রক্ষণভাগে খেললেও গোল করার অসাধারণ দক্ষতার জন্য খ্যাতি ছিল বার্সেলোনা ও নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি রোনাল্ড কোম্যানের। পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি ২৩৯টি গোল করেছেন। এর মধ্যে পেনাল্টিতে ১১৫ এবং নিজ প্রচেষ্টায় করেন ১৩১ গোল। গোলরক্ষক হওয়া সত্ত্বেও যেন একই পথে হাঁটছেন তার ছেলে রোনাল্ড কোম্যান জুনিয়র।
ডাচ শীর্ষ লিগ ইরেডিভিসির ম্যাচে টেলস্টারের ৩১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক পেনাল্টি থেকে দুটি গোল করেছেন। যার সুবাদে টেলস্টার ও কামবুরের ম্যাচটি ড্র হয় ২-২ গোলে। যদিও ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল টেলস্টার। ওই অবস্থায় ৬৩তম মিনিটে গোল করেন কোম্যান জুনিয়র। এরপর যোগ করা সময়ের ১১তম মিনিটে আবারও গোল করে দলকে তিনি এক পয়েন্ট এনে দেন।
— Football Tweet (@Footballtweet) September 6, 2026
ফুটবলে গোলরক্ষকের গোল করা সাধারণত শেষ মুহূর্তে কর্নার থেকে আসা বিরল কোনো ঘটনা। তবে কোম্যান জুনিয়রের এমন কীর্তি এবারই প্রথম নয়। গত মে মাসেও তিনি ৮৮তম মিনিটে পেনাল্টিতে গোল করে টেলস্টারকে অবনমন থেকে বাঁচিয়েছিলেন। ভলানডামের বিপক্ষে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের দুই সর্বোচ্চ গোলদাতা জোখেম রিটমেইস্টার ফান দে কাম্প ও প্যাট্রিক ব্রাউয়ার মাঠে থাকা সত্ত্বেও পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন গোলরক্ষক কোম্যান।
বাবার মতোই ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টিতে গোল করার পর জার্সি খুলে উল্লাসে মাতেন তিনি। তখন টেলস্টারের কোচ অ্যান্থনি কোরেয়া বলেছিলেন, কোম্যান জুনিয়রের ব্রোঞ্জের মূর্তি বানানো উচিত। টিএনটি স্পোর্টসকে কোরেয়া বলেছিলেন, ‘রোনাল্ড কোম্যান জুনিয়র একজন কিংবদন্তি। তার একটি মূর্তি প্রাপ্য। সে যা করেছে, সত্যিই দারুণ। ভলানডামের গোলরক্ষক কোনায় ঝাঁপ দিতে পারে, কিন্তু সে এত ভালো শট নিয়েছে। আমি সাধারণত খুব একটা মদ্যপান করি না, কিন্তু এখন একটি ছোট বিয়ার খাব।’
— CGTN Sports Scene (@CGTNSportsScene) September 7, 2026
এর আগে তার বাবা রোনাল্ড কোম্যানও বার্সেলোনা এবং ডাচ জাতীয় দলে গোল করায় দক্ষতা দেখিয়ে বুঁদ করছেন সমর্থকদের। যদিও তিনি প্রায় নিয়মিত খেলতেন সেন্টারব্যাক হিসেবে। তবে শক্তিশালী শ্যুট, লম্বা দূরত্বে পাস, নিখুঁত ফ্রি-কিক ও পেনাল্টি ছিল তার শক্তির জায়গা।
কোম্যান জুনিয়রের মতো গোলরক্ষকদের বিরল এই প্রতিভা আগে দেখা গেছে। ব্রাজিলের গোলরক্ষক রজেরিও সেনি ১৯৯৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সাও পাওলোর সেট-পিস নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন এবং করেছেন ১২৯ গোল। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি এলাকার আশপাশে ফ্রি-কিক বা অন্য কোনো ডেড-বল পরিস্থিতি তৈরি হলেই তিনি মাঠের অন্য প্রান্তে ছুটে যেতেন এবং প্রায়ই বল জালের ওপরের কোনায় পাঠাতেন।
সেনির নাম গিনেস বুক অব রেকর্ডসে সর্বোচ্চ গোল করা গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছে। তবে কলম্বিয়ার গোলরক্ষক রেনে হিগিতাও কম যাননি। তিনি করেছেন ৪৩ গোল, যার মধ্যে ৩৫টিই পেনাল্টি থেকে। প্যারাগুয়ের হোসে লুইস চিলাভের্ত ৬০টিরও বেশি গোল করেছেন, যার মধ্যে রেকর্ড ৮টি গোল করেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে।
জার্মানির হান্স-ইয়র্গ বুট হামবুর্গ ও বায়ার লেভারকুসেনের হয়ে বুন্দেসলিগায় পেনাল্টি থেকে ২৬ গোল করেছিলেন। তবে পাশের দেশ নেদারল্যান্ডসে গোলরক্ষক কোম্যান জুনিয়রই এই অভিনব ব্যাপারটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন।
এএইচএস
