তরুণ খেলোয়াড়দের ফুটবল, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে এবং ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে রাখতে ভিন্নধর্মী এক উদ্যোগ নিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই, যে কর্মসূচির নাম ‘ডিজিটাল ডিটক্স’। অ্যাকাডেমি খেলোয়াড়রা ক্যাম্পাসে ঢোকার পর তাদের সঙ্গে থাকা ফোন আবাসিক বা শিক্ষা দলের সদস্যদের কাছে জমা দেবেন। দৈনিক এক ঘণ্টার বেশি ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না তারা।
প্রযুক্তির দাস হওয়ার করুণ পরিণতি থেকে খেলোয়াড়দের বাঁচাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। অ্যাকাডেমির ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় দেড়শ ছেলে-মেয়ে এই কর্মসূচির আওতায় অংশ নেবেন। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ফোন ব্যবহার করতে পারবেন তারা। ফোন ফিরে পাওয়ার জন্য নিজের রুমও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও গুছিয়ে রাখতে হবে।
তবে শুক্রবার তারা বেলা ২টা থেকে ফোন ব্যবহার করতে পারবেন, অবশ্য ব্যতিক্রম কোনো কারণেই সেই স্বাধীনতা দেওয়া হবে খেলোয়াড়দের। রাত সাড়ে আটটার পর ফুটবলাররা বিকল্প বিনোদন হিসেবে পিয়ানো বাজাবেন।
মূলত মোবাইল ফোন যেন খেলোয়াড়দের ওপর নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে, সেই দর্শন থেকে এমন কর্মসূচি সোমবার থেকে শুরু হবে। ফুটবল অ্যাকাডেমির ভেতরে খেলোয়াড়দের জন্য ফোন বিনোদন, যোগাযোগ এবং সামাজিকতার উৎস হলেও তাদের মনোযোগে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায় বলে আশঙ্কা ক্লাবের।
ইতোমধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। এবার পিএসজির অনুশীলনের অংশ হিসেবে যুক্ত হলো ডিজিটাল ডিটক্স। কারণ ক্লাবের বিশ্বাস, বল নিয়ে কী করতে হবে সেটা শিখলেই একজন তরুণ ফুটবলারের উন্নতি হয় না, বল আশেপাশে না থাকলেও কী করতে হয় সেটাও শেখা প্রয়োজন।
এফএইচএম
