বিজ্ঞাপন

আলভারেজকে ধরে রেখেও বিপদে আতলেতিকো!

আলভারেজকে ধরে রেখেও বিপদে আতলেতিকো!

ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিনটা আতলেতিকো মাদ্রিদের জন্য যে এমন দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠবে, তা হয়তো খুব কম মানুষই ভেবেছিলেন। সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হওয়ার কথা ছিল হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে। অথচ আর্জেন্টাইন তারকাকে ধরে রাখতে শেষ পর্যন্ত সফলই হয়েছে ক্লাবটি। সমস্যা তৈরি হয়েছে অন্য জায়গায়—শেষ মুহূর্তে যেসব হিসাব মেলানোর কথা ছিল, সেগুলোই আর মেলেনি।

আলভারেজকে নিয়ে আতলেতিকোর দুশ্চিন্তার অবসান অবশ্য আগেই হয়েছিল। আর্সেনালের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে এই ক্লাবেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তাকে বার্সেলোনার কাছেও বিক্রি করেনি আতলেতিকো। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই এখন ক্লাবের জন্য আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম।

কারণ, আলভারেজকে বিক্রি করতে পারলে বড় অঙ্কের অর্থের পাশাপাশি বেতন কাঠামোয়ও জায়গা তৈরি হতো। সেই জায়গা কাজে লাগিয়ে শেষ দিনে নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন ও আরও কিছু ট্রান্সফার সম্পন্ন করা সহজ হতো। কিন্তু আলভারেজ থেকে যাওয়ায় সেই হিসাব আর মেলেনি।

এখানেই সামনে এসেছে বেতন সীমার (স্যালারি ক্যাপ) বিষয়টি। লিগ কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত এই সীমার মধ্যে থেকেই ক্লাবগুলোকে খেলোয়াড়দের বেতন ও অন্যান্য আর্থিক দায় সামলাতে হয়। নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় নতুন খেলোয়াড় কিনে ফেললেও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে তাকে নিবন্ধন করানো যায় না।

শেষ দিনে আতলেতিকোর পরিকল্পনাটা ছিল বেশ বড়। খিমেনেস, লেমার, কার্লোস মার্টিন ও ওবেদ ভার্গাস—চারজনকে ছেড়ে দিয়ে বেতন কাঠামোয় জায়গা তৈরি করার পাশাপাশি আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোর বিকল্প হিসেবে একজন লেফট-ব্যাকও দলে আনার পরিকল্পনা ছিল। কাগজে-কলমে কিছু কাজ এগোলেও সবকিছু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

লেমার চলে গেছেন এলচেতে, খিমেনেস যোগ দিয়েছেন দেপোর্তিভোতে। তবে তাদের বিদায়েও আতলেতিকোর আর্থিক দায় পুরোপুরি শেষ হয়নি; দুজনের বেতনের বড় অংশ এখনও ক্লাবকেই বহন করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে ওবেদ ভার্গাসকে ধারে ছাড়ার প্রস্তাব নাকচ করে তাকে দলে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় আতলেতিকো। আর কার্লোস মার্টিনের বিদায় তো একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে আটকে যায়। আলমেরিয়ার সঙ্গে তার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছায়নি। ফলে ট্রান্সফার উইন্ডোর দরজা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভেস্তে যায় সেই সম্ভাবনাও।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা অবশ্য আসে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে ঘিরে। রক্ষণে বাঁ দিকটা শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন ধরেই একজন লেফট-ব্যাক খুঁজছিল আতলেতিকো। অলিম্পিক লিওঁর সঙ্গে তাগলিয়াফিকোকে ধারে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতাও প্রায় হয়ে গিয়েছিল। খেলোয়াড় নিজেও ‘রোজিব্লাঙ্কোস’দের হয়ে খেলতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্থের হিসাবই হয়ে দাঁড়াল সবচেয়ে বড় বাধা।

খিমেনেস ও লেমারকে ছেড়ে দেওয়ার পরও আতলেতিকোর স্যালারি ক্যাপে প্রয়োজনীয় জায়গা তৈরি হয়নি। ফলে তাগলিয়াফিকোর চুক্তির শেষ ধাপ আর পার হওয়া সম্ভব হয়নি।

এইচজেএস