এই গ্রীষ্মের আকাশছোঁয়া ট্রান্সফার ফি নিয়ে অনেক ফুটবল ভক্ত আক্ষেপ করেছেন। তা যেন আরও বাড়িয়ে দিলো টটেনহ্যাম হটস্পার। চলতি দলবদলের বাজারে চেলসির পর সর্বোচ্চ ৩৮০ মিলিয়ন পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬৩৬৬ কোটি টাকার বেশি, খরচ করেও তারা ঘরের মাঠে জয়ের দেখা পেল না।
টটেনহ্যামের দীর্ঘদিনের স্টেডিয়াম ঘোষক পল কোয়টে কিক অফের আগে হয়তো বলতে চেয়েছিলেন, যথেষ্ট হয়েছে। ‘আমরা খরচের পর খরচ করেছি। আমরা পথে ফিরছি, আমরা বিশাল।’ কিন্তু ম্যাচ শেষ হতেই নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কাছে ২-০ গোলের হারের বেদনা মনে করিয়ে দিলো, শীর্ষে ওঠার পথ আরও অনেক বেশি জটিল।
টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামের সবদিকে তাদের হাত খুলে খরচ করার ব্যাপারটি স্পষ্ট ছিল। স্পারদের আট চুক্তির মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন শুরুর একাদশে, ম্যানসিটি থেকে ৬ কোটি পাউন্ডে আসা ওমর মারমুশের অভিষেক হয়েছিল।
৬৩৬৬ কোটি টাকা খরচ করেও ফের সংকট দিয়েই শুরু হলো টটেনহ্যামের। গত মৌসুমের শেষ দিনে এভারটনকে হারিয়ে টটেনহ্যাম নিশ্চিত করেছিল, এই বছরও তারা শীর্ষ লিগে খেলছে। গত দুই মৌসুমে ১৭ নম্বরে থেকে লিগ শেষ করা দলটি এবার ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কোমর বেঁধে নেমেছিল। ওয়েস্ট হ্যাম থেকে মিডফিল্ডার মাতেউস ফার্নান্দেস ও নিউক্যাসল থেকে সান্দ্রো টোনালিকে যথাক্রমে ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড ও ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে চুক্তি করেছে। ডিফেন্ডার জ্যান পল ফন হেককে ব্রাইটন থেকে আনা হয়েছে ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডে এবং ম্যানসিটি উইঙ্গার সাভিও চুক্তি করেছেন ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডে।

ডিফেন্ডার মার্কো সেনসেই ও অ্যান্ডি রবার্টসন, সঙ্গে গোলকিপার মার্টিন দুব্রাভকাকে ফ্রি ট্রান্সফারে দলে টেনেছে টটেনহ্যাম। মারমুশকে নিউক্যাসল থেকে আনা হয়েছিল পরবর্তী মৌসুমে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে তাকে স্থায়ী করার শর্তে।
গত সপ্তাহে ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে ৩-০ গোলে হার, তারপর ঘরের মাঠেও পরাজয়। এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা। তাও আবার দুই ম্যাচে কোনো গোলও পায়নি। ততে করে টেবিলের একেবারে তলানিতে তারা। অপ্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমের পর থেকে প্রথমবার কোনো গোল না করে শুরুর দুটি লিগ ম্যাচে হার দেখল স্পাররা।
টটেনহ্যাম দুই গোল খাওয়ার পরপর স্টেডিয়াম ছাড়ছিলেন ক্ষুব্ধ দর্শক-সমর্থকরা। নিজেদের মাঠে গত ২৩ ম্যাচে তারা কেবল তিনটি লিগ ম্যাচ জিতেছে। স্বাভাবিকভাবে তাদের মনে ক্ষোভ জন্ম নেওয়ারই কথা। কিন্তু শান্ত আছেন কোচ রবার্তো ডি জার্বি। টানা দুটি ম্যাচে হারের পরও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু দেখছেন না তিনি।
ডি জার্বি বললেন, ‘রক্ষণে আমরা আরও উন্নতি করতে পারি। কিন্তু আজ ফলাফলটা ছিল অন্যায্য। ফলাফলের জন্য হতাশ কারণ প্রথম গোল খাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা নিউক্যাসলের চেয়ে ভালো খেলেছিলাম। আমাদের ভক্তদের জন্য খারাপ লাগছে। আমরা সেরা দল হওয়ার জন্য কাজ করছি। যখন আমরা একটি দল হয়ে উঠব, তখন আমরা টটেনহ্যামের গত দুই মৌসুমের গল্প বদলে দিতে পারব।’
আতঙ্কিত হওয়ার কিছু দেখছেন না কোচ, ‘কোনো আতঙ্ক নেই। আমি জানি কোথায় যাচ্ছি আমরা এবং পরিকল্পনা কী। ফলাফলের জন্য আমি ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের উন্নতি করতে হবে। মাঠে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং খেলোয়াড়দের মাঝে সংযোগ খুঁজে পেতে হবে।’
আগামী মঙ্গলবার দলবদলের বর্তমান বাজার বন্ধ হতে চলেছে। শুক্রবার ডি জার্বি বলেছিলেন, এখনও একটি নির্দিষ্ট পজিশনে আরেকজন খেলোয়াড় খুঁজছেন তিনি। এখন দেখার অপেক্ষা, তাকে পাওয়ার পর দল হয়ে উঠতে কতটা সময় অপেক্ষা করতে হবে টটেনহ্যামকে!
এফএইচএম
