বিজ্ঞাপন

আরতেতা-আলানসোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আড়ালে বন্ধুত্ব!

আরতেতা-আলানসোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আড়ালে বন্ধুত্ব!

এভারটন ও লিভারপুলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা পুরোনো। সেই দুই ক্লাবের খেলোয়াড় হয়েও মিকেল আরতেতা ও জাবি আলানসোর মধ্যে ছিল গভীর বন্ধুত্ব। তবে সেই সম্পর্ক সব সময়ই ছিল অনেকটা আড়ালে।

২০০৫ সালের জানুয়ারিতে এভারটনে ধারে যোগ দেওয়ার সময় আরতেতার ছোটবেলার বন্ধু আলোনসো লিভারপুলের খেলোয়াড়। পরের পাঁচ বছর মার্সিসাইডে তারা একে অন্যের বাড়িতে সময় কাটিয়েছেন, কিন্তু ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সম্পর্কটি প্রকাশ্যে আনতেন না।

‘আমাকে বুদ্ধিমান হতে হতো। কিছু বিষয় প্রকাশ্যে আনার প্রয়োজন নেই। আপনাকে আলাদা করতে জানতে হবে—কোনটা আপনার পেশা আর কোনটা মানবিক সম্পর্ক,’ সেই সময়ের কথা মনে করে বলেছেন আরতেতা।

তাদের বন্ধুত্ব অবশ্য আরও পুরোনো। সান সেবাস্তিয়ানে জন্ম দুজনের, বয়সের ব্যবধান মাত্র চার মাস। ছোটবেলায় একসঙ্গে ফুটবল খেলা থেকে শুরু করে একই যুব ক্লাব আনতিগোকোয়োর হয়ে খেলেছেন। সেই দলের সতীর্থ ছিলেন বর্তমান লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলাও। তিনজনই এখন প্রিমিয়ার লিগের বড় ক্লাবের ডাগআউটে।

শৈশবে আরতেতা ও আলানসোর স্বপ্ন ছিল রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে একসঙ্গে খেলা। কিন্তু সেটি আর হয়নি। আরতেতা রেঞ্জার্স থেকে সোসিয়েদাদে ফেরার আগেই আলানসো চলে যান লিভারপুলে। এরপর বন্ধুত্বের পাশাপাশি তাদের ক্যারিয়ারও মুখোমুখি হয়েছে মার্সিসাইড ডার্বিতে।

খেলোয়াড় হিসেবে আলানসোর অর্জন অনেক বড়—স্পেনের হয়ে ১১৪ ম্যাচ, বিশ্বকাপ ও দুটি ইউরো, লিভারপুল ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ। আরতেতা জিতেছেন স্কটিশ লিগ ও দুটি এফএ কাপ, তবে স্পেনের হয়ে খেলা হয়নি।

এখন দুজনের বয়স ৪৪। খেলোয়াড়ি জীবন পেরিয়ে দুজনই কোচ হিসেবে বড় সাফল্য পেয়েছেন। বায়ার লেভারকুসেনকে জার্মান লিগ জেতানো আলোনসোর সাফল্য আরতেতার কাছেও ছিল অনুপ্রেরণার।

‘সাহস,’ আলানসোর সাফল্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হিসেবে শব্দটি বেছে নিয়েছেন আরতেতা। তিনি বলেন, ‘বিদেশে গিয়ে সে যা করেছে, সেটা অসাধারণ। এটা দেখায়, আপনি কোথায় জন্মেছেন বা কোথা থেকে এসেছেন, সেটি বাধা নয়।’

বন্ধুত্ব এখনো আছে, যদিও ব্যস্ত সূচির কারণে দেখা হয় কম। তবে মাঠে দুজনের সম্পর্কের হিসাবটা আলাদা। আরতেতার কথায়, ‘আমাদের সম্পর্ক বহু বছর ধরে। আশা করি সামনে দারুণ কিছু মুহূর্ত কাটাতে পারব। কিন্তু যখন একে অন্যের মুখোমুখি হবো, তখন কী হয়, সেটা তো জানেনই।’

শৈশবের দুই বন্ধু এখন তাই ফুটবলের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে। সম্পর্কটা একই আছে, শুধু মাঠের গল্পটা বদলে গেছে।

এইচজেএস