পেসার রুবেল হোসেন দেশের ক্রিকেটে পরিচিত নাম। জাতীয় দলের হয়ে উত্থানটা আশা জাগানিয়া হলেও ক্যারিয়ারটা খুব বেশি দীর্ঘ করতে পারেননি। নানা সময়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। এর মধ্যে নতুন করে আলোচনায় আরেক রুবেল। বছর খানেক আগেও দেশের ক্রিকেটে যাকে খুব বেশি কেউ চিনতো না। চট্টগ্রাম শহরে বেড়ে ওঠা এই ক্রিকেটার শৈশবে হারিয়েছেন মাকে। নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নটা একটু একটু করে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। বয়স ত্রিশের কোঠায় এসে মোহাম্মদ রুবেল যেন বললেন, আমার সবে শুরু....
চট্টগ্রামের ঘরোয়া লিগে এবং জাতীয় দলের নেটে নিয়মিতই বল করতেন রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। গেল বছর আচমকা এসসিএল টি-টোয়েন্টি লিগে সুযোগটা পেয়ে গেলেন, এরপর চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে বল হাতে নিজেকে প্রমাণ করেন। পরে সুযোগ পেলেন লাল বলের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও।
সবশেষ বিপিএলে নাম লিখিয়ে পুরোপুরি আলোচনায় আসা। রুবেল বল হাতে যেন সবসময় আলাদা, অন্যরকম তার অ্যাকশন এবং বিশেষ করে দুসরা ডেলিভারির কারণে। অবশ্য শুরুর দিকে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ থাকলেও রুবেল সেসব উৎরে গেছেন।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রুবেলকে, বিপিএলের পর ডিপিএলেও বল হাতে নিজের জাত চেনান। এমন নজর কাড়া পারফরম্যান্সের পর বিসিবির রাডারেও চলে আসতে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। ক্রিকেট বোর্ডও এই স্পিনারকে কদর করতে ভুল করেনি। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশ এইচপির হয়ে সুযোগ মেলে রুবেলের।
অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যাবেন, অথচ তার পাসপোর্টই নেই! তড়িঘড়ি করে বানানো হলো পাসপোর্ট। জীবনের প্রথম দেশের বাইরে ট্যুরে গিয়েই বল হাতে ভেলকি দেখাচ্ছেন রুবেল। স্মরণীয় করে রাখছেন অস্ট্রেলিয়া সফর। টপ এণ্ড টি-টোয়েন্টিতে রুবেলের বোলিং স্পেল দেখলেই বোঝা যাবে ঠিক কতটা ধারাবাহিক তিনি। প্রথম ম্যাচে ১৮ রান খরচায় ৪ উইকেট, দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ ওভারে ২৫ রানে ৩ উইকেট। তৃতীয় ম্যাচে ১৫ রান খরচায় ৪ উইকেট। চতুর্থ ম্যাচে ৩০ রানে ৩ উইকেট। পঞ্চম ম্যাচে ৩৯ রানে ১ উইকেট। সবশেষ আজ ষষ্ঠ ম্যাচে ২১ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট।
বাংলাদেশি একজন বোলার বিদেশের মাটিতে খেলতে গিয়ে ৬ ম্যাচে শিকার করলেন ২০ উইকেট। যা এখন পর্যন্ত তালিকার সেরাতে রুবেল। এটা নেহায়েত ছোট অর্জন না। রুবেল ম্যাচের পর ম্যাচ প্রমাণ করলেন ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে সবকিছুই সম্ভব।

রুবেলের এমন উত্থানের কিছুটা কৃতিত্ব পেতে পারেন আরেক ক্রিকেটার ইরফান শুক্কুর। চট্টগ্রামের ক্রিকেটার হওয়ায় রুবেলকে ছোট বেলা থেকেই চেনা তার। যখন কেউ তাকে চিনত না তখন এই শুক্কুরই আগলে রেখেছেন রুবেলকে। যে টুর্নামেন্টে রুবেল নিজেকে নতুন করে চেনাচ্ছেন, সেই অস্ট্রেলিয়াতে শুক্কুর আবার তার অধিনায়ক। ভাগ্য বুঝি এমনই।
এসএইচ/এফআই
