বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ জেতার পর দলে নাম না দেখে হেসেছিলেন সূর্যকুমার

বিশ্বকাপ জেতার পর দলে নাম না দেখে হেসেছিলেন সূর্যকুমার

ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে জয়ের হার ৮০.৭৬ শতাংশ! সূর্যকুমার যাদবের অধীনে ভারত দারুণ সময় পার করছিল। তার নেতৃত্বে একটিও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারেনি মেন ইন ব্লুরা। জিতেছে এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অসাধারণ নেতৃত্ব দেওয়ার পরও অধিনায়কত্বের সঙ্গে দল থেকে বাদ পড়ার মতো ধাক্কা তাকে খেতে হয়েছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার কয়েক মাস পর অধিনায়কত্ব ও দলে জায়গা হারানো—আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ধাক্কা খাওয়ার ব্যাপারে মুখ খুললেন সূর্যকুমার। ৫২ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৪২ ম্যাচ জয়। অসাধারণ রেকর্ডের পরও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ও জাতীয় নির্বাচকরা তাকে ছাড়া এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অধিনায়কত্ব দেওয়া হয় শ্রেয়াস আইয়ারকে। 

অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ার ব্যাপারটা আচমকা ছিল না সূর্যকুমারের জন্য। দল ঘোষণার আগেই তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও এমন সিদ্ধান্তে হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাকে বিস্মিত করেছে সময়টা। বিশ্বকাপ জেতার পর এই ব্যাটারের বিশ্বাস ছিল, আরও অন্তত দুই বছরের জন্য ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। ২০২৮ অলিম্পিক ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারতের অধিনায়ক থাকার আশা করেছিলেন সূর্যকুমার।

দল থেকে বাদ পড়া ও অধিনায়কত্ব হারানোর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আকাশ চোপড়ার ইউটিউব চ্যানেলকে সূর্যকুমার বললেন, ‘দলে আমার নাম নেই দেখে আমি হেসেছিলাম। যখন আমি চাপের মধ্যে থাকি কিংবা কোনো কিছু আমার প্রতিকূলে থাকে, আমি সবসময় হাসি এবং নির্ভার থাকি। আমি সেই মুহূর্তগুলোর দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞ থাকতে চেয়েছিলাম। ২০২৬ সালে এমন কিছুর কথা আমি ভাবিনি। আরও দুই বছর এই দলকে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, অলিম্পিক ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।’

এমন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, প্রায় দেড় মাস নিজেকে প্রশ্ন করেছেন সূর্যকুমার। তবে অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়াসকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই তার। টানা জয়ের মধ্যে থেকেও অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ার কারণ বোধগম্য ছিল না তার কাছে। 

সূর্যকুমার আরও বললেন, ‘দেড় মাস ধরে আমি ভেবেই গেছি, কীভাবে এটা ঘটতে পারে? কীভাবে এটা সম্ভব? আমরা তো কেবলই বিশ্বকাপ জিতলাম। হ্যাঁ, আইপিএল ভালো যায়নি, যেভাবে আমি চেয়েছিলাম। বন্ধুরা ও পরিবার আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছিল এটা জীবনের অংশ। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পর যখন পরিবারের সঙ্গে একা থাকতাম, তখন আমরা ভাবতাম কীভাবে এটা সম্ভব?’

তিনি যোগ করলেন, ‘যাকে তারা বেছে নিয়েছিল, আমি তার সঙ্গে অনেক খেলেছি। আমি জানি সে ভালো খেলোয়াড়, ভালো মানুষ এবং ভালো অধিনায়কও। তাই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। কিন্তু হতাশা ছিল, কারণ দুই বছর ধরে আমরা কোনো সিরিজ হারিনি এবং এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। যখন সবকিছু ভালো যাচ্ছিল, তখন কেন পরিবর্তন?’

এফএইচএম