লিটন দাসের চোট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে নানা আলোচনা ছিল। জিম্বাবুয়েতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হলেও না খেলেই ফিরে আসতে হয়েছিল তাকে। এরপর সিঙ্গাপুরে গিয়ে লিটনের চোটের আসল সমস্যা ধরা পড়ে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে চোটের সমস্যায় ছিলেন আরও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। সব মিলিয়ে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ বেশ বেকায়দায় ছিল।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মেডিকেল বিভাগের চেয়ারম্যান সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম অবশ্য দাবি করলেন, দেশে করা লিটনের স্ক্যানের রিপোর্ট ভুল ছিল না, 'কোথাও বলা হয়নি যে রিপোর্ট ঠিক ছিল না। রিপোর্ট ঠিক ছিল। রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে তার গ্রেড ওয়ান ইনজুরি আছে। প্রথম এই রিপোর্টটা করা হয়েছে মানে প্রথম যে স্ক্যানটা করা হয়েছে সেটা দুদিন পরে করা হয়েছে, সেকেন্ড স্ক্যানটা ছিল সেটা ১৪ দিন পরে করা হয়েছে।’
শুধু লিটন নয় আগে একাধিক ক্রিকেটারের দ্রুত মাঠে ফেরানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুরোধ আসার বিষয়টি স্বীকার করে শামীম বলেন, ‘আমরা এইটা অনেক সময় হয়তোবা কম্প্রোমাইজ করেছি যেটা আগেই করা উচিত ছিল না। অন্যান্যদের অনুরোধ শুনে আমরা হয়তোবা আগেই স্ক্যান করতে দিয়েছি। অথবা নির্বাচক বা টিমের কারও অনুরোধে আমরা আগেই খেলতে দিয়েছি।’
নিজের চিকিৎসাবিদ্যার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ডা. শামীম বলেন, ‘আমি নিজে মেডিকেল পার্সন, আমি প্রফেসর অব ডার্মাটোলজি। আমরা এগুলো লম্বা সময় ধরে দেখে আসছি, করে আসছি। আমি আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি দুটো রিপোর্টের মধ্যেই ঠিকমতোই আসছিল জিনিসগুলা যে ইনজুরি আছে।’
চোটগ্রস্ত খেলোয়াড়দের দ্রুত মাঠে ফেরানোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আর কোনো আপস না করার কথাও জানিয়েছেন বিসিবির মেডিকেল বিভাগের এই চেয়ারম্যান, 'আমরা আগে চিকিৎসার নির্ধারিত নিয়ম ভেঙেছি। হয়তো কেউ আমাদের অনুরোধ করেছে যে, এই খেলোয়াড়কে একটু আগেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ফেরানো যায় কি না। আমরা এসব ক্ষেত্রে আপস করেছি, তবে আর আপস করব না। আমরা পুরোপুরি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চলব এবং আমাদের অনুমতি ছাড়া কেউ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।’
ডা. শামীমের মতে, খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার ও দেশের স্বার্থ—দুই কারণেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরা জরুরি, ‘তার ক্যারিয়ারের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে অবশ্যই তার চোট পুরোপুরি ঠিক করেই মাঠে ফেরা উচিত। চোট থাকা অবস্থায় কোনো খেলোয়াড় খেললে তার আরও গুরুতর চোটে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়।’
এসএইচ
