বিশ্ব ফুটবলে একটি যুগের অবসান হলো। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লিওনেল মেসি। ২১ বছর ধরে গড়ে তোলা অবিস্মরণীয় ও জমকালো অধ্যায়ের ইতি টানলেন তিনি এক আবেগী বার্তায়, ‘ফাইনালে খেলার পর এতগুলো দিন কেটে যাওয়ার পর এবং দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর, আমি সবাইকে জানাতে চাই যে আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মেসির এই সিদ্ধান্ত হতবাক করে দিয়েছে ভক্তদের এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পরিকল্পনাও বদলে দিয়েছে, যারা আসন্ন ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতি নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করছিল।
আর্জেন্টিনার খেলা শেষ ম্যাচ ছিল বেদনাদায়ক, স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১-০ গোলে হার। অবসরের ঘোষণায় সেটাই হয়ে গেল রোজারিও তারকার শেষ আনুষ্ঠানিক ম্যাচ। অথচ তাকে মাঠ থেকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা ছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের।
পরবর্তী আন্তর্জাতিক উইন্ডো ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। জাতীয় দলের সামনে চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ। আর্জেন্টিনা চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু মেসির অবসরে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল।
ধারণা করা হচ্ছিল, লিওনেল স্কালোনির দল অন্তত একটি ম্যাচ দেশে খেলবে। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের নানা ঘটনার পর তাদের ওপর আরোপিত ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, আর্জেন্টিনাকে পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচ খেলতে হবে সীমিত দর্শক নিয়ে। প্রথমটি স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচের শাস্তি স্থগিত রাখা হয়েছে।
আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, তবুও লিজেন্ডারি অধিনায়ককে আর্জেন্টিনায় দর্শকদের সামনে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সবকিছু নির্ভর করছে মেসির ইচ্ছার ওপরে। এখনও এএফএ কোনো সিদ্ধান্ত নে য়নি। তবে এটুকু নিশ্চিত, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আর্জেন্টিনার তাদের মেসি পরবর্তী যুগ শুরু করতে যাচ্ছে।
এফএইচএম
