতে, ফুটবলও খেলেছেন দেশটিতে। পরে ঘটনাচক্রে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে সুযোগ পান। কোচিং ক্যারিয়ারের বড় একটি সময় তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কাটিয়েছেন। সেখানেই এমন একটি ‘ফুটবলপাগল দেশ’ বাংলাদেশের কথা শুনেছিলেন, যাদের দায়িত্ব এখন তার হাতে।

বাংলাদেশে ফুটবল নিয়ে মানুষের আগ্রহ, ফুটবল দলের সামর্থ্য ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন ডুলি। তার মতে, ‘আমরা এমন একটি দেশ, যারা ফুটবলের সমর্থক। এটা আমাদের বদলাতে হবে। আমাদের এমন একটি দেশ হতে হবে, যারা ফুটবল খেলে।’

ফিলিপাইনে কোচিংয়ের সময়ও বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের দলে নেওয়া নিয়ে সমর্থকদের আপত্তি দেখেছেন ডুলি। তবে বাংলাদেশের জাতীয় দলে লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর নেতৃত্ব ও বিনয় দেখে তিনি আশাবাদী। ভিন্ন ভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শিকড় থাকা খেলোয়াড়দের জাতীয় দল বেছে নেওয়ার অধিকারকে তিনি জোরালোভাবে সমর্থন করেন।

dhakapost

ডুলি বলেন, ‘হামজা আসায় সবাই খুশি ছিল। খেলোয়াড়রাও বোঝে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফুটবলাররা তাদের সাহায্য করতে পারে। তাদের মানসিকতা, পরিশ্রমের ধরন এমন সবকিছু অনুসরণ করতে পারে দেশীয় ফুটবলাররা। তারা কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেটাও শেখা যায়।’

বিদেশে থাকা খেলোয়াড়দের খুঁজতে গিয়ে আরও অনেক প্রতিভার সন্ধান পাচ্ছেন ডুলি। সবাই যে বড় কোনো ইউরোপীয় লিগে খেলেন তা নয়, তবে এমন পর্যায়ের খেলোয়াড়ও আছেন যারা জাতীয় দলের মান বাড়াতে পারেন। তবে বিষয়টি ব্যয়বহুল হওয়ায় সতর্কও থাকতে হচ্ছে। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ‘হাজার হাজার’ বার্তা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ডুলি। তিনি বলেন, ‘ফ্রি-কিক নেওয়ার ছবি পাঠালেই যে কেউ ভালো খেলোয়াড় হয়ে যায় না, কিংবা আমাদের সাহায্য করতে পারবে এমনও নয়। আমাদের দেশেও ভালো খেলোয়াড় আছে, যাদের আমরা সহজেই সামর্থ্যের মধ্যে রাখতে পারি।’

‘কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে এসে ২-৩ হাজার ডলার খরচ করে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার প্রশ্নই নেই। যারা আসবে, তাদের সত্যিই আমাদের সাহায্য করতে হবে। নইলে ওই টাকা স্থানীয় খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে রেখে দুই সপ্তাহ দিনে দু’বার অনুশীলন করাতে খরচ করা যায়। দেখবেন তারাও অনেক অনেক উন্নতি করবে’, আরও যোগ করেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ।

সাবেক এই মার্কিন ফুটবলার বিশ্বাস করেন, এমন একটি দল গড়ে তোলা সম্ভব যারা মাঠে প্রচুর দৌড়াবে, নিজেদের খেলার ধরন নিয়ে ভাববে এবং ভুল কম করবে। তার মতে, এতে দলটির মান ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৫০-এর ঘরে ওঠাও তার কাছে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবল দল ইতিহাসে মাত্র একবার এশিয়ান কাপ খেলেছে। তাই ডুলির প্রথম লক্ষ্য এশিয়ান কাপ বা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পথ তৈরি করা।

dhakapost

১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার ও ফুলহ্যাম একাডেমির খেলোয়াড় ফারহান ওয়াহিদ এবং ইংল্যান্ডের চতুর্থ বিভাগের ২৫ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার লুই ওয়াটসনকে সম্ভাব্য নতুন সংযোজন হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ কোচ। হামজা চৌধুরী ও কানাডায় জন্ম নেওয়া নিউইয়র্ক কসমসের মিডফিল্ডার সামিত সোমকে তিনি প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। গোলরক্ষক পজিশনকেও বড় গুরুত্ব দিয়ে শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছেন ডুলি।

এরপর সক্রিয় হতে চান দেশের ঘরোয়া ফুটবলের উন্নয়নেও। ডুলির মতে, কাজটি করতে হবে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত। জাতীয় দলের সাফল্য মানুষের আগ্রহ, স্পনসরশিপ ও বিনিয়োগ বাড়াবে। আর সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে তৈরি হবে একটি শক্তিশালী কাঠামো, যেখানে বয়সভিত্তিক একাডেমি থেকে উঠে আসবে ভবিষ্যতের খেলোয়াড়রা। এভাবে বাংলাদেশের ফুটবলে অবকাঠামো, সংস্কৃতি ও মানসিকতার পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জগুলো তিনি উৎরে উঠতে চান।

একই গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ সাফজয়ী ফুটবলার ডেকলান সুলিভানও। তার মতে, বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে জাতীয় দলের নতুন সেতুবন্ধন তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। ডেকলান বলছেন, ‘আমি যখন ৬৪ দলের বিশ্বকাপের কথা ভাবি, তখন মনে হয় যদি আমরা এসব খেলোয়াড়কে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আমাদের বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ আছে। এটাই স্বপ্ন, এটাই চূড়ান্ত লক্ষ্য।’
 
এএইচএস