জাপানের এশিয়ান গেমসের প্রস্ততির জন্য চীনের গুয়াংজুতে কয়েকটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এজন্য আজ (সোমবার) রাত নয়টায় দেশ ছাড়ছেন ঋতুপর্ণারা। কিন্তু দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমিকে বিকেল পাঁচটায় ডেকেছে তদন্ত কমিটি, তার বিরুদ্ধে ভারতের গোয়ায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ম্যানেজার নওমির শৃঙ্খলা ইস্যুতে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন চিঠি দেয়। এর প্রেক্ষিতে বাফুফে একটি তদন্ত কমিটি করে। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও সেই কমিটি কোনো রিপোর্ট দিতে পারেনি। দীর্ঘদিন পর এনিয়ে আজ দ্বিতীয় সভা বসছে এবং অভিযুক্ত ম্যানেজার পুনরায় যখন দল নিয়ে দেশের বাইরে যাচ্ছেন, তখন তার ডাক পড়েছে।
তবে তিনি সশরীরে থাকতেও পারছেন না। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন বলেছেন, ‘রাতে দলের ফ্লাইট থাকায় সে (নওমি) ও দলের সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন সশরীরে থাকতে পারছে না। চিঠি দেবে এবং আমরা জুমে সংযুক্ত হব। সাফে মিডিয়া ম্যানেজার থাকা সাঈদ কমিটির সামনে আসবে সশরীরে।’
নারী দলের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গঠিত তদন্ত কমিটিতে বাফুফের সদস্য একজন, আরেকজন ফেডারেশনের স্টাফ। ফেডারেশনের বাইরে নিরপেক্ষ লোক ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। তিনি কমিটির নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য মন্ত্রণালয়, নারী প্রতিনিধি ও আরও কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পিটার বাটলার ও সাবিনাদের দ্বন্দ্বের কারণে গঠিত বিশেষ কমিটিতে আতিকুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। অথচ এই তদন্তে তাকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করে সম্প্রতি তার পরিবর্তে পুলিশের কর্মকর্তা নুসরাত লুনাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন চেয়ারম্যান হিলটন।
বাফুফে ম্যানেজার ইস্যুতে এখন বেশ চাপে। অ-২০ দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেমের কর্মকাণ্ড ও দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। নারী সাফের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে ম্যানেজার হয়ে যাচ্ছেন। এদের ব্যাপারে ফেডারেশনের নীতি নির্ধারকদের চোখে টিনের চশমা। অথচ জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলে পরীক্ষিত ও দক্ষ ম্যানেজার আমের খানকে ক্যাম্প শুরুর পর তড়িঘড়ি করে সরানো হয়েছে।
মে মাসের শেষের দিকে ঘটনা। জুনের মাঝামাঝি তদন্ত কমিটি গঠন। আগামীকাল সেপ্টেম্বর শুরু ও তদন্ত কমিটিতে রদবদল সব মিলিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্য বড় প্রশ্নের মুখে। এ নিয়ে কমিটি চেয়ারম্যানের উত্তর, ‘মাঝে বিশ্বকাপ ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় আসলে সেভাবে এটা নিয়ে কাজ করা হয়নি। হোটেল ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ও অভিযুক্তের বক্তব্য নিয়ে আমরা নিরপেক্ষ প্রতিবেদনই দেবো, এরপর ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার সভাপতির।’
জাতীয় দলে স্টাফ ম্যানেজার কেন এবং ম্যানেজার নিয়ে সাফের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই সহ-সভাপতি ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে বেশ জেরা করেছিলেন। এরপরও সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ম্যানেজার হিসেবে যাচ্ছেন, যা সভাপতির অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। তাই তদন্ত কমিটির কর্মকাণ্ড এখন শুধুই নিছকতা ও কমিটির রদবদলের উদ্দেশ্যও অনেকটা স্পষ্ট ফুটবলসংশ্লিষ্টদের কাছে।
এজেড/এফএইচএম
