বিজ্ঞাপন

শরীর ধোঁকা দেওয়ার পর জোকোভিচ বললেন, ‘ভীষণ বাজে অনুভূতি’

শরীর ধোঁকা দেওয়ার পর জোকোভিচ বললেন, ‘ভীষণ বাজে অনুভূতি’

প্রথম রাউন্ডেই নোভাক জোকোভিচের বিদায়, দুই দশক ধরে গ্র্যান্ড স্লামে এমন কিছু দেখা যায়নি। সার্ব তারকা অপ্রত্যাশিতভাবে ইউএস ওপেনে নিজের প্রথম ম্যাচেই হেরে গেলেন। অপ্রতিরোধ্য মারিয়ানো নাভোনের কাছে পাত্তাই পাননি, এমন বিপর্যয়ের জন্য শারীরিক সমস্যাকেও দায়ী করা যেতে পারে।

৩৯ বছর বয়সী জোকোভিচ রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জেতার লক্ষ্যে নেমেছিলেন। কিন্তু আর্থার অ্যাশে স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই তার শারীরিক সমস্যা স্পষ্ট ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ছাদ বন্ধ করে দেওয়ার আগেই ৩৯ বছর বয়সী তারকা বারবার তার মাথায় আইসব্যাগ ধরছিলেন। নিউইয়র্কের আর্দ্র কন্ডিশনে অস্বস্তিবোধ হচ্ছিল তার। এমনকি ছাদ বন্ধ হওয়ার পর এসি চালাতে সুপারভাইজারকে অনুরোধ করেন। ‘আমার মনে হয় এটা একেবারেই স্পষ্ট ছিল যে কোর্টে আমার ভীষণ বাজে অনুভূতি হচ্ছিল,’ ম্যাচের পর বলেন জোকোভিচ।

তার সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে তৃতীয় সেটে। ষষ্ঠ গেমে কয়েকবার বমি করেন জোকোভিচ। টুর্নামেন্টের এক ফিজিও তাকে ট্যাবলেট খাওয়ান এবং তার দল কোর্টসাইডে তরল খেতে দেন। লড়াই পা রাখে চতুর্থ ঘণ্টায়। তিনি বলে গেলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, এই বছরের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই আমাকে এই সমস্যা নিয়ে খেলতে হচ্ছে। বমি হওয়া বা গা গোলানো একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপর আমার পুরো শরীর কার্যত ভেঙে পড়তে শুরু করে, মূলত ক্র্যাম্পিং আর তীব্র ব্যথা হতে থাকে।’

এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জোকোভিচ ঘুরে দাঁড়ান। প্রথম সেটে টাইব্রেকে হারার পর তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ান। জয় থেকে মাত্র এক সেট দূরে ছিলেন তিনি। অবস্থা শেষ দিকে আরও খারাপ হতে থাকে বললেন সার্ব তারকা, ‘হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত পিঠ আর কাঁধ একবারে সায় দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি ম্যাচটি শেষ করে আসতে পারিনি। চতুর্থ সেটে আমি এক ব্রেক এগিয়ে ছিলাম, কিন্তু ম্যাচের চতুর্থ গেমের পর থেকেই আমাকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে।’

হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি জোকোভিচ, ‘আমি চতুর্থ বা পঞ্চম সেটে হাল ছেড়ে দিতে চাইনি। আমি ম্যাচটি শেষ করতে চেয়েছিলাম।’ কিন্তু নাভোনি প্রত্যাবর্তন করতে দেননি। চতুর্থ সেটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। তারপর ম্যাচ নির্ধারণী সেটে অনায়াসে জেতেন আর্জেন্টাইন। শেষ সেটে যেন অসহায় আত্মসমর্পণ করেন জোকোভিচ। ৪-১ এ পিছিয়ে পড়ার পর যেন নিয়তি বুঝে গিয়েছিলেন। ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। তারপর রাতের সবচেয়ে আবেগময় মুহূর্ত দেখা যায়। জয় নির্ধারণী সেটে কোর্টেই কাঁদতে শুরু করেন জোকোভিচ। 

অসুস্থতার কারণেই হয়তো এমন অঘটন দেখতে হলো জোকোভিচকে। কিন্তু প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের কৃতিত্বকে ছোট করতে চান না তিনি, ‘তবে আবারও বলছি, আমি তার জয় থেকে কোনো কৃতিত্ব কেড়ে নিতে চাই না। তাকে অভিনন্দন। সে একজন ভালো মানুষ এবং লড়াই করার মানসিকতা রাখে। কিন্তু আমি নিজে খেলাটা উপভোগ করতে পারিনি।’ 

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে তীব্র গরম, পানিশূন্যতা, অসুস্থতা ও অপ্রতিরোধ্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ের পর জোকোভিচের কান্না এসে যায়। দর্শক সারিতে বসে থাকা তার স্ত্রী জেলেনাকেও বিচলিত দেখা গেছে। 

শেষ পর্যন্ত জোকোভিচের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনকে ছাইচাপা দিয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জয় পান নাভোনে। মেজরে টানা ৭৮টি প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ জেতা সার্ব তারকাকে থামালেন তিনি। শেষবার জোকোভিচ প্রথম রাউন্ডে হেরেছিলেন ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পল গোল্ডস্টেইনের বিপক্ষে।

নাভোনে এখন যেন সপ্তম স্বর্গে। তিনি বললেন, ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইমের (গোট) বিপক্ষে পাঁচ সেট, এটা এমন কিছু না যে প্রতিদিন ঘটে। আমি খুব খুশি। এটা আমার কাছে অনেক কিছু। যেন স্বপ্ন সত্যি হলো।’

এফএইচএম