বিজ্ঞাপন

ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ধবলধোলাই, ভারতের কোচ-নির্বাচককে তলব

ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ধবলধোলাই, ভারতের কোচ-নির্বাচককে তলব

ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গত জুন-জুলাইয়ে সিরিজ খেলতে গিয়ে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল ভারত। আইরিশদের কাছে ২-০ ব্যবধানে হারের পর তারা ইংলিশদের কাছে ৪-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হয়। যা নিয়ে পর্যালোচনার জন্য ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর, প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্সের (সিইও) প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণকে তলব করল বিসিসিআই।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের ভবিষ্যত রোডম্যাপ নিয়েও কথা বলার সম্ভাবনা আছে ক্রিকেট বোর্ডের ওই সভায়। তবে দেরিতে হলেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে সভাটি শুরু হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। যদিও এর নেপথ্য কারণ এখনও ধোঁয়াশায় রয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যালোচনায় প্রাপ্ত ফলাফলগুলো বেশ হতাশাজনক। গত জুনে আয়ারল্যান্ড সফরে ভারত দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে হেরে যায়। এর মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টানা ১৬টি সিরিজ অপরাজিত থাকার প্রায় তিন বছরের রেকর্ড ভেঙে যায়। এরপর ইংল্যান্ড সফরটি ছিল আরও খারাপ, ভারত পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ৪-০ ব্যবধানে হারে, যার মধ্যে নটিংহ্যামে ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়টি ছিল অন্যতম হতাশাজনক মুহূর্ত।

পরে অবশ্যই ইংলিশদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তারা কিছুটা সম্মান পুনরুদ্ধার করে; বার্মিংহামে প্রথম ম্যাচটি জিতলেও শেষ পর্যন্ত সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে হেরে যায়। চলতি বছরের শেষদিকে ভারতের নিউজিল্যান্ড সফরের কথা রয়েছে এবং ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে বোর্ড চায় সব পক্ষ যেন একই লক্ষ্যের দিকে কাজ করে। খেলোয়াড়দের চোট বা ইনজুরি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগে একের পর এক খেলোয়াড় চোটের কারণে ছিটকে পড়ায় বোর্ড ও ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ (সিওই)-কে সম্প্রতি সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, অনেক খেলোয়াড়েরই সিওই–এর ওপর আস্থা নেই এবং ক্রিকেটার, সিওই এবং নির্বাচক কমিটির মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতিও স্পষ্ট। এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে নির্বাচক কমিটিকে জানানোই হয়নি যে দলের প্রধান পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ কোনো সফরের জন্য ফিট বা সুস্থ নন। 

চোটের কারণে ওয়াশিংটন সুন্দরও ছিটকে পড়েছিলেন, আর সাই সুদর্শন সুস্থ হতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নিয়েছেন। বৈঠকে আইপিএলের কাজের চাপ (ওয়ার্কলোড) কীভাবে খেলোয়াড়দের ফিটনেসকে প্রভাবিত করে, তা নিয়েও আলোচনা হবে। পূর্ণ শক্তির দল না পাওয়ার বিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট এর আগেও বিসিসিআইয়ের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

এমনকি আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দল ঘোষণার ক্ষেত্রেও চারজন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ ফিটনেসের ওপর নির্ভর করায় তা নিশ্চিত করা যায়নি। বুমরাহ, ওয়াশিংটন, নীতিশ রেড্ডি এবং হারশিত রানার ৯ সেপ্টেম্বর ফিটনেস পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। নিউজিল্যান্ড সফরের কথা মাথায় রেখে বোর্ড আলোচনা করবে কীভাবে দ্রুতগতির বোলারদের ফিট রাখা যায় এবং ভবিষ্যতে চোটের হার কমানোর জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

বিসিসিআই এবং টিম ম্যানেজমেন্ট হার্দিক পান্ডিয়ার ফিটনেস ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা করবে। নির্বাচক কমিটি চায় তিনি যেন ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য খেলার জন্য ফিট থাকেন, কিন্তু বর্তমানে তিনি ওয়ানডে ম্যাচে ৫-৬ ওভারের বেশি বল করতে পারছেন না।

এএইচএস