হয়ে গেলো ৩৬ দলের চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র। প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বেশ কঠিন সূচি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবারের ৩৬ দলের লিগ পর্বের ড্রতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হচ্ছে কোচ লুইস এনরিকের সাবেক ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে (হোম ম্যাচ)।
পাশাপাশি ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি এবং ইউরোপা লিগ বিজয়ী অ্যাস্টন ভিলার মাঠে গিয়ে খেলতে হবে তাদের। ২০১৭ সালের মার্চে সেই ঐতিহাসিক ৬-১ গোলের হারের পর বার্সেলোনার মাঠে শেষ তিনটি ম্যাচেই জিতেছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা, যার মধ্যে রয়েছে গত অক্টোবরে লিগ পর্বের ২-১ গোলের জয়।
সেস ফেব্রিগাসের কোচিংয়ে খেলা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন দল কোমোর মাঠেও সফর করবে পিএসজি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের আটটি ম্যাচের এই অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। গত আসরের ফাইনালিস্ট আর্সেনালও এক কঠিন লিগ পর্বের মুখোমুখি হচ্ছে। রেকর্ড ১৫ বারের বিজয়ী রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়াও তাদের খেলতে হবে জার্মান দুই পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ এবং বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে।
মোনাকোর বৃহস্পতিবারের ড্রতে পাওয়া অন্যান্য বড় ম্যাচের মধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দুই বছর পর এই প্রতিযোগিতায় ফিরে বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে, যা ১৯৯৯ সালের তাদের সেই ঐতিহাসিক ফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।
চলতি গ্রীষ্মে রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে আসার পর, কোচ হোসে মরিনহো আরও একটি পরিচিত প্রতিপক্ষ ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হবেন, যে ক্লাবটিকে তিনি ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়নস্ল লিগ জিতিয়েছিলেন এবং তারপর বার্নাব্যুতে যোগ দিয়েছিলেন।
রিয়াল মাদ্রিদ লন্ডনে দুটি সফর করবে, আর্সেনাল এবং শাখতার দোনেৎস্কের বিপক্ষে। ইউক্রেনের চ্যাম্পিয়নরা তাদের হোম ম্যাচগুলো খেলবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে।
বার্সেলোনা দুটি ইংলিশ ক্লাবকে আতিথ্য দেবে। ম্যান সিটি এবং অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে থাকবে তাদের প্রাক্তন খেলোয়াড় ফেব্রিগাসের দল কোমো। এছাড়া বাকুতে এসে অভিষেক হওয়া দল সাবাহর মুখোমুখি হতে আজারবাইজানে এক দীর্ঘ সফর করতে হবে তাদের।
লিভারপুলের আটটি ম্যাচের সূচি তুলনামূলকভাবে কিছুটা সহজ মনে হচ্ছে। তারা ইন্টার মিলান এবং ফেনারবাচের মাঠে গিয়ে খেলবে। অন্যদিকে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ আবারও অ্যানফিল্ডে আসবে। যেখানে গত সেপ্টেম্বরে লিভারপুল ৩-২ গোলে জয় পেয়েছিল।
অ্যাতলেটিকো দুটি নরওয়েজিয়ান দলের বিপক্ষেও খেলবে এবং বোডো/গ্লিমটের কৃত্রিম ঘাসের মাঠে খেলতে আর্কটিক সার্কেলের ভেতরে সফর করা চার দলের একটি হতে যাচ্ছে তারা। ডর্টমুন্ড, লিল এবং নবাগত এলএএসকে-কেও এই দুর্গম এলাকায় সফর করতে হবে। এর মধ্যে একটি দলকে জানুয়ারির হাড়কাঁপানো শীতে খেলতে যেতে হবে।
এবারের ড্রতে চারটি নতুন দল অভিষেক করছে-ইতালির কোমো, অস্ট্রিয়ার এলএএসকে, নরওয়ের ভাইকিং এবং আজারবাইজানের চ্যাম্পিয়ন সাবাহ।
কোমোর স্পেন সফর দুটি, বার্সেলোনার পাশাপাশি রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে। আর তাদের মনোরম হ্রদের পাশের স্টেডিয়ামে তারা পিএসজি এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে স্বাগত জানাবে।
সাবাহ আতিথ্য দেবে ডর্টমুন্ড, নাপোলি এবং স্ল্যাভিয়া প্রাগকে। আজারবাইজান থেকে তাদের সমর্থকদের ইংল্যান্ডের মাটিতে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হতে দুটি দীর্ঘ যাত্রা করতে হবে।
উয়েফার ড্র সফটওয়্যার প্রতিটি দলের জন্য ৮টি প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করেছে (৪টি হোম ও ৪টি অ্যাওয়ে ম্যাচ)—যেখানে ৪টি আলাদা সিডিং পট থেকে ২টি করে প্রতিপক্ষ নির্বাচন করা হয়েছে। বিগত পাঁচ বছরের ইউরোপীয় ফলাফলের ভিত্তিতে র্যাংকিং অনুযায়ী সিডিং নির্ধারিত হয়। একই দেশের দুটি দলকে একে অপরের মুখোমুখি হওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
প্রথম পর্বের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে ৮-১০ সেপ্টেম্বর, আর ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রথম ছয়টি পর্ব। জানুয়ারিতে লিগ পর্ব পুনরায় শুরু হবে এবং ২৭ জানুয়ারি শেষ বা অষ্টম পর্বের খেলা হবে। প্রতিটি দলের ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি শনিবার প্রকাশ করা হবে।
চূড়ান্ত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ৮টি দল সরাসরি মার্চ মাসের রাউন্ড অব ১৬-এ পৌঁছে যাবে। ৯ থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলো ফেব্রুয়ারিতে প্লে-অফ নকআউটে খেলবে, যা রাউন্ড অব ১৬-এর বাকি ৮টি দল নির্ধারণ করবে। আর ২৫ থেকে ৩৬তম স্থানে থাকা দলগুলো বাদ পড়বে।
প্রতিযোগিতার ৩৬টি দল প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ইউরো (২.৯ বিলিয়ন ডলার) প্রাইজমানি ভাগ করে নেবে।
পট-১ এর দলগুলোর প্রতিপক্ষ
বায়ার্ন মিউনিখ
প্রতিপক্ষ: আর্সেনাল (হোম), অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ (অ্যাওয়ে), রিয়াল বেতিস (হোম), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (অ্যাওয়ে), বোডো/গ্লিমট (হোম), লিল (অ্যাওয়ে), স্ল্যাভিয়া প্রাহা (হোম), ভাইকিং (অ্যাওয়ে)।
আর্সেনাল
প্রতিপক্ষ: রিয়াল মাদ্রিদ (হোম), বায়ার্ন মিউনিখ (অ্যাওয়ে), বরুসিয়া ডর্টমুন্ড (হোম), রিয়াল বেতিস (অ্যাওয়ে), লিল (হোম), নাপোলি (অ্যাওয়ে), সাবাহ (হোম), স্ল্যাভিয়া প্রাহা (অ্যাওয়ে)।
লিভারপুল
প্রতিপক্ষ: অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ (হোম), ইন্টার (অ্যাওয়ে), পোর্তো (হোম), ক্লাব ব্রুগ (অ্যাওয়ে), ভিয়ারিয়াল (হোম), ফেনারবাচে (অ্যাওয়ে), লেন্স (হোম), এলএএসকে (অ্যাওয়ে)।
পিএসজি
প্রতিপক্ষ: বার্সেলোনা (হোম), ম্যানচেস্টার সিটি (অ্যাওয়ে), রোমা (হোম), অ্যাস্টন ভিলা (অ্যাওয়ে), গালতাসারাই (হোম), ভিয়ারিয়াল (অ্যাওয়ে), স্লোভান ব্রাতিস্লাভা (হোম), কোমো (অ্যাওয়ে)।
অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ
প্রতিপক্ষ: বায়ার্ন মিউনিখ (হোম), লিভারপুল (অ্যাওয়ে), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (হোম), পিএসভি (অ্যাওয়ে), ফেনারবাচে (হোম), বোডো/গ্লিমট (অ্যাওয়ে), ভাইকিং (হোম), স্টুটগার্ট (অ্যাওয়ে)।
বার্সেলোনা
প্রতিপক্ষ: ম্যানচেস্টার সিটি (হোম), পিএসজি (অ্যাওয়ে), অ্যাস্টন ভিলা (হোম), স্পোর্টিং (অ্যাওয়ে), ফিয়েনুর্ড (হোম), গালতাসারাই (অ্যাওয়ে), কোমো (হোম), সাবাহ (অ্যাওয়ে)।
ইন্টার মিলান
প্রতিপক্ষ: লিভারপুল (হোম), রিয়াল মাদ্রিদ (অ্যাওয়ে), ক্লাব ব্রুগ (হোম), বরুসিয়া ডর্টমুন্ড (অ্যাওয়ে), শাখতার (হোম), ফিয়েনুর্ড (অ্যাওয়ে), স্টুটগার্ট (হোম), স্লোভান ব্রাতিস্লাভা (অ্যাওয়ে)।
ম্যানচেস্টার সিটি
প্রতিপক্ষ: পিএসজি (হোম), বার্সেলোনা (অ্যাওয়ে), স্পোর্টিং সিপি (হোম), পোর্তো (অ্যাওয়ে), নাপোলি (হোম), আরবি লাইপজিগ (অ্যাওয়ে), এইকে এথেন্স (হোম), লেন্স (অ্যাওয়ে)।
রিয়াল মাদ্রিদ
প্রতিপক্ষ: ইন্টার (হোম), আর্সেনাল (অ্যাওয়ে), পিএসভি (হোম), রোমা (অ্যাওয়ে), লাইপজিগ (হোম), শাখতার (অ্যাওয়ে), এলএএসকে (হোম), এইকে এথেন্স (অ্যাওয়ে)।
লিগ পর্বের ম্যাচ :
ম্যাচডে ১: ৮–১০ সেপ্টেম্বর
ম্যাচডে ২: ১৩ ও ১৪ অক্টোবর
ম্যাচডে ৩: ২০ ও ২১ অক্টোবর
ম্যাচডে ৪: ৩ ও ৪ নভেম্বর
ম্যাচডে ৫: ২৪ ও ২৫ নভেম্বর
ম্যাচডে ৬: ৮ ও ৯ ডিসেম্বর
ম্যাচডে ৭: ১৯ ও ২০ জানুয়ারি
ম্যাচডে ৮: ২৭ জানুয়ারি
নকআউট পর্বের ম্যাচ :
প্লে-অফ : ১৬, ১৭ এবং ২৩, ২৪ ফেব্রুয়ারি
শেষ ১৬ : ৯, ১০ এবং ১৬, ১৭ মার্চ
কোয়ার্টার ফাইনাল : ৬, ৭ এবং ১৩, ১৪ এপ্রিল
সেমিফাইনাল : ২৭, ২৮ এপ্রিল এবং ৪, ৫ মে
ফাইনাল : ৫ জুন
এফএইচএম/বিআরইউ
