বিজ্ঞাপন

এশিয়াডে ২২ ডিসিপ্লিনে প্রশিক্ষণে ব্যয় মাত্র দেড় কোটি

এশিয়াডে ২২ ডিসিপ্লিনে প্রশিক্ষণে ব্যয় মাত্র দেড় কোটি

‘খেলাধূলায় প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই’ সারা বিশ্ব জুড়ে এই বাক্য সত্যি হলেও বাংলাদেশে যেন ভিন্ন। ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়া প্রায় সকল ফেডারেশনের খেলা আয়োজন ও ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণের সামর্থ্য নেই। তাই বড় গেমস বা টুর্নামেন্ট আসলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কিংবা মন্ত্রণালয়ের কাছে অর্থ সাহায্যের অপেক্ষায় থাকতে হয়। 

অলিম্পিকের পরই দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ মাল্টি স্পোর্টস প্রতিযোগিতা এশিয়ান গেমস। সেই গেমসের জন্য সাত মাস আগেই বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন ৩৯ কোটি টাকার বাজেট ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দিয়েছিল। সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সেই বাজেট কমিয়ে জুলাই মাসে ২৩ কোটি টাকা দিয়েছিল, সেটাও পায়নি। সর্বশেষ গত পরশু দিন সাড়ে চার কোটি টাকা প্রশিক্ষণ আর ১৪ কোটি টাকা যাতায়াত ও আবাসন-অংশগ্রহণ ব্যয় ধরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ফের বাজেট পাঠিয়েছে। 

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, ‘আমরা এখন মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অর্থ পাইনি। অলিম্পিক থেকেই এই পর্যন্ত হওয়া সকল গেমসের ব্যয় নির্বাহ হচ্ছে। ২০ আগস্ট থেকে অনেক ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। প্রশিক্ষণ বাবদ ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আমরা ফেডারেশনগুলোকে দিয়েছি।’

এশিয়ান গেমসে ফুটবল, ক্রিকেটও অংশগ্রহণ করছে। ক্রিকেট বোর্ড সাবলম্বী তারা অলিম্পিকের অর্থ গ্রহণ ছাড়াই চলতে পারবে। ফুটবল বড় ফেডারেশন হলেও তারা কিছু সহায়তার অপেক্ষায় থাকে। আরচ্যারি ফেডারেশনের পৃষ্ঠপোষক থাকায় তারাও প্রশিক্ষণের আওতায় রাখেন খেলোয়াড়দের। এ ছাড়া বাকি ফেডারেশনগুলো অলিম্পিকের দিকেই তাকিয়ে থাকে। ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে কাবাডি ফেডারেশনকে সর্বোচ্চ ৪২ লাখ টাকা দিয়েছে অলিম্পিক এসোসিয়েশন। কাবাডি বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই অনুশীলন চলমান রেখেছে।

এশিয়ান গেমসের মতো আসরের জন্য মাত্র দেড় কোটি টাকা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয় যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। প্রশিক্ষণ ছাড়া ভালো ফলাফল কিংবা পদক অর্জন সম্ভব নয়। প্রশিক্ষণে বরাদ্দ নিয়ে অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, ‘কয়েকটি ফেডারেশন বাদে বাকি ফেডারেশনগুলো অনুশীলন শুরুই করেছে সপ্তাহ তিনেক। বাস্তবিক অর্থে এশিয়ান গেমসের জন্য এই প্রস্তুতি যথার্থ নয়।’

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদকের শুরু হয়েছিল ১৯৮৬ সালে বক্সিংয়ে মোশাররফ হোসেনের মাধ্যমে। এটিই এখন পর্যন্ত একমাত্র ব্যক্তিগত পদক। এরপর নারী ও পুরুষ কাবাডি ও ক্রিকেটে পদক এসেছে। একমাত্র স্বর্ণ পদক ২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে। এটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন। এবারের গেমসে প্রত্যাশা সেই ঘুরে ফিরে কাবাডি, ক্রিকেটেই।

এজেড/এইচজেএস 

বিজ্ঞাপন