পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠ ভাগ করে নেওয়া ক্রিকেটারদের একজন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক সভাপতি রমিজ রাজা। সম্প্রতি কারাবন্দী এই কিংবদন্তি ‘ভালো আছেন’ মন্তব্য করে রমিজ তোপের মুখে পড়েছিলেন। তাকে কাপুরুষ ও মেরুদণ্ডহীন আখ্যা দিয়েছিল ভক্তদের কেউ কেউ। তবে ইমরানকে নিয়ে তার সর্বশেষ স্মৃতিচারণ শুনলে সেই সুর কিছুটা নরম হতে পারে!
বিবিসির ‘টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল’-এ কথা বলার সময় রমিজ ইমরানকে ‘বাস্তববাদী (নো-ননসেন্স) ও অস্থির’ একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। ক্রিকেটের প্রতি তার আসক্তি ছিল অতুলনীয়। কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের ব্যাপক প্রস্তুতি এবং কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার বিরল স্মৃতিও তুলে ধরেন রমিজ।
পাকিস্তানি এই ধারাভাষ্যকার জানান, ইমরানের ব্যক্তিত্ব এতটাই প্রভাবশালী এবং ক্রিকেটের প্রতি তার আবেগ এতটাই শিশুসুলভ ছিল যে পুরো ড্রেসিংরুমই তার কারণে সবসময় সতর্ক থাকত। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার হিসেবে অধিনায়কত্বের পুরো সময়জুড়েই ইমরানের উদ্যম ও কৌশলগত চিন্তা ছিল অন্যদের চেয়ে আলাদা। রমিজ বলেন, ‘আমরা তার ব্যক্তিত্বকে ভয় পেতাম, কারণ তিনি ছিলেন একেবারে নো-ননসেন্স ধরনের মানুষ।’
ইমরানের অধীনে খেলা ছিল একইসঙ্গে ভয়ংকর ও পুরস্কারপ্রাপ্তির মতো অভিজ্ঞতা। এর আগেও অবশ্য এমন মন্তব্য করা সতীর্থদের তালিকায় আছেন ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস ও ইনজামাম-উল-হকরা। বয়স ও অভিজ্ঞতায় অনেক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ক্রিকেট নিয়ে ইমরানের আগ্রহে কোনো কমতি ছিল না বলে দাবি রমিজের, ‘সে অস্থির ছিল, যেন ১০ বছরের একটি শিশু, যে সারাক্ষণ খেলা নিয়ে কথা বলছে। আমরা যখন ওপেনার হিসেবে ব্যাট করতে নামতাম, তখনই সে সাত নম্বরে ব্যাট করার জন্য প্যাড পরে প্রস্তুত থাকত। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করতাম, “তোমার কী হয়েছে? তুমি কি আমাদের দক্ষতায় বিশ্বাস করো না, নাকি তুমি নার্ভাস?”’
— Test Match Special (@bbctms) August 29, 2026
ইমরান বসে থাকতেন না, ওই সময়েও টেনিস বল দিয়ে নিজের পুল শট অনুশীলন করতেন। স্মৃতি হাতড়ে রমিজ জানান, তিনি নিয়মিত দলের খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষ বোলারদের কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে সে বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ ও কৌশলগত ধারণা দিতেন। নিউজিল্যান্ড সফরের একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে কিংবদন্তি পেসার স্যার রিচার্ড হ্যাডলির বিপক্ষে ইমরানের তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার একটি উদাহরণও তুলে ধরেন রমিজ।
তিনি বলেন, ‘রিচার্ড হ্যাডলি তখনও বেশ জোরে বোলিং করছিলেন। ইমরান আমাকে একপাশে নিয়ে বললেন, “তুমি জানো, সে মার খেতে পছন্দ করে না এবং বেশি বাউন্সারও করে না। তাই সে যদি তোমাকে বাউন্সার দেয়, তাকে পুল করো। এরপর সে তোমাকে আর শর্ট বল করবে না।”’ ইমরানের সেই পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবেই কাজে লাগে। রমিজ এরপর দুর্দান্ত সত্তরের মতো রান করেন। হ্যাডলির একমাত্র বাউন্সারটি তিনি হুক করে সীমানাছাড়া করেন এবং পুরো ইনিংসে আর কোনো শর্ট-পিচড বল মোকাবিলা করতে হয়নি।

ইমরানের অধিনায়কত্বের সময়ের এসব স্মৃতি এমন এক সময়ে রমিজ বললেন, যখন পাকিস্তান চলমান লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ধুঁকছে। প্রথম ইনিংসে তারা মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ইংলিশরা সাড়ে তিনশ পেরোনো লিড নিয়েছে ইতোমধ্যে। এদিকে, ইমরানের মুক্তির দাবিতে সরব ক্রিকেটবিশ্ব। বিদেশি সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা কথা বলছিলেন আগে থেকেই, নতুন করে জাভেদ মিয়াঁদাদ ও মইন খানরাও আওয়াজ তুলেছেন।
এএইচএস
