বিজ্ঞাপন

ইউরোপিয়ান ফুটবলের যুদ্ধ শুরু রাতে, পিএসজির সামনে রেকর্ডের হাতছানি

ইউরোপিয়ান ফুটবলের যুদ্ধ শুরু রাতে, পিএসজির সামনে রেকর্ডের হাতছানি

আজ শুরু হচ্ছে চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ। প্রথম দিনের আলোচিত ম্যাচ রিয়াল মাদ্রিদ বনাম ইন্টার মিলান এবং পোর্তো বনাম ম্যানসিটি।

দুইবারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই টানা তৃতীয় শিরোপার সন্ধানে নামবে। এজন্য বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলার মতো শক্ত প্রতিপক্ষকে তাদের মোকাবেলা করতে হবে। 

তবে প্যারিসিয়ানদের ছাপিয়ে আরও কিছু দলের সুযোগ থাকছে ট্রফি জেতার। গতবারের রানার্সআপ আর্সেনাল ও বায়ার্ন মিউনিখ। আগের আসরের সেমিফাইনালে তো পিএসজিকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলেছিল বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা।

প্রত্যেকবারের মতো ফেভারিট বার্সেলোনাও। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল হোসে মরিনিওর দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রফি খরা কাটানোর আশায়। আর ফাইনাল হবে তাদেরই শহরে, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির হ্যাটট্রিক মিশন

গত মে মাসের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দুইবার ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পিএসজি। লুইস এনরিকের দলের সামনে এখন দ্বিতীয় দল হিসেবে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার সুযোগ। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালে প্রথম ও একমাত্র দল হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিল জিনেদিন জিদানের রিয়াল।

তবে ইউরোপিয়ান কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে তিনটি ক্লাব টানা তিনবার শিরোপা জিতেছিল। রিয়ালের আগে এই কীর্তি ছিল আয়াক্স ও বায়ার্ন মিউনিখের।

সেই বিরল কীর্তি গড়ার হাতছানি নিয়ে পিএসজি তাদের দল গুছিয়ে নিয়েছে। ব্রাডলি বারকোলা, গনসালো রামোস ও লি কাং-ইনকে ছেড়ে ফেরান তোরেস, লুকাস দিগনে ও মিকা গডসকে নিয়েছে।

মরিনিওর নেতৃত্বে ফাইনালে খেলার আশা মাদ্রিদের

দুটি ট্রফিহীন মৌসুমের অবসান ঘটাতে রিয়াল দ্বিতীয় মেয়াদে তাদের ক্লাবে হোসে মরিনিওকে এনেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রকৃত দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাও তাদের লক্ষ্য। আর ফাইনাল নিজ শহরে হওয়ার কারণে, যদিও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেটিকোর মাঠ, তবুও সেখানেই ঘরের সমর্থকদের সামনে শিরোপা জেতার আশা করছে তারা। 

বার্নার্ডো সিলভা, ডেনজেল ডুমফ্রিস, মার্ক কুকুরেলা ও ইয়ান দিওমান্দেকে দলে যুক্ত করে তারা শক্তি বাড়িয়েছে। লা লিগা মৌসুমও তারা শুরু করেছে দারুণভাবে। প্রথম তিন ম্যাচই জিতেছে তারা। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু করার আগে গত শুক্রবার রিয়াল বেতিসের কাছে ১-০ গোলে হারের ধাক্কা খেয়েছে।

প্রথম ম্যাচেই রিয়াল মুখোমুখি হচ্ছে ইন্টার মিলানের। যে ক্লাবকে মরিনিও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের রচনা করেছিলেন। ২০১০ সালে বার্নাব্যুতেই ইন্টারকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জেতান এবং ওই মৌসুম ট্রেবলও জেতে তার দল।

কোমোর রূপকথা কেমন হবে?

গত সিরি আ মৌসুমে কোমো চতুর্থ হয়েছিল, তাতে ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ওঠে সেস ফেব্রিগাসের দল। অথচ কয়েক বছর আগেও ক্লাবটি ইতিহাসের চতুর্থ স্তরে ছিল। 

কোমোর এই উত্থান শুরু হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার হারতোনো পরিবারের মালিকানা নেওয়ার পর। ২০১৯ সালে তারা কোমো কিনে নেয় এবং পুনর্গঠিত দলটি পাঁচ বছরে তিন ধাপ উন্নীত হয়। এই গ্রীষ্মেও তারা বিনিয়োগ করেছে। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধার করা নিকো পাজকে জুনে স্থায়ীভাবে চুক্তি করেছে। কোমোর সঙ্গে এবার অভিষেক হচ্ছে সেলটিককে পেছনে ফেলে অস্ট্রিয়ান লিগ জেতা এলএএসকে, আজারবাইজানের সাবাহ ও নরওয়ের ভাইকিংয়ের।

তাদের পুনর্মিলন

রিয়ালের সঙ্গে ইন্টার মিলানের মাঠে ডাগআউটে দাঁড়াবেন মরিনিও। শুধু মিলানই নয়, দ্বিতীয় ম্যাচেও পর্তুগিজ কোচ তার সাবেক ক্লাব রোমার মুখোমুখি হবেন। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে শুধু তাকেই সাবেক ক্লাবগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে তা নয়। বার্সেলোনার জার্সিতে ষষ্ঠ ম্যাচেই রদ্রি তার সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবেন। যে ন্যু ক্যাম্পে একসময় নিজে খেলতেন, সেখানে এবার ডাগআউট থেকে সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে রণকৌশল সাজাবেন সেস্ক ফেব্রিগাস। তার অধীনে কোমো মুখোমুখি হবে বার্সেলোনার। আর কদিন আগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিতে যোগ দেওয়া ফেরান তোরেসও তার সাবেক ক্লাব বার্সার বিপক্ষে খেলবেন।

কে শিরোপা জয়ের দৌড়ে ফেভারিট?

অপ্টা সুপারকম্পিউটার সবমিলিয়ে গত বছরের রানার্সআপ আর্সেনালকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার বলেছে। তাদের ট্রফি জেতার সম্ভাবনা ২০.৪ শতাংশ। সেমিফাইনালে পিএসজির কাছে হারা বায়ার্ন মিউনিখের সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ। পিএসজির টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের সুযোগ ৭.৩ শতাংশ, তাদের অবস্থান চারে। শিরোপার লড়াইয়ে ম্যানসিটিকে তৃতীয় ফেভারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে। তাদের সম্ভাবনা ১২.৭ শতাংশ।

এফএইচএম