বাংলাদেশে ক্রীড়া প্রশাসনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরাতন ভবন। ২০০৬ সালে নতুন ভবন হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো পরিষদই ছিল এই ভবনে। নতুন অট্টালিকা হলেও দাবা, তায়কোয়ান্দো, ভারত্তোলন ফেডারেশনের কার্যালয় রয়েছে পুরাতন ভবনেই। জিমন্যাস্টিক্স ও তায়কোয়ান্দো খেলা পরিচালিত হয় পুরাতন ভবনের জিমনিসিয়ামে। ক্রীড়াঙ্গনের একমাত্র আর্কাইভ হিসেবে খ্যাত ক্রীড়াজগতও এই ভবনে অবস্থিত।
ক্রীড়া পরিষদের পাঁচ দশক আগের পুরনো ভবন ভাঙার আলোচনা অনেক দিন থেকেই। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আজ তায়কোয়ান্দোর এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে পুরাতন ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেন। ক্রীড়াবিদদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর ও আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বেশ কয়েকজন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীও এখানে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনেসিয়ামে বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশন আয়োজিত ‘৫ম ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা’র সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান পুরাতন ভবনটি ভেঙে আন্তর্জাতিক মানের সকল ফ্যাসিলিটিজে একটি বড় বিল্ডিং করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।’ তায়কোয়ান্দো-জিমন্যাস্টিক্স প্রতিযোগিতার সময় অ্যাথলেটরা তীব্র গরমে ও আলো স্বল্পতায় ভোগেন। সেই সমস্যারও সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ২৮টি দল ও সংস্থার ৪৫০ জন খেলোয়াড় মোট ৩৪টি ওজন ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করেন। টুর্নামেন্টের সিনিয়র পুরুষ বিভাগে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং সিনিয়র নারী বিভাগে এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
অন্যদিকে জুনিয়র পুরুষ বিভাগে গাজীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং জুনিয়র নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন মিরপুর ডিওএইচএস তায়কোয়ানডো ক্লাব। তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সভাপতি ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা এবং টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান শায়রুল কবির খানসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এজেড/এইচজেএস
