বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানে হচ্ছেটা কী, ব্যাটারদের বাজে ফর্মের দায়ও কি বোলিং কোচের?

পাকিস্তানে হচ্ছেটা কী, ব্যাটারদের বাজে ফর্মের দায়ও কি বোলিং কোচের?

বোলাররা ভালো করলেও বাদ বোলিং কোচ, হারের পর খেলার সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটারদের ছাটাই! এমন দৃশ্য দেখে একটি প্রশ্নই বারবার সামনে আসছে, আর তা হচ্ছে– কোন বিবেচনায় পাকিস্তানের দল নির্বাচন বা পিসিবির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে! একসঙ্গে দুই কোচকে অব্যাহতি এবং স্কোয়াডে থাকা সাত ক্রিকেটারকে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে টালমাটাল পাকিস্তান ক্রিকেট।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রথম দুটিতেই হেরেছে পাকিস্তান। ব্যাটাররা অধারাবাহিক হলেও, দুই ম্যাচে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকই করেছেন পেসাররা। সর্বশেষ লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিন পেসার মিলে নেন ৮ উইকেট, ইংল্যান্ড গুটিয়ে যায় ২৯০ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকদের ২০৮ রানে অলআউটের পথে তারা ৯ উইকেট শিকার করেন। অথচ ওই ম্যাচের পর প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদের সঙ্গে পেস বোলিং কোচ উমর ‍গুলকেও ছাটাই করে পিসিবি।

এমন সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে পাকিস্তানের সাবেক প্রধান কোচ মুদাসসের নজর বলছেন, ‘যদিও বোলাররা ভালো করে থাকে, তাহলে কেন উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়া হলো? পাকিস্তানের ম্যাচ হারলে মানুষ হাসে, কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি সব ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। মাঝারি মানের দলের (ইংল্যান্ড) বিপক্ষে নিষ্প্রভ পারফর্ম করেছে তারা। সেখানে তো বব উইলিস, ফ্রেড ট্রুম্যান, ইয়ান বোথাম কিংবা জেমস অ্যান্ডারসনের মতো বোলার নেই। এই পিচে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান বোলাররা থাকলেও দারুণভাবে কাজে লাগাতে পারত।’

‘মিডল অর্ডারে আমাদের ব্যর্থতা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। আর দলের ৬ ব্যাটার আউট মানেই আমরা অলআউট। সিনিয়র ব্যাটাররাও দায়িত্ব নিতে পারছেন না। আমি জানি না পাকিস্তান কোন পথে যাচ্ছে’, আরও যোগ করেন সাবেক এই অলরাউন্ডার।

Mohammad Abbas is pumped after bagging a five-for, England vs Pakistan, 2nd Test, Lord's, 4th day, August 30, 2026

এদিকে, সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তানের স্কোয়াডে এত রদবদল দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বদেশি কিংবদন্তি মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘সফরের মাঝপথে খেলোয়াড় আর কোচদের এভাবে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত কেবল পারফরম্যান্সের কারণে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। আমরা তো আর জহির আব্বাস, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ইনজামাম-উল-হক কিংবা সাঈদ আনোয়ারদের বদলি হিসেবে পাঠাচ্ছি না! বরং এই সিদ্ধান্ত সেই চেনা বিশৃঙ্খলা, অন্তর্দলীয় কোন্দল আর বিতর্কের বৃত্তকেই আবার তুলে ধরছে, যা বহু বছর ধরে পাকিস্তান ক্রিকেটকে তাড়া করে ফিরছে।’

এমন বিশৃঙ্খলা ও মাঠের বাইরের ঘটনার চেয়ে ক্রিকেট খেলায় সাফল্য ও পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিতে বললেন ইউসুফ, ‘১৯৯২ বিশ্বকাপের গৌরবের পর থেকেই এই অস্থিরতা বারবার ফিরে এসেছে। এতে স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে, খেলায় মনোযোগ কমেছে। এই সব ঝড় দলকে এগিয়ে নেয় না; বরং ক্ষত রেখে যায়। সমর্থকদের বিশ্বাসেও চিড় ধরে। শুধু ভালো পারফরম্যান্স আর ধারাবাহিক ভালো ফলই এটা থামাতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেটকে বোর্ডরুম নয়, মাঠে মন দিতে হবে। সাফল্যই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিষেধক।’

এএইচএস