ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ১০টি দলবদলের মধ্যে তিনটিই হয়েছে এবার। গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে প্রিমিয়ার লিগের তিন ক্লাবই গড়েছে এসব রেকর্ড। আর তিন ফুটবলারই আগে থেকে ইংলিশ লিগটিতে খেলছেন। এর আগে বিদেশি কোনো লিগে খেলা ফুটবলারের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগেও সাফল্য মেলেনি।
প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি পাঁচটি চুক্তির চারটিই হয়েছে এবারের উইন্ডোতে। সবচেয়ে বড় চুক্তি এনজো ফার্নান্দেজের। তাকে চেলসি থেকে ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এর আগে তারা নটিংহ্যাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে নিয়েছিল। এরপর অ্যাস্টন ভিলা থেকে মরগান রজার্সকে ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে কিনেছে চেলসি।
অন্যদিকে, লিভারপুল পিএসজির ফরাসি ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলাকে প্রাথমিকভাবে ১০৬ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে নিয়েছে। পারফরম্যান্সভিত্তিক শর্ত পূরণ হলে এই চুক্তির মূল্য ১২৩ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে। প্রিমিয়ার লিগের বাইরের ক্লাবগুলোর মধ্যে এবারের গ্রীষ্মে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ফিতে কেবল ইয়ান দিয়োমান্দেকে রিয়াল মাদ্রিদ এবং অ্যান্থনি গর্ডনকে নিউক্যাসল থেকে বার্সেলোনায় নেওয়ার চুক্তিই হয়েছে।
কিন্তু বিদেশের বদলে নিজেদের খেলোয়াড়দেরই কেন কিনছে ইংলিশ ক্লাবগুলো? এর একটি কারণ হতে পারে– প্রিমিয়ার লিগে ইতিমধ্যে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া খেলোয়াড়দের প্রতি ক্লাবগুলোর বেশি আস্থা। গত মৌসুমে বড় অঙ্কের অর্থে কেনা অনেক খেলোয়াড়ই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাদের বড় একটি অংশ এসেছিল জার্মানির বুন্দেসলিগা থেকে।
এবার একই ক্লাবগুলোর মধ্যে একাধিক দলবদল হওয়ার বিষয়টিও হিসাব-নিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। যেমন চেলসি ও অ্যাস্টন ভিলা একে অপরের কাছে খেলোয়াড় বিক্রি করেছে। আরেকটি কারণ হলো– বিদেশি ক্লাবগুলো জানে যে প্রিমিয়ার লিগের দল বিপুল টেলিভিশন সম্প্রচার-রাজস্ব পায়। ফলে ইংলিশ কোনো ক্লাব তাদের খেলোয়াড়ের প্রতি আগ্রহ দেখালেই তারা অনেক সময় বেশি ট্রান্সফার ফি দাবি করে।
আর্জেন্টাইন তারকা এনজো ফার্নান্দেজের দলবদল নিশ্চিত হওয়ার পর ম্যানসিটির এবারের গ্রীষ্মকালীন খরচ দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ মিলিয়ন পাউন্ডে। পেপ গার্দিওলার স্থলাভিষিক্ত হয়ে নতুন কোচ এনজো মারেস্কা দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের পছন্দমতো দল গড়তে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে ব্যাপক অর্থ সহায়তা দিয়েছে। যা নির্দিষ্ট দলবদল উইন্ডোতে প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাবের নতুন রেকর্ড। গত গ্রীষ্মে লিভারপুল সর্বোচ্চ ৪১৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছিল। এবার সিটি খেলোয়াড় বিক্রি করেও আয় করেছে ৩০৪ মিলিয়ন পাউন্ড।
সবচেয়ে বেশি খরচের তালিকায় দ্বিতীয় চেলসি। তারা নতুন খেলোয়াড় কিনতে মোট ৩৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে। আর খেলোয়াড় বিক্রি করে পেয়েছে ৩৮২ মিলিয়ন পাউন্ড। ফলে তাদের নিট লাভ হয়েছে ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড। তৃতীয় সর্বোচ্চ খরুচে দল টটেনহ্যাম। মৌসুমে শীর্ষসারির লড়াইয়ে ফেরার পাশাপাশি আরেকটি কঠিন মৌসুম এড়ানোর লক্ষ্যে তারা খরচ করেছে ৩০২ মিলিয়ন পাউন্ড।
এএইচএস
