বিজ্ঞাপন

ম্যানেজার নিয়ে ফেডারেশনেই প্রশ্ন ও চাপ

ম্যানেজার নিয়ে ফেডারেশনেই প্রশ্ন ও চাপ

আসন্ন আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে গতকাল থেকেই ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। আজ সকালে ঘণ্টা দুই অনুশীলনও হয়েছে। সকালে জামালরা যখন অনুশীলনে, তখন বাফুফের জাতীয় দল কমিটি অনলাইন সভায় ব্যস্ত। কোচিং স্টাফে দুই জন বিদেশি, খরচের অনুমোদনের সভা হলেও ম্যানেজার ইস্যুতেই আলোচনা হয়েছে বেশি।

গত দেড় বছর জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার হিসেবে আছেন আমের খান। তিনি নির্বাহী কমিটিতে নেই। এরপরও ম্যানেজার হিসেবে থাকায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল তখন নির্বাহী কমিটির বাইরে থেকেই ম্যানেজারের পক্ষে ছিলেন। আজকের সভায় নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্য ম্যানেজার হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। বিগত সময় তাবিথ এই আবেদন খারিজ করলেও এবার খানিকটা চিন্তা করছেন।

অনেক দিন পর বড় বাজেটের দল গড়েছে মোহামেডান। বিগত সময়ে কিংসের মতো এবার মোহামেডান জাতীয় দলে খেলোয়াড় ছাড়া নিয়ে গড়িমসি করেছিল। মোহামেডানের প্রভাব থাকায় এখন বাফুফে সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু আজ সরাসরি ম্যানেজার হওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন। বাবুর সঙ্গে ফুটবলারদের সখ্যতা থাকলেও শৃঙ্খলার ব্যাপারে তেমন কঠোর নন তিনি। জাতীয় দল কমিটির সদস্য ফর্টিজ ক্লাবের স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন অবশ্য বর্তমান ম্যানেজার আমের খানকে পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করছেন না।

ম্যানেজারের বিষয়টি বর্তমানে খুব আলোচনায় এসেছে মূলত অ-২০ দলে সামিদ কাশেমের কর্মকাণ্ড নিয়ে। ডেভলপমেন্ট কমিটিতে ছাইদ হাসান কানন ও শফিকুল ইসলাম মানিকের মতো সাবেক তারকা ফুটবলার ও কোচ রয়েছেন, যারা চার দশকের বেশি সময় বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এদের চেয়েও বেশি প্রাধান্য এখন সামিদ কাশেমের বিশেষ করে কোচ নিয়োগ ও দল পরিচালনায়। বিশেষ করে অ-২০ দলে দুই কোচের দূরত্বের বিষয় ও সামগ্রিক ঘটনায় ম্যানেজার হিসেবে তার দুর্বলতা দেখছেন অনেকে।

জাতীয় নারী দলে ম্যানেজার হিসেবে আছেন ফেডারেশনের স্টাফ খালিদ মাহমুদ নওমি। তার বিরুদ্ধে সাফ থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এজন্য তদন্ত কমিটিও হয়েছে। সেই কমিটি কোনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি। বরং তদন্তাধীন অবস্থায় তাকে ম্যানেজার করে এশিয়ান গেমসে পাঠানো হচ্ছে।

একজন স্টাফ ও আরেকজন ফুটবলে নতুন যুক্ত হওয়া ব্যক্তির ম্যানেজারের কর্মকাণ্ড নিয়ে ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির অনেকে সোচ্চার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘ম্যানেজার সম্মানের পদ। নির্বাহী কমিটির সবাই ভোটে নির্বাচিত এবং ফুটবলে দীর্ঘদিন অবদান রাখছে। ফলে কমিটির মধ্যে থেকেই বাই রোটেশন ম্যানেজার হওয়া উচিত।’

বিশ্ব ফুটবলে কোচকেই ম্যানেজার বলা হয়। এশিয়ান অঞ্চলে ম্যানেজার বলতে ব্যবস্থাপক বোঝায়, যিনি মূলত খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ফেডারেশনের মধ্যে সকল কিছু সমন্বয় ও সেতুবন্ধন করেন। এশিয়ার উন্নত ফুটবল বিশ্বে পেশাদার ও অনেক বড় মাপের সাবেক খেলোয়াড়েরা ম্যানেজার হন। বাংলাদেশে ম্যানেজার নিয়োগে নেই সুনির্দিষ্ট কোনো পলিসি।

এজেড/এমএমএম