ক্রিকেটের জন্মলগ্ন থেকেই আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে ব্যাটারের মাঠ ছাড়ার নজির ছিল। যার বিপরীতে কেউবা নীরবে; আবার কেউ হতাশা, রাগ কিংবা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। তবে সবার ক্ষেত্রে একটি দৃশ্যের বেশ মিল– আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রিজ ছাড়তে হয়। তবে ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ঘটেছে অদ্ভুত কাণ্ড, আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার পর ফের ক্রিজে নেমে দলকে জিতিয়েছেন স্বাগতিক ব্যাটার।
সিপিএলে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস ও বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসের মধ্যকার ম্যাচে ক্রিকেটের বিরল এই ঘটনা ঘটেছে। যেখানে আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার পরও পুনরায় ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন সেন্ট কিটসের জনসন চার্লস। মূলত তিনি বার্বাডোসের বাঁ-হাতি পেসার র্যামন সিমন্ডসের বেশ উঁচু ফুলটস বলে ক্যাচ আউট হওয়ার পর আম্পায়ার প্রথমে সেটিতে ‘নো বল’ ডাকেননি। ফলে মাঠ ছাড়তে বাধ্য ছিলেন চার্লস।
এরপরই চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে, যখন সেন্ট কিটসের টিম ম্যানেজমেন্ট ও স্বাগতিক দর্শকরা তাদের হতাশা ও ক্ষোভ জানায়। তখন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ভার যায় টিভি আম্পায়ারের হাতে। এরপর কার্ল টাকেট অন-ফিল্ড আম্পায়ার ক্রিস রাইট ও জাহিদ বাসারাথের দেওয়া সিদ্ধান্ত বদলে ‘নো বল’ এবং চার্লসকে নটআউট দেন। কিন্তু ততক্ষণে উইন্ডিজ এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার মাঠ ছেড়ে উঠে গিয়েছিলেন। ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী– কোনো ব্যাটার একবার মাঠ ছাড়ার পর পুনরায় ব্যাটিংয়ে ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই।
আবার ব্যাটারকে পুনরায় খেলায় ফেরানোর বিষয়ে নিয়মে উল্লেখ রয়েছে, আম্পায়ার যদি মনে করেন তিনি কোনো ব্যাটসম্যানকে ভুলবশত আউট দিয়েছেন, তবে সেই ব্যাটসম্যান মাঠের সীমানা অতিক্রম করার আগেই তাকে ক্রিজে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু চার্লস মাঠ ছেড়ে দিলেও সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান। ওই সিদ্ধান্তে ট্রাইডেন্টস অধিনায়ক ক্রিস গ্রিন এবং ক্যাচটি তালুবন্দী করা শেরফেন রাদারফোর্ড নাখোশ ছিলেন এবং আম্পায়ারদের কাছে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত আর দ্বিতীয়বার পরিবর্তন করা হয়নি।
ট্রাইডেন্টসের ক্ষতে যেন আরও লবণ ছিটিয়ে দেওয়া হলো যখন সেই ‘নো-বল’-এ পাওয়া ফ্রি-হিটে ছক্কা হাঁকানো হলো। চতুর্থ ওভারে যখন চার্লসকে আউট দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি ১৫ বলে ২৬ রানে ব্যাট করছিলেন, সেখান থেকে ফিরে তিনি ৪৫ বলে ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। প্যাট্রিয়টসকে ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেটের পেতে তার ভূমিকা ছিল বেশ কার্যকরী।
এই ঘটনায় প্যাট্রিয়টসের অধিনায়ক জেসন হোল্ডারও প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আম্পায়ারদের জন্য এটি সম্ভবত আরও কঠোর ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ় হওয়ার একটি সতর্কবার্তা। পুরো বিষয়টি বেশ বিশৃঙ্খল। একজন খেলোয়াড় মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাকে আবার ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে, বিষয়টি দেখতে মোটেও ভালো লাগে না।’ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিপক্ষ অধিনায়ক গ্রিন বলছেন, ‘আজকের ম্যাচে আম্পায়াররা পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলাতে পারেননি। একজন খেলোয়াড় মাঠ থেকে বেরিয়ে আবার ফিরে আসার ঘটনাটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, কারণ টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তির জন্য এটি মোটেও ভালো নয়।’
আবার আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সুবিধা পাওয়া চার্লস তাদের ওপরই দায়টা ছেড়েছেন, ‘কিছু বিতর্ক খেলার আমেজ বাড়িয়ে দেয়, আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি আম্পায়ারদের হাতেই থাকে।’
এএইচএস
