বিজ্ঞাপন

ডি ভিলিয়ার্সের মতে, তিন সংকটে ধুঁকছে পাকিস্তান ক্রিকেট

ডি ভিলিয়ার্সের মতে, তিন সংকটে ধুঁকছে পাকিস্তান ক্রিকেট

ইংল্যান্ড সিরিজে গিয়ে নিজেদের পুরো চরিত্রটাই যেন প্রকাশ করে ফেলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট। লিডস ও লর্ডস টেস্টে হেরে তারা সিরিজ হাতছাড়া করার পরপরই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির ক্রিকেট বোর্ড পিসিবি। একসঙ্গে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি বরখাস্ত করেছে দুই কোচকে। তবে পাকিস্তানের সংকটের পেছনে দায়ী বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটে যথাযথ ক্রিকেটীয় চরিত্রের সংকট আছে। একইসঙ্গে লড়াইয়ের মানসিকতা ও বিপর্যয়ে পথ দেখানোর মতো দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের গ্রুপ দরকার বলে মনে করছেন ডি ভিলিয়ার্স। এ ছাড়া তিনি পাকিস্তান ক্রিকেটে নিয়ন্ত্রকদের অব্যবস্থাপনার বহুল আলোচিত বিষয়টিও ‍অনুভব করছেন।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ৪২ বছর বয়সী ডি ভিলিয়ার্স বলছেন, ‘আমার সবসময়ই মনে হয় টেস্ট ক্রিকেট হলো একজন খেলোয়াড়ের চরিত্রের পরীক্ষা। আর সম্ভবত এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সেই জিনিসের অভাব রয়েছে। কিছুটা দৃঢ় চরিত্র, লড়াই করার মানসিকতা এবং চার-পাঁচজন খেলোয়াড়ের এমন একটি নেতৃত্ব দরকার যারা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তার বলবে, “এসো আমরাই এখানে নেতৃত্ব দিয়ে অন্যদের পথ দেখাই। দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। তরুণদের দেখিয়ে দিই যে টেস্ট ম্যাচ, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি যাই হোক না কেন, ম্যাচ জেতার জন্য আসলে কী প্রয়োজন।” হয়তো সেই জায়গাতেই তাদের ঘাটতি রয়েছে।’

পাকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়কত্বে বাবর আজমকে দীর্ঘ সময় দেখতে চান এই প্রোটিয়া কিংবদন্তি, ‘নিঃসন্দেহে ওপর মহল থেকেও কিছুটা অব্যবস্থাপনা ছিল, দলে অনেক রদবদল ও ঘন ঘন নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে। এখন বাবর (আজম) ফিরে এসেছে, আশা করি সে দীর্ঘ সময় খেলার সুযোগ পাবে, ফিট থাকবে এবং আবারও রান করা শুরু করবে, যেমনটা সে করতে পারে বলে আমরা সবাই জানি। আর তার সতীর্থরাও তাকে অনুসরণ করবে।’

নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটাররা পর্যাপ্ত কাজ করে না বলেও মনে করেন ডি ভিলিয়ার্স। ফলে তারা সফট উইকেট দিচ্ছেন বারবারই। ‘মিস্টার থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি’ বলেন, ‘আমি প্রায়শ কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের খুব বেশি খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগতভাবে কঠোর প্রস্তুতি নিতে দেখি না। তারা এখন ইংল্যান্ডে সফর করছে, বিশেষত ব্যাটিং ইউনিট (চেষ্টা) পর্যাপ্ত নয়, কী বলা যায়? সাহস ও লড়াই–কোনোটিই নেই। সবসময় যে প্রতিটি বিষয় নান্দনিক হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তবে অনেক সময় সহজে উইকেট দিয়ে আসছে।’

‘শেষ পর্যন্ত আসল ব্যাপার হলো সিদ্ধান্ত নেওয়া। টেস্ট ক্রিকেটে আমি নতুন, তাই মাঠে সবসময়ই যে আমাকে খুব জমকালো বা দৃষ্টিনন্দন ভঙ্গিতে খেলতে দেখা যাবে, তা নয়। কখনও কখনও খেলাটা দেখতে বেশ দৃষ্টিকটু বা অত্যন্ত কঠিন মনে হতে পারে। আর আমি যদি নিজের অহংবোধের বশবর্তী হয়ে খেলতাম, তবে হয়তো অন্যরকম একজন খেলোয়াড় হতাম। তাই আমার কাছে সবসময়ই মূল বিষয় ছিল– আজকের ম্যাচে আমি কতটা মানসিক দৃঢ়তা বা চরিত্রের জোর দেখাতে পারছি’, আরও যোগ করেন ডি ভিলিয়ার্স।

এএইচএস