এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে বাংলাদেশের লক্ষ্যটা এবারও পদক। সেই পথের প্রথম ধাপেই অবশ্য কঠিন পরীক্ষা। পুরুষ ক্রিকেটে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করবে বাংলাদেশ। নারী দলও একইভাবে শেষ আটে খেলবে। এশিয়ান গেমসে আগের আসরে ব্রোঞ্জ জেতা বাংলাদেশের সামনে এবার লক্ষ্য আরও এক ধাপ ওপরে ওঠা।
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) আসন্ন এশিয়ান গেমসের পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের সূচি প্রকাশ করেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের নাগোয়ায় হবে ক্রিকেটের ম্যাচগুলো। সব ম্যাচই টি-টোয়েন্টি সংস্করণে অনুষ্ঠিত হবে পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে।
নারী ক্রিকেট দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের অভিযান। ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন। একই দিনে পাকিস্তান খেলবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে। পরদিন মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়া এবং ভারত ও জাপান।
শেষ আটের বাধা পেরোতে পারলে ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। ২২ সেপ্টেম্বর হবে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ ও ফাইনাল। অর্থাৎ শুরু থেকে হিসাবটা পরিষ্কার—আর দুটি জয়ই বাংলাদেশের নারী দলকে নিয়ে যেতে পারে সোনার লড়াইয়ে।
পুরুষ ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পাওয়া বাংলাদেশ খেলবে ‘বি’ গ্রুপের সেরা দলের বিপক্ষে। একই দিনে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দলের, আর ভারত খেলবে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপের বিপক্ষে। ২৯ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা খেলবে ‘এ’ গ্রুপের সেরা দলের বিপক্ষে।
বাংলাদেশের জন্য তাই গ্রুপ পর্বের কোনো ঝুঁকি নেই, কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই শুরু হবে আসল পরীক্ষা। জিতলেই সেমিফাইনাল। ১ অক্টোবর শেষ চারে উঠলে সেদিনই ফাইনালে ওঠার লড়াই। এরপর ৩ অক্টোবর সকাল ৯টায় ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ এবং দুপুর ২টায় ফাইনাল।
বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট অবশ্য নতুন কোনো মঞ্চ নয়। ২০২৩ সালে চীনের হাংজুতে পুরুষ ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছিল তারা। নারী ক্রিকেটেও সেবার একই সাফল্য এসেছিল। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।
এবার বাংলাদেশের সামনে তাই সেই ব্রোঞ্জ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, সঙ্গে আরও বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ। পুরুষ ও নারী—দুই দলই সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করবে। ফলে শুরুতেই ভুলের সুযোগ কম, কিন্তু একটি জয়ই খুলে দেবে সেমিফাইনালের দরজা। আর সেই দরজা পেরোতে পারলেই বদলে যাবে লক্ষ্য—ব্রোঞ্জ নয়, তখন চোখ থাকবে সোনার পদকে।
এইচজেএস
