টটেনহ্যাম ছাড়ার দৌড়ে একের পর এক দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রিচার্লিসনের সামনে। শুক্রবার রাতে তুরস্কের সুপার লিগের দলবদলের সময়সীমাও শেষ হয়েছে, কিন্তু ট্রাবজোনস্পোরে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের যাওয়ার সম্ভাবনাও শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়নি। ফলে নতুন ক্লাব খোঁজার পথ এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে তার জন্য।
টটেনহ্যামে আর থাকছেন না—এমন ইঙ্গিত অনেক দিন ধরেই ছিল। কোচ রবার্তো দে জারবিও জানিয়েছেন, রিচার্লিসন নিজেই ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছার কথা তাকে জানিয়েছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত নতুন ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সফল হননি ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
প্রথম দিকে আগ্রহী ক্লাব হিসেবে এভারটনের নাম শোনা গিয়েছিল। টটেনহ্যামের হয়ে খেলার আগে এই ক্লাবেই নিজের ক্যারিয়ারের বড় সময় কাটিয়েছিলেন রিচার্লিসন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতেই ইংল্যান্ডের দলবদলের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনাও আর বাস্তবায়িত হয়নি।
এরপর সামনে আসে ট্রাবজোনস্পোরের নাম। তুরস্কের ক্লাবটিকে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু শুক্রবার রাতে তুরস্কের দলবদলের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি কোনো পক্ষ। ফলে এই পথও বন্ধ হয়ে গেল।
সমস্যা হচ্ছে, রিচার্লিসন এখন এমন এক অবস্থায় আছেন যেখানে টটেনহ্যামের হয়ে খেলার সুযোগও সীমিত, আবার পছন্দের নতুন ক্লাব খোঁজার সুযোগও দ্রুত কমে যাচ্ছে। স্কটল্যান্ড, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের দলবদলের সময়সীমাও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে ইউরোপের বেশ কিছু সম্ভাব্য দরজা এখন বন্ধ।
তবে পুরোপুরি পথ বন্ধ হয়ে যায়নি। রিচার্লিসনের জন্য সবচেয়ে সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে সৌদি আরব। গত কয়েক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের একাধিক পরিচিত খেলোয়াড় সৌদি প্রো লিগে পাড়ি জমিয়েছেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা, সৌদি আরবের দলবদলের সময়সীমা এখনো শেষ হয়নি; সেখানে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত খেলোয়াড় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
আরেকটি সম্ভাবনা পর্তুগাল। পর্তুগিজ ভাষাভাষী রিচার্লিসনের জন্য দেশটিতে মানিয়ে নেওয়ার দিক থেকেও সুবিধাজনক হতে পারে। পর্তুগালের প্রাইমিরা লিগার ক্লাবগুলো ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন খেলোয়াড় দলে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
নিজের দেশ ব্রাজিলেও ফেরার পথ এখনো খোলা। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্রাজিলের দলবদলের সময়সীমা রয়েছে। একই দিন পর্যন্ত মেক্সিকোর ক্লাবগুলোরও খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে যাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই, কারণ সেখানকার দলবদলের সময়সীমা মঙ্গলবারই শেষ হয়েছে।
রিচার্লিসন নতুন ক্লাব না পেলে টটেনহ্যাম কী করবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন। টকস্পোর্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করছে ক্লাবটি। সেটি হলে রিচার্লিসন ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নতুন ক্লাব খোঁজার সুযোগ পাবেন। তবে আপাতত টটেনহ্যামের সঙ্গে তার চুক্তি বহাল আছে। গত সপ্তাহে দেওয়া এক বিবৃতিতে রিচার্লিসনও বলেছিলেন, তিনি চুক্তিবদ্ধ এবং ক্লাবের প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।
এইচজেএস
