বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল লিগ সমাপ্ত হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঐ লিগে প্রতি ম্যাচের জন্য সেরা ফুটবলাররা পাননি প্রাপ্য অর্থ। প্রতি ম্যাচে দশ হাজার টাকার ডামি চেক দিয়ে ফুটবলারদের ছবি তুলে পোস্ট করত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
এবার অনুষ্ঠিত হওয়া নারী ফুটবল লিগে বাফুফে ফিফার থেকে অর্থায়ন পেয়েছে। ফুটবল ফেডারেশনের বিভিন্ন ব্যক্তির ভাষ্যমতে, ফিফা নারী লিগের জন্য কোটি টাকার মতো অনুদান দিয়েছে। সেখানে ৫৫ ম্যাচে ৫৫ ম্যাচ সেরার অর্থ ছয় মাসের মধ্যেও প্রদান করতে পারেনি ফুটবল ফেডারেশন। নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ এই বিষয়ে বলেন, ‘ফিন্যান্সকে আমি এই বিষয়ে বারবার বলেছি প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের অর্থ প্রদান করতে। এখন পর্যন্ত সেটা হয়নি, মেয়েদের অর্থটা অবশ্যই প্রয়োজন।’
রাজশাহী স্টার নারী ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দশ ম্যাচের দশটিতেই তারা জিতেছে। দশ ম্যাচের মধ্যে পাঁচ ম্যাচেই শামসুন্নাহার জুনিয়র ম্যাচ সেরা। দুই ম্যাচে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন নেপালী ফুটবলার দীপা সাহা। বাংলাদেশি ফুটবলাররা এখনো ফেডারেশন থেকে অর্থ না পেলেও রাজশাহীকে নেপালী ফুটবলারের অর্থ ঠিকই বুঝিয়ে দিতে হয়েছে। ‘ফেডারেশন থেকে না পেলেও ক্লাবের পক্ষ থেকে আমি দীপা সাহাকে ম্যাচ সেরার অর্থ প্রদান করেছি। ম্যাচ সেরা হওয়া অন্য ফুটবলাররাও আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত জানতে চান তারা কবে অর্থ পাবেন, আমরা ফেডারেশন যোগাযোগ করে কোনো সদুত্তর পাইনা’, বলেন রাজশাহী স্টারের ম্যানেজার মুশফিকুর রহমান।
নারী ফুটবল লিগে রানার্স আপ ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। সেই ক্লাবের কর্মকর্তা বাবুরাম বলেন, ‘ফেয়ার প্লে’র অর্থ আমরা এখনো পাইনি। বাইলজে রানার্স আপ দল ট্রফি পাবে উল্লেখ থাকলেও দেয়নি আমাদের। এজন্য চিঠি দিয়েও এখন পর্যন্ত পাইনি।’ নারী ফুটবল লিগে অর্ধ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা রাজশাহী স্টার ফেডারেশন থেকে দশটি বল ও চ্যাম্পিয়ন বাবদ চার লাখ টাকা পেয়েছে। অন্য ক্লাবগুলো লিগের পজিশন ভিত্তিক অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে। নির্বাচনের জন্য খেলা পেছানোয় ক্লাবগুলোকে ক্ষতিপূরণের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্লাব পায়নি বলে জানিয়েছে।
ফিফা থেকে প্রায় কোটি টাকার অনুদান। ক্লাবগুলোকে তেমন বড় অঙ্কের সহায়তাও করেনি। ম্যাচ সেরার অর্থ এটা সকল টুর্নামেন্টের হিসাবের মধ্যেই থাকে। এরপরও কেন ফুটবলাররা পাচ্ছেন না বড় প্রশ্ন উঠেছে। মহিলা ফুটবল লিগ নারী উইংয়ের অধীনে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হলেও মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ও সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমও গত লিগে বেশ সম্পৃক্ত ছিলেন। লিগ শেষ হওয়ার ছয় মাস পরেও এমন ঘটনায় তার মন্তব্য, ‘এ রকম হওয়ার কথা নয়, কিরণ আপা আমাকে কিছু দিন আগে জানিয়েছেন। আমি দেশে ফিরলাম আজ, ফেডারেশনে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
ফিফার অর্থায়ন থাকায় ব্র্যান্ডিংয়ে বেশ খরচ করেছে ফেডারেশন। ফেডারেশনের অনেকের ধারণা, কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে লিগে এবং মিডিয়া-ব্যান্ডিং খাতে অনেক বড় অঙ্কের খরচ দেখানো হয়েছে। ফিফার বাজেটের মধ্যেই নারী লিগ সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থ উদ্বৃত্তও রয়েছে এমন দাবি কিরণ-ফাহাদ দুই জনেরই।
এজেড/এইচজেএস
