বিজ্ঞাপন

খেলা ও পড়াশোনার গুরুত্ব নিয়ে নাফীসের বই ‘প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস্ট’

খেলা ও পড়াশোনার গুরুত্ব নিয়ে নাফীসের বই ‘প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস্ট’

শাহরিয়ার নাফীস বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক। এখন যারা দেশের মধ্য বয়স্ক ক্রিকেট ভক্ত রয়েছেন তাদের অধিকাংশের পছন্দের সেরা ওপেনার তিনি। ঝাকড়া চুলে ব্যাট করতে নেমে শেন ওয়ার্ন-মুরালিদের সামনে নিজেকে করেছেন প্রমাণ। তবে অনেক দিন হয়েছে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন বিসিবির অপারেশন্স বিভাগে, যুক্ত রয়েছেন কোচিংয়েও।

এবার নাফীস ভিন্ন এক কাজ করলেন। খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রকাশ করলেন ‘প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস্ট’ বই। বইটি লিখেছেন নাফিস ও তার বন্ধু শিক্ষক আতিফ আকিফ। মূলত খেলার পাশাপাশি পড়ালেখার গুরুত্ব বোঝাতেই বইটি লেখা হয়েছে।

আজ শনিবার মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্স রুমে বইটি উন্মোচন করা হয়। দুই লেখক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নাফীসের শৈশবের কোচ ওয়াহিদুল গনি। বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে নাফিস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে ৩৫ থেকে ৩৭ জন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড় ও অ্যাথলেটের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তারা। এরপর বিভিন্ন ধাপে সেই তথ্য সাজিয়ে বইটি প্রকাশের পর্যায়ে নিয়ে আসেন।

নাফীস বলেন, ‘মূল উদ্দেশ্য ছিল একটাই—ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে আসছি, “পড়াশোনা করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে।” কিন্তু সেই ধারণাটাকে একটু ভিন্নভাবে তুলে ধরা। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে। সেখান থেকেই একাডেমি ও অ্যাথলেট—এই দুই ক্ষেত্রকে কীভাবে এক জায়গায় আনা যায়, সেই ভাবনা থেকেই মূলত বইটি তৈরি করা। বইয়ের নামও রাখা হয়েছে ‘প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস্ট’। এটিও ওই ধারণা থেকেই এসেছে—প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস্ট।’

শুধু খেলাধুলার দিকে ঝুঁকে পড়াশোনায় পিছিয়ে না যাওয়ার বিষয়টিও বইটির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান আরেক লেখক আতিফ, ‘আমরা চাই, অন্তত এই প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তুলে ধরতে। আমাদের প্রজন্মের যারা খেলাধুলার সঙ্গে আসছে, তারা যেন পড়াশোনায় পিছিয়ে না যায়। সবকিছু মিলিয়ে গত চার বছর ধরে এটা আমাদের ছোট্ট একটা চেষ্টা।’

বইটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে। পরে আতিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নাফীস বলেন, ‘প্রথমত আমি আতিফকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ সে আমাকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আমরা এই বইয়ের কাজ শুরু করেছিলাম ২০২২ সালে। ওই বছরই আমরা বইটি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা ও পরিকল্পনা শুরু করি। এরপর বইটি মূলত একটি গবেষণাভিত্তিক বই।’

বইটিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটার, ফুটবলার, কোচসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের গল্প রয়েছে। পাশাপাশি এমন কিছু মানুষের গল্পও রাখা হয়েছে, যারা একসময় সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার বা ক্রীড়াবিদ ছিলেন, ‘আমরা যে কাজটা করার চেষ্টা করেছি সেটা হচ্ছে গিয়ে আমরা বিভিন্ন ক্রীড়াবিদদের সাথে কথা বলেছি। তাদেরকে জিজ্ঞেস করছি এই বইটা আপনারা যখন পড়বেন ইনশাল্লাহ তখন দেখবেন যে এই বইয়ের মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল প্লেয়ারও আছে, ফুটবলার আছে, ক্রিকেটার আছে, কোচ আছে।’

নাফীস আরও বলেন, ‘ঠিক তেমনি এমন কিছু মানুষের গল্পও আছে, যারা অনেক সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার বা ক্রীড়াবিদ ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলাধুলায় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারেননি। তবে তাদের জীবনে পড়াশোনা কতটা কাজে এসেছে, সেই বিষয়টি তারা সুন্দরভাবে আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন।’

‘আমরা গত তিন থেকে সাড়ে তিন বছর ধরে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি। এটা এমন নয় যে যাকে পেলাম, তার তথ্য নিয়ে নিলাম। আমরা জানি, সবাই বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। যাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩৫ জন অ্যাথলেটের তথ্য এখানে রয়েছে। তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যগুলোই গল্পের আকারে বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে।’ 

বইটির জন্য যাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ অ্যালান ডোনাল্ড, স্টুয়ার্ট ল এবং ২০০৪ সালের অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪০০ মিটারে সোনাজয়ী ক্যাথি ফ্রিম্যানের অলিম্পিক কোচও, ‘আমি জাতীয় দলের বিভিন্ন খেলোয়াড়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলেছি। যেমন অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, এ নিয়ে স্টুয়ার্ট লর সঙ্গেও কথা বলেছি। ২০০৪ সালের অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪০০ মিটারে সোনার পদকজয়ী ক্যাথি ফ্রিম্যানের অলিম্পিক কোচের সঙ্গেও কথা বলেছি।’

এসএইচ/এইচজেএস