শুরু হচ্ছে ইউরোপিয়ান ফুটবলে সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতা। লিগ পর্বে আটটি করে ম্যাচ খেলবে ৩৬ দলের প্রত্যেকে।
গত মে মাসের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্যারিস সেন্ট জার্মেই টানা তৃতীয়বার ট্রফি জয়ের মিশনে নামবে। আর্সেনাল, ম্যানসিটি, লিভারপুল, বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো হেভিওয়েট দলগুলোর সঙ্গে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে তাদেরকে।
হ্যাটট্রিক ট্রফি জয়ের মিশনে প্রথমে লিগ পর্বে টিকতে হবে পিএসজিকে। শীর্ষ আটটি দল সরাসরি খেলবে শেষ ষোলোতে, আর নবম থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলো খেলবে প্লে অফ রাউন্ডে। আগের দুই আসরের মতো এবারও কোয়ালিফিকেশন ফরম্যাট একই থাকছে। কিন্তু কিছু নতুন নিয়ম এবারের আসরে যুক্ত হচ্ছে।
সময়ের অপচয় বারণ
চলতি মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে প্রবর্তিত নিয়মগুলোর সাথে সঙ্গতি রেখে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও সময় অপচয় কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বদলি হওয়া খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে নয়তো নতুন খেলোয়াড়কে মাঠে নামার জন্য ১ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে এবং এরপর প্রথম স্টপেজের পর তিনি মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন।
থ্রো ইন এবং গোল কিকের মাধ্যমে খেলা পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে রেফারিদের ৫ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন দেওয়ার অধিকার থাকবে। থ্রো-ইন নিতে অতিরিক্ত সময় নিলে সিদ্ধান্ত প্রতিপক্ষের পক্ষে চলে যাবে, আর গোলকিপার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গোল কিক না নিলে প্রতিপক্ষ দল একটি কর্নার কিক পাবে।
চিকিৎসার প্রয়োজন হলে খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে ১ মিনিটের জন্য বাইরে যেতে হবে এবং এরপর তিনি পুনরায় খেলায় অংশ নিতে পারবেন। তবে এই নিয়মটি গোলকিপারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ভিএআর-এর ব্যবহার বাড়াচ্ছে উয়েফা
উয়েফা ঘোষণা করেছে যে ২০২৬-২৭ মৌসুমে নতুন কিছু ক্ষেত্রেও ভিএআর ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভুল খেলোয়াড়কে শনাক্তকরণের বিষয়টি।
রেফারি ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি বা কার্ড দিলে ভিএআর কর্মকর্তারা তা সংশোধন করতে পারবেন, তবে মূল অপরাধের নতুন করে রিভিউ করা যাবে না। কোনো খেলোয়াড়কে ভুলবশত দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (যার ফলে লাল কার্ড) দেখানো হলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে এবং রেফারিকে পিচসাইড মনিটরে ঘটনাটি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিতে পারবে।
বাকি দুটি ক্ষেত্র হলো কর্নার বা ফ্রি কিকের ঠিক আগে আক্রমণকারী দলের করা ফাউল পর্যবেক্ষণ করা এবং গোল কিক থেকে সৃষ্ট সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনা স্পষ্ট করা।
মুখ ঢেকে কথা বললে কি চ্যাম্পিয়নস লিগের রেফারিরা শাস্তি দেবেন?
গত ফেব্রুয়ারির চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি তার জার্সি টেনে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। তারপর খেলোয়াড়দের মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি বড় বিতর্ক তৈরি করেছিল।
প্রেসতিয়ান্নির বিরুদ্ধে প্রথমে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠলেও পরে উয়েফার তদন্তে তিনি সমকামী-বিদ্বেষী আচরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। ফলে তাকে ৬ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে ৩ ম্যাচের শাস্তি স্থগিত রাখা হয়।
এই ঘটনার পর ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে একটি নিয়ম কার্যকর করে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সাথে তর্ক বা মুখোমুখি হওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখলে তাকে লাল কার্ড দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে। প্যারাগুয়ের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে মিগুয়েল আলমিরন এই অপরাধে প্রথম লাল কার্ড দেখেন। পরবর্তীতে ইকুয়েডরের শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে হেরে যাওয়ার ম্যাচে একই নিয়মে বহিষ্কৃত হন পিয়ারো হিনক্যাপি।
উয়েফা নিশ্চিত করেছে যে তারা ফিফার মতো সরাসরি লাল কার্ডের কঠোর অবস্থান অনুসরণ করবে না। তবে কোনো খেলোয়াড় অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের উদ্দেশ্যে মুখ ঢাকলে রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখাতে পারবেন।প্রেসতিয়ান্নির ঘটনার মতো ম্যাচের পর তদন্তের প্রয়োজন হলে খেলোয়াড়রা পরবর্তীতেও শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
হলুদ কার্ডের নিয়মে উয়েফার পরিবর্তন
মূল পর্বে খেলোয়াড়দের অর্জিত হলুদ কার্ডের কারণে কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তন এনেছে উয়েফা। আগে ৩টি হলুদ কার্ডের জন্য ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতো এবং পরবর্তীতে ৫ম ও ৭ম কার্ডের জন্য অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতো।
এই মৌসুমে খেলোয়াড়দের কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ৪টি হলুদ কার্ড পাওয়ার পর প্রথম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। পরবর্তীতে ৬, ৮ ও ১০ নম্বর কার্ডের ক্ষেত্রে পরবর্তী নিষেধাজ্ঞাগুলো আসবে।
কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগের অর্জিত সব হলুদ কার্ড বাতিল হয়ে যাবে। এর অর্থ হলো, সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে লাল কার্ড দেখলেই কেবল ফাইনালে নিষিদ্ধ হবে খেলোয়াড়।
এফএইচএম
