বয়স মাত্র ১৯। উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। এখনো সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আলোয় দাঁড়ানোর সময় আসেনি। কিন্তু তার মধ্যে ভবিষ্যতের তারকা দেখছে রিয়াল মাদ্রিদ। মাত্র ৩৫ লাখ ডলারের একটু বেশি দামে রেসিং সান্তান্দারের তরুণ মিডফিল্ডার সার্জিও মার্তিনেজকে দলে ভিড়িয়ে ভবিষ্যতের ওপর বড় এক বাজি ধরেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার পরপরই অবশ্য মূল দলের দরজা খুলছে না মার্তিনেজের জন্য। পরিকল্পনাটা বেশ পরিষ্কার—প্রথমে রিয়ালের যুবদল কাস্তিয়ায় খেলবেন তিনি। ধাপে ধাপে নিজেকে তৈরি করবেন, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সুযোগ তৈরি করবেন মূল দলে। চলতি মৌসুমে প্রিমেরা ফেদারেসিওন (তৃতীয় বিভাগ) ও মূল দলের হয়ে সময় ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
রিয়ালের এই বাজিটা যে হঠাৎ করে নেওয়া নয়, সেটি বোঝা যায় তাকে ঘিরে আগ্রহের তালিকা দেখলে। বার্সেলোনা, আতলেতিকো মাদ্রিদ, ভিয়ারিয়াল, প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি ক্লাব—এমনকি সৌদি আরবের ক্লাবগুলোও মার্তিনেজকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় জিতেছে রিয়ালই।
মার্তিনেজের সঙ্গে রিয়ালের চুক্তি হয়েছে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। অর্থাৎ, ক্লাবটি তাকে শুধু বর্তমানের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখছে।
রেসিং সান্তান্দারও বিদায়ের মুহূর্তে নিজেদের গর্বের কথা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে স্প্যানিশ ক্লাবটি জানিয়েছে, মার্তিনেজের চুক্তিতে থাকা রিলিজ ক্লজের পুরো অর্থ এক কিস্তিতে পরিশোধ করতে রাজি হয়েছে রিয়াল। এর ফলে ক্লাবটির যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা এই খেলোয়াড়ের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে।
মার্তিনেজের সঙ্গে রেসিংয়ের সম্পর্কটাও ছিল দীর্ঘ। মাত্র ১০ বছর বয়সে ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। অনূর্ধ্ব-১১ বি দল থেকে শুরু করে একে একে সব ধাপ পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন মূল দলে। সিনিয়র দলের হয়ে খেলেছেন ১৫টি ম্যাচ।
রেসিংয়ের বিদায়ী বার্তায় তাই আবেগও ছিল, গর্বও ছিল। ক্লাবটি লিখেছে, বছরের পর বছর মার্তিনেজ যেভাবে তাদের প্রতীককে গর্বিত করেছেন, তাতে তারা অত্যন্ত গর্বিত। এল সার্দিনো স্টেডিয়ামও তার জন্য সব সময় ঘর হয়ে থাকবে।
এইচজেএস
