ভয়াবহ সংকটের মধ্যে আছে পাকিস্তান ক্রিকেট, যার নজির হয়তো তাদের ক্রিকেট ইতিহাসেও নেই। ইংল্যান্ডে টানা দুটি টেস্ট হারের পর পিসিবি এই স্কোয়াডের সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। প্রধান কোচ ও বোলিং কোচকেও পাল্টে ফেলেছে তারা। এই ঘটনা বেশ শোরগোল তুলেছে ক্রিকেট মহলে।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ভেতরের সূত্র থেকে তথ্য বের করেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ। তাদের দাবি, এই ঘটনায় খেলোয়াড়রা ‘হতবাক’ হয়েছে বললেও কম হবে। সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে পাকিস্তান দলের সদস্যরা বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছ থেকে বার্তা পেতে শুরু করেন। টিম ম্যানেজমেন্ট, কোচ বা অধিনায়কদের পক্ষ থেকে তাদের কেউ কিছু বলেননি। কোনো যোগাযোগ না করেই বহিষ্কারের খবরে পরিবার ও বন্ধুদের কাছে ফোন করে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। ওই দিন সবার ছুটি ছিল, কেউ বাইরে ঘুরতে বের হয়েছিলেন, কেউ বা হোটেলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
চলতি সিরিজে খেলা এক খেলোয়াড় তার প্রতিক্রিয়া জানান। পারফরম্যান্স ভালো করেছেন দাবি করে তার মনে হচ্ছে, তাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তিনি তখন টিম হোটেলে নিজের রুমে ছিলেন। এমন সময়ে মেসেজ পেতে থাকেন। এক বন্ধু তার কাছে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ফরোয়ার্ড করেছিলেন। দুইবার সেটি পড়েও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। শুরুতে এটিকে ভুয়া খবর মনে করেছিলেন।
ক্রিকইনফো-র তথ্য অনুযায়ী, সোমবার নির্বাচকদের কাছ থেকে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম উল হকের অন্তর্ভুক্তির ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিল বোর্ড। এজন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল তারা। আর একই দিনে তারা এই দুজনসহ তাদের সাত খেলোয়াড় ও দুই কোচকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সালমান আগা, আলী উসমান, আমের জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররাম শাহজাদকেও দেশে ফেরার বিমানের টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পাঁচ আনক্যাপড খেলোয়াড় আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া ও রাজাউল্লাহ। অন্য দুজন সাইম আইয়ুব ও আব্দুল্লাহ ফজল, যারা দুজন মিলে কেবল ১০ টেস্ট খেলেছেন। কোচিং দল থেকে সরফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকে সরিয়ে যুক্ত করা হয়েছে মাইক হেসন ও অ্যাশলে নোফকেকে।
খেলোয়াড়দের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, এই কথাটাও না বলাকে অপমানজনক মনে করছেন সংশ্লিষ্টজনেরা।পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কোনো আলোচনা না করেই সাত খেলোয়াড়কে ডাকার কারণে সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ উল হক জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগের প্রস্তাব দেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি বোর্ড। এছাড়া লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ব্যাটিং কনসালট্যান্টের ভূমিকা থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিসবাহ।
এফএইচএম
