বিভিন্ন খেলার জাতীয় দলের ৫০০ জন ক্রীড়াবিদ সরকারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা মাসিক ভাতার আওতায় আছেন। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একটি বিশেষ থোক বরাদ্দের ৯ কোটি টাকা থেকে বিভিন্ন ইভেন্টের জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখা মোট ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে দুই ধাপে গত এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হয়। নতুন অর্থ বছরে ক্রীড়াবিদরা সেই ভাতা নিয়মিত পাচ্ছেন না। ক্রীড়াবিদদের ভাতা ও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বাজেট প্রদানে দেরি হওয়ার বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থ বছরে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা হিসেবে প্রদান করার জন্য বাজেটে ৬০ কোটি টাকা এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ প্রতিযোগিতার জন্য ১৪০ কোটি টাকা অর্থাৎ ২০০ কোটি টাকা ‘নন এডিপি স্কিম’ খাতে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে ক্রীড়া ভাতার জন্য ‘নন এডিপি স্কিম’ খাতে বরাদ্দকৃত এই ৬০ কোটি টাকা এবং পরবর্তী ৪ অর্থবছরের জন্য আরও ২৪০ কোটি অর্থাৎ মোট ৩০০ কোটি টাকার কর্মসূচির প্রস্তাব যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে ৫ বছরের পরিবর্তে ১ বছরের জন্য কর্মসূচি আকার প্রস্তাব প্রেরণের অনুরোধ করা হয়। এ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক সংশোধিত ১ বছরের কর্মসূচির প্রস্তাব এবং ক্রীড়া পরিদপ্তর কর্তৃক প্রেরিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ এর জন্য ১৪০ কোটি টাকার কর্মসূচি অর্থাৎ একত্রে মোট ২০০ কোটি টাকার কর্মসূচি গত ৩১ আগস্টে অর্থবিভাগের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।
বিষয়টি অর্থবিভাগে এখনও প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা জুলাই ২০২৬ মাস হতে প্রদানের কথা থাকলেও এটি যেহেতু মন্ত্রণালয়ের বাজেটে সরাসরি বরাদ্দ প্রদান না করে নন-এডিপি স্কিম খাতে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে, কাজেই এই বিষয়ে কর্মসূচি গ্রহণ পূর্বক তা অর্থ বিভাগ কর্তৃক অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের সম্পন্ন করে সেপ্টেম্বরের আগে ক্রীড়াবিদদের ভাতা পাবেন না। ভাতা প্রাপ্ত জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা কর্মসূচিটি অনুমোদিত হলে জুলাই ২০২৬ মাস হতে তাদের বকেয়া ভাতাসহ নিয়মিত পাবেন।
জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিতব্য ২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ক্রীড়াদলের অংশগ্রহণ উপলক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও অংশগ্রহণ খাতে মোট ১০ কোটি টাকা অগ্রিম উত্তোলনের সম্মতি প্রদানসহ প্রশিক্ষণ এবং ভ্রমণ/অংশগ্রহণ খাতে মোট ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার ব্যয় বিভাজন অনুমোদনের সংক্ষিপ্ত চাহিদাপত্র বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন গত ১৬ জুলাই তারিখে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত ব্যয় বিভাজন প্রেরণের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন বিস্তারিত ব্যয় বিভাজনসহ পুনরায় প্রস্তাব যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে প্রেরণ করে।
উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণ এবং ভ্রমণ/অংশগ্রহণ খাতের টাকা বাজেটে ডাবল স্টার ভুক্ত বিধায় উক্ত ব্যয় বিভাজন অনুমোদন এবং অগ্রিম উত্তোলন অনুমোদনের ক্ষেত্রে অর্থবিভাগের পূর্ব-অনুমোদন প্রয়োজন। এজন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত প্রাপ্ত তথ্যাদিসহ ২৪ আগস্ট ১০ কোটি টাকা অগ্রিম উত্তোলন এবং ২৩.২৫ কোটি টাকার ব্যয় বিভাজন অনুমোদনের জন্য প্রাপ্ত তথ্যাদিসহ অর্থ বিভাগে প্রেরণ করা হয়।
সরকারের আর্থিক বিধি বিধান মোতাবেক ১০ কোটি টাকা সরাসরি অগ্রিম উত্তোলন করার সুযোগ নেই, এজন্য প্রতিটি ব্যয় এর বিস্তারিত বিভাজন, গেমসে অংশগ্রহণের জন্য সরকারি আদেশের (জি.ও.) কপিসহ আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন, সেগুলো পাওয়ার জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করে অদ্যাবধি না পাওয়া স্বত্তেও গুরুত্ব বিবেচনায় অর্থ বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। এটি অর্থবিভাগে এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইতোমধ্যেই অর্থবিভাগ উক্ত অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি চেয়েছে এবং অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে ফোনে একাধিকবার অবহিত করেছে মন্ত্রণালয়। ২৩তম কমনওয়েথ গেমস স্কটল্যান্ডের ভ্রমণ ব্যয় বাবদ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অনুকূলে গতকাল ১.৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ।এশিয়ান বিচ গেমসের বাজেট অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে ২৩ আগস্ট। সেখান থেকে ছাড় পেলে সেই অর্থ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন পেয়ে যাবে।
এজেড/এফএইচএম
