২৮ আগস্ট থেকে জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলন চলছে। ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও বাফুফে কোচ-ফুটবলারদের মিডিয়ার সামনে আনেনি। আজ কিংস অ্যারেনায় অবশেষে হেড কোচ থমাস ডুলি ও সিনিয়র ফুটবলার সোহেল রানাকে মিডিয়া সেশনে দিয়েছে ফেডারেশন।
জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলন মিডিয়ার ফোকাস থাকে সব সময়। আসিয়ান কাপের জন্য শুরু হওয়া অনুশীলনে মিডিয়ার প্রবেশাধিকার ছিল না এত দিন। তাই কোচ ডুলির কাছে জানতে চাওয়া কেমন চলছে অনুশীলন? আমেরিকার হয়ে বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব করা ডুলির উত্তর, 'এ পর্যন্ত ট্রেনিং নিয়ে আমি খুবই খুশি। দিনে দুবার করে কয়েকবার অনুশীলন করেছি। কারণ স্বাভাবিকভাবেই, আপনারা যেমনটা জানেন, সান মারিনো থেকে ফেরার পর থেকে ফুটবলারদের বেশির ভাগই কিছু করেনি।'
ঘরোয়া ফুটবলে খেলা ২৮ ফুটবলারকে প্রাথমিক ক্যাম্পে ডেকেছেন ডুলি। এরপর দুই প্রবাসী ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। বিশেষ করে আমেরিকা থেকে আসা গোলরক্ষক সাইফকে নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। ডুলির ক্যাম্পে এখন পাঁচ জন গোলরক্ষক। ২৩ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াডে তিন জন গোলরক্ষক থাকেন। তাই কাকে রেখে কাকে বাদ দেবেন এমন অবস্থায় ডুলির কোচিং স্টাফ, '৫ জন গোলরক্ষকই প্রায় সমমানের। আর এখানেই চূড়ান্ত ৩-৪ জন বাছাই করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের জাকার্তা যাওয়ার আগে আরও কিছু দিন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা খেলোয়াড়দের পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি, নিজেদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে উন্নতি করে দেখাক যে তারা মূল দলে থাকার যোগ্য।’
গোলরক্ষক কোচ আলাদা রয়েছেন। তিনিই গোলরক্ষক নিয়ে কাজ করেন। এরপরও হেড কোচের মতামতের উপরই দল চূড়ান্ত হবে। জাতীয় দলের অনুশীলন আর ট্রায়াল এক সঙ্গেই চলছে। অ-২০ দলের জিদানকেও দেখার কথা রয়েছে কোচের। ট্রায়াল বিষয়ে ডুলি বলেন, ‘বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এবার চমৎকার পারফর্ম করছে, যা আগেরবার দেখিনি। কারণ প্রথমবার এসে মাত্র অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ৪০ জন নতুন মুখ দেখে দল বাছাই করা কঠিন ছিল। কখনও খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিটনেস থাকে না বা হালকা ইনজুরি থাকে। যারা যুব দল থেকে বা নতুন করে ফিরে এসেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন বেশ ভালো করছে। ফুটবল মানেই পারফরম্যান্স, কে কেন দলে আছে তা কোচিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হয়। আমরা সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে ম্যাচ জিততে চাই, যাতে সমর্থকরা খুশি হতে পারেন।’
বাংলাদেশ দলের প্রাণভোমরা হামজা দেওয়ান চৌধুরি। তিনি শেফিল্ডের হয়ে খেলছেন। ফিফা উইন্ডোর আগে তার ইন্দোনেশিয়া যাওয়া সম্ভব হবে না। হামজাকে নিয়ে তিনি বলেন, 'হামজার মতো পেশাদার খেলোয়াড়রা জানে এই পর্যায়ের ফুটবলে তাদের ভূমিকা কী। তাদের নতুন করে কিছু শেখাতে হয় না। ও আসার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের সেরাটা দেবে, কারণ সে একজন লিডার। এ ছাড়া শমিত, তারিক, জায়ানরাও মানসিকভাবে ও টেকনিক্যালি বেশ পরিপক্ব। খেলোয়াড়রা আরও আগে আসলে নিশ্চিতভাবেই ভালো হতো, কিন্তু ক্লাবের বাধ্যবাধকতার কারণে তা সম্ভব হয় না।’
এজেড/এইচজেএস
