বিজ্ঞাপন

দলবদলে ফের রেকর্ড, ৫ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা খরচ করেছে প্রিমিয়ার লিগ

দলবদলে ফের রেকর্ড, ৫ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা খরচ করেছে প্রিমিয়ার লিগ

প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলো তাদের সর্বকালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এবারের উইন্ডোতে তারা খরচ করেছে ৩৪৬ কোটি পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ হাজার ৭৩৫ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এনিয়ে টানা দ্বিতীয় মৌসুমে দলবদলের বাজারে রেকর্ড গড়ল তারা।

আজ (২ সেপ্টেম্বর) ছিল দলবদলের বাজারে বেচাকেনার শেষ দিন। এই দিনে এভারটন থেকে ম্যানচেস্টার সিটি ৬ কোটি পাউন্ডে ইলিমান এন্দিয়ায়েকে কিনে ৩০০ কোটি পাউন্ডের ঘর অতিক্রম করে। শেষ পর্যন্ত ১২ মাস আগের ট্রান্সফার উইন্ডোতে ৩১৪ কোটি পাউন্ড খরচের রেকর্ড ভেঙে ফেলে ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতার ক্লাবগুলো।

দলবদলের বাজার বন্ধ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে চেলসি থেকে এনজো ফার্নান্দেজকে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের যৌথ ব্রিটিশ রেকর্ড ফিতে কেনার খবর নিশ্চিত করে ম্যানসিটি। শেষ দিনে সর্বমোট খরচ হয়েছে ৪৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড, যা গত বছরের ৩৯১ মিলিয়ন পাউন্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

ফুটবল ইতিহাসের ১০টি ব্যয়বহুল চুক্তির তিনটিই হয়েছে এই গ্রীষ্মে, সবগুলো চুক্তিই প্রিমিয়ার লিগে। দলবদলের বাজারে শিরোনাম কেড়েছেন ফার্নান্দেজ। এই উইন্ডোর শুরুতে নটিংহ্যাম ফরেস্ট মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনের জন্য ম্যানসিটি খরচ করেছিল ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ড এবং অ্যাস্টন ভিলা থেকে মর্গান রজার্সকে চেলসি এনেছে ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে। এই দুজনকে পেছনে ফেলেছেন এনজো। এদিকে পিএসজি ও ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড ব্রাডলি বারকোলাকে কেনার জন্য শুরুতে ১০৬ মিলিয়ন পাউন্ড ফি দিয়েছিল লিভারপুল, সেটা বেড়ে ১২৩ মিলিয়ন পাউন্ড হতে পারে।

প্রিমিয়ার লিগের বাইরে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ফিতে দলবদল হয়েছে কেবল দুটি। আরবি লাইপজিগ থেকে ইয়ান দিওমান্দে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদে, আর নিউক্যাসল থেকে বার্সেলোনায় গেছেন অ্যান্থনি গর্ডন।

টটেনহাম হটস্পার তাদের ক্লাব রেকর্ড ফিতে সান্দ্রো টোনালিকে দলে টেনেছে, যা পৌঁছাতে পারে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে। উত্তর লন্ডনের এই ক্লাব বেশ বড় অঙ্কের অর্থ ঢেলেছে আরও দুজনের ওপর, ওয়েস্ট হ্যাম থেকে মাতেউস ফার্নান্দেস (৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড) ও ম্যানসিটি থেকে সাভিও (৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড, বেড়ে হতে পারে ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড)।

সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে ম্যানসিটি। ফার্নান্দেজকে কেনার পর তাদের ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ মিলিয়ন পাউন্ড। একক ট্রান্সফার উইন্ডোতে তারা নতুন লিগ রেকর্ড গড়েছে। লিভারপুলের গত মৌসুমে ৪১৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ পেছনে পড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি খরচ করলেও তারা খেলোয়াড় বিক্রি করে ৩০৪ মিলিয়ন পকেটে ঢুকিয়েছে।

৩৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে চেলসি। এর চেয়ে বেশি দামে তারা খেলোয়াড় বিক্রি করেছে—মোট ৩৮২ মিলিয়ন পাউন্ড, মানে লাভ ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড।

টটেনহাম তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩০২ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে। কিন্তু এত খরচ করেও সুবিধা করতে পারছে না তারা, হেরে গেছে লিগের প্রথম দুটি ম্যাচেই।

নতুন করে উন্নীত ইপসউইচ আরেকবার চ্যাম্পিয়নশিপে পতন এড়াতে ১৭১ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে। ম্যানইউর খরচ ১৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড। প্রিমিয়ার লিগে ফেরা হাল সিটিও ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে, তাদের নতুন চুক্তি ১৮ খেলোয়াড়ের মধ্যে ছয়জন এসেছেন ডেডলাইনে।

এফএইচএম