২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে গিয়ে ডারউইন টেস্টে ইতিহাসগড়া জয় পায় বাংলাদেশ। যদিও পরের ম্যাচে ম্যাকাইতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি। তবে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের জয়ে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন অজি কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহ। একইসঙ্গে তিনি টি-টোয়েন্টির প্রবল জনপ্রিয়তার যুগে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের জয়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা মনে করেন ওয়াহ। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে উল্লেখ করলেন ৫১ গড়ে টেস্টে ১০৯২০ রান করা সাবেক এই তারকা, ‘এটা সবচেয়ে বিস্ময়কর ফল এবং সম্ভবত টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আমাদের পাওয়া সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা। বাংলাদেশকে ভালো করতে দেখা দারুণ ব্যাপার।’
টেস্টে আগের মতো ব্যাটিংয়ের ধ্রুপদি ধারা দেখেন না সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। তবে এর চেয়ে টেস্ট ক্রিকেটের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়েই উদ্বিগ্ন ওয়াহ। দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সবাইকে বিষয়টি নিয়ে সচেতন ও উদ্বিগ্ন হতে হবে। টি-টোয়েন্টিতেই টাকা বেশি, আর খেলোয়াড়রা সেখান থেকে জীবিকা নির্বাহ করে। স্বল্প সময়ে অনেক টাকা আয় করা নাকি টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং তুলনামূলক কম অর্থ উপার্জন করা– তাদের জন্য সিদ্ধান্তটা কঠিন নয়।’
‘ক্রিকেটে আপনি কতটা ভালো, সেটা জানতে চাইলে টেস্ট ক্রিকেট খেলুন। আর পরিবারকে ভালোভাবে দেখাশোনা করতে ও অনেক টাকা আয় করতে চাইলে টি-টোয়েন্টি খেলুন। তাই কেউ যে সিদ্ধান্তই নিক, আমি তাকে দোষ দিই না। তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, টেস্ট ক্রিকেট যেন এখনও খেলা হয়’, আরও যোগ করেন ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক।

টি-টোয়েন্টির আবির্ভাবের আগে ১৯৯৯ সালে ওয়াহ একটি সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার মতে, কোন দেশের হয়ে একজন ক্রিকেটার টেস্ট খেলছেন, তা বিবেচনা না করে বিশ্বের সব টেস্ট ক্রিকেটারকে সমান পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত। সেটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলছেন, ‘২৭ বছর আগে বলেছিলাম, এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আপনি যদি চান খেলোয়াড়রা টেস্ট ক্রিকেট খেলুক, তাহলে সবার জন্য একই পারিশ্রমিক নির্ধারণ করুন। শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের হয়ে একজন খেলোয়াড় টেস্ট খেললে যে অর্থ পাবেন, ভারত বা অস্ট্রেলিয়ার একজন খেলোয়াড় টেস্ট খেলেও যেন একই অর্থ পান।’
পাঁচ দিনের ক্রিকেটকে টিকিয়ে রাখার জন্য ওয়াহ’র আরেকটি পরামর্শ হলো, অন্য ফরম্যাটের সঙ্গে যেন টেস্ট ক্রিকেটের সূচির সংঘাত না হয়, সেজন্য যাতে আলাদা সময় বের করা হয়। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা সময়ের উইন্ডো তৈরি করতে হবে, এটা সহজ নয়। বিষয়টি সামলাতে যথেষ্ট দক্ষতার প্রয়োজন।’
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৬৮টি টেস্ট খেলেছেন স্টিভ ওয়াহ। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার ৩২ সেঞ্চুরি ও ৫০ হাফসেঞ্চুরিতে ৫১.০৬ গড়ে করেছেন ১০,৯২০ রান। এ ছাড়া ৩২৫টি ওয়ানডেতে প্রায় ৩৩ গড়ে ৭৫৬৯ রান করেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই অজি অধিনায়ক।
এএইচএস
