দেশের সকল ক্রীড়া ফেডারেশন, এসোসিয়েশন, সংস্থা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২০১৮ সালের অ্যাক্ট দ্বারা পরিচালিত। এনএসসি অ্যাক্টের ২৩ নম্বর ধারায় প্রত্যেক জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার বার্ষিক আয়-ব্যয় এর হিসাব বিবরণী ও অডিট পরবর্তী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিকট দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রতিবেদন দিয়েছে মাত্র ১৪ ফেডারেশন, যেখানে ফেডারেশন-এসোসিয়েশন সংখ্যা ৫২।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই আইন অনেক দিন থেকেই। ফেডারেশনগুলোকে আর্থিক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারেনি এনএসসি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম ফেডারেশনগুলোর কাছে অডিট রিপোর্টের প্রতিবেদন চেয়েছিলেন। সেই প্রতিবেদন না দেয়ায় ফেডারেশনগুলোর অনুদান স্থগিতও ছিল কিছু দিন। পরবর্তীতে অবশ্য সেই কড়াকড়ি অবস্থান আর থাকেনি।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (অর্থ) তনময় ইসলাম সকল ফেডারেশন/এসোসিয়েশনকে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ব্যয় বিবরণী ও অডিট রিপোর্ট অবিলম্বে প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের অডিট প্রতিবেদন সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের আয়-ব্যয় বিবরণী ও অডিট রিপোর্ট কাবাডি, সাঁতার, শুটিং,ভলিবল, বাস্কেটবল, কুস্তি, জিমন্যাস্টিক্স, শরীর গঠন, বিলিয়ার্ড, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, রাগবি, মাউন্টেরিং, প্যারা অলিম্পিক, ক্রিকেট বোর্ড জমা দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের অডিট ও আয়-ব্যয় এখন পর্যন্ত জমা দিয়েছে শুধু বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশন।
দেশের অন্যতম শীর্ষ ফেডারেশন ফুটবল সরকারের কাছে প্রতিনিয়ত নানা রকম সুবিধা চায়। অথচ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। ফুটবল ফেডারেশনের কাছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তিন হোম ম্যাচের গেট মানির অর্থ চেয়েও পায়নি। ঐ ম্যাচগুলোর আয়-ব্যয় এখনো মিডিয়ার সামনে আনেনি ফুটবল ফেডারেশন। ফুটবলের পাশাপাশি আরচ্যারি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, কারাতে, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, সাইক্লিংসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেশনই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়-ব্যয় বিবরণী ও অডিট প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
এজেড/এইচজেএস
