সিরিজের মাঝে মোহাম্মদ রিজওয়ানসহ সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া এবং দুই কোচকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানের ক্রিকেটে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এর আগে তাদের পরামর্শক ও ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ম্যাথু হেইডেন। ফলে ক্রিকেটারদের সারাক্ষণ চাপের মুখে থাকার বিষয়টি তিনি জানেন।
উইজডেন ক্রিকেটের পডকাস্টে সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা বলছেন, ‘পাকিস্তানে আমার দায়িত্বের সময়টা খুবই উপভোগ করেছি। তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেখানে সব সময়ই ঝামেলা থাকে। এটি কোনো পরিবেশ নয়, বরং একটা “প্রেশার কুকার”-এর মতো পরিস্থিতি। যা কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর জন্যই প্রযোজ্য, বাইরের অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের জন্য নয়। আর এমন পরিবেশে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন, তাদের কাজের ফর্মুলাই এমন।’
২০২১ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় হেইডেন পাকিস্তান জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন দলটি সেমিফাইনালে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫ উইকেটে হারে। পরের বছর পাকিস্তানের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন হেইডেন। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলেছিল পাকিস্তান।
‘পাকিস্তান সব সময়ই ডার্ক হর্স হিসেবে টুর্নামেন্ট খেলে, কারণ তাদের সহজাত প্রতিভা অসাধারণ। কেউ তাদের অ্যাথলেটিক সক্ষমতার দিকে তাকালেই বুঝবে, পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মাঝে এর কোনো অভাব নেই। কিন্তু সমস্যা হলো– এই প্রতিভাকে কখনোই ঠিকঠাক কাজে লাগানোর সুযোগ দেওয়া হয় না। সব কিছুই একধরনের বিশৃঙ্খলার মধ্যে থাকে’, আরও যোগ করেন এই অজি কিংবদন্তি।

পাকিস্তান ক্রিকেটের এমন বিশৃঙ্খল সংস্কৃতি সামলানোর বিষয়ে হেইডেন বলছেন, ‘তারা যেন সবসময়ই এক পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, দুটি পায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর মতো অবস্থা তাদের থাকে না। ফলে কোনো সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে ওঠে না। আর পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করার সেই স্বল্প সময়ে আমি মূলত এই বিষয়টিতেই মনোযোগ দিয়েছিলাম, প্রতিটি বিষয়কে আবার একটা স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, যাতে পরিস্থিতি আর এতটা হট্টগোলপূর্ণ না হয়। তাই তাদের জন্য বিষয়টি সত্যিই খুব কঠিন।’
একই পরিস্থিতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রেও ঘটছে বলে দাবি হেইডেনের, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পাকিস্তানের কথাও আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই। কারণ একটি দেশেই ৩৫ কোটি মানুষ ক্রিকেটকে ভালোবাসে, অথচ নানা কারণে সেখানে ঠিকঠাকভাবে ক্রিকেট খেলা সম্ভব হয়ে ওঠে না। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, কারণ তাদের যদি অবাধে ও আস্থার সঙ্গে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তারা যেকোনো প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। ঠিক যেমনটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের ক্রীড়াশৈলী বা অ্যাথলেটিক সক্ষমতাও অত্যন্ত উচ্চমানের।’
এএইচএস
