লিওনেল মেসির প্রস্তাবিত কেরালা সফর বাতিলের পর এবার সামনে এসেছে আয়োজন ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইভেন্টটির সম্ভাব্য আয় কম দেখিয়ে ও ব্যয় বাড়িয়ে কেরালা সরকারকে বিভ্রান্ত করার মতো তথ্য ডিপিআরে রাখা হয়েছিল।
দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে ঘিরে প্রস্তাবিত দুটি প্রীতি ম্যাচের ডিপিআরে সম্ভাব্য আয় দেখানো হয়েছিল মাত্র ৮০ কোটি রুপি। বিপরীতে ব্যয় ধরা হয় ২০৮ কোটি রুপি। অথচ বাদ দেওয়া কয়েকটি সম্ভাব্য আয়ের খাত যুক্ত করলে মোট আয় ২০০ কোটি রুপির বেশি হতে পারত বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিপিআরে টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার ও মিডিয়া স্বত্ব এবং প্রিমিয়াম অ্যাকসেসকে আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হলেও স্পন্সরশিপ, ব্র্যান্ডিং, মার্চেন্ডাইজ, ফ্যান ইভেন্ট এবং ট্রাভেল-হসপিটালিটি প্যাকেজের মতো খাতগুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ক্রীড়া বিভাগের বিশেষ সচিব এন প্রশান্তের তৈরি আর্থিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনটি ক্রীড়ামন্ত্রী ও জেনীশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে ফরেনসিক ব্যাংকিং ও করপোরেট অ্যাকাউন্ট তদন্তে সক্ষম একাধিক সংস্থাকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ইভেন্টের আয় রাজ্য সরকার ও স্পন্সরের মধ্যে কীভাবে ভাগ হওয়ার কথা ছিল, সে বিষয়ে কোনো নথি পাওয়া যায়নি। ফলে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান রিপোর্টার ব্রডকাস্টিং কোম্পানির ভূমিকা কেবল স্পন্সরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কেরালার ফুটবলপ্রেম ও মেসির বিপুল জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে কর্মকর্তাদের ধারণা, আয়োজনটি সফল হলে আয়ের পরিমাণ ২০০ কোটি রুপি বা তার বেশি হতে পারত। জাকার্তা, সৌদি আরব ও মুম্বাইয়ে মেসিকে ঘিরে আয়োজিত ইভেন্টের অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এইচজেএস
