বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষের এক অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতির ঘটনায় ফিফা কর্তৃক ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছেন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। শাস্তির পাশাপাশি লিওনেল মেসির অবসরের কারণে জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্পেনের বদলি খেলোয়াড়রা উদযাপনের জন্য মাঠে ছুটে এলে পারেদেস স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন, যার ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় ফিফা আগস্ট মাসে পারেদেসকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে।
নিষেধাজ্ঞার বাইরেও পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি শারীরিক আক্রমণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া সতীর্থ নাহুয়েল মলিনা দুটি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। ফিফার পক্ষ থেকে এই দুই খেলোয়াড়কেই ৯০,০০০ ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পারেদেস তার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা জানিয়ে বলেন, ‘জাতীয় দলে আমার পক্ষে থাকাটা এখন বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা এবং লিও’র সিদ্ধান্তের কারণে সবকিছু আগের মতো রাখা বা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে এখনও আলোচনা করিনি। তবে আমরা শিগগিরই কথা বলব এবং সব দেখে শুনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
‘লিও যা অর্জন করেছে, তার জন্য তার রেখে যাওয়া ইতিহাস ও অবদান চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি কখনও হার না মেনে দেখিয়ে গেছেন যে স্বপ্ন কত কষ্টের মাধ্যমে জয় করতে হয়, অনুসরণ করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা পূরণ করতে হয়।’
ফাইনালে মেসির শেষ ম্যাচ নিয়ে ড্রেসিংরুমের আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের শেষ দিনগুলোতে নিজেদের মধ্যে কথা বলেছিলাম যে ফাইনালটিই সম্ভবত তার শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও, আমাদের জীবনে ও দলে তার যে অর্থ ও অবস্থান ছিল, সেই কারণে আমরা কেউই মানসিকভাবে এই বিদায়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।’
এমএমএম/
