পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরানের পক্ষে আরও আগে থেকেই সরব হয়েছিলেন ক্রিকেট বিশ্বের কিংবদন্তিরা। সেই দলে যোগ দিলেন আরেক পাকিস্তানি কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম। ইমরান খানকে বন্ধু ও মেন্টর উল্লেখ করে তার স্বাস্থ্যগত বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
ওয়াসিম আকরাম জানিয়েছেন, ‘সে (ইমরান খান) আমার বন্ধু, আমি তাকে খুব মিস করি। গত তিন বছর তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। রাজনৈতিক কারণে তার সঙ্গে যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আদালতের বিষয়টি তো তাদের হাতেই রয়েছে। তবে তার স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা চলে না।’
— The Athletic (@TheAthletic) September 8, 2026
সম্প্রতি বিশ্বের ক্রিকেট মহলে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দেশের কিংবদন্তি ২২ অধিনায়কের একটি দল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছে। যেখানে তারা ইমরানের ন্যূনতম মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ।
এ ছাড়া বর্তমান অধিনায়কদের মধ্যে সবার আগে অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স ওই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এরপর ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্রায়ান লারাও চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইমরানকে ‘আমাদের খেলার এক কিংবদন্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, তিনি ‘ন্যূনতম মানবিক আচরণ পাওয়ার যোগ্য। একইভাবে পাকিস্তানের ভেতরও ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে। যার সূচনা হয়েছে জাভেদ মিয়াঁদাদের আবেগঘন এক আহ্বানের মধ্য দিয়ে।
জাভেদ মিয়াঁদাদ ইমরানকে কারাগার থেকে মুক্তি এবং সরকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার মতপার্থক্য ‘মিটিয়ে ফেলার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপরই সাবেক দুই পাকিস্তানি তারকা মঈন খান ও রমিজ রাজাও ওই সুরে কথা বলেছেন। এবার ওয়াসিম আকরামও হাঁটলেন সেই পথে। সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের সিরিজ চলাকালে ইংলিশ গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইমরানের দুই সন্তান কাসিম খান ও সুলাইমান খান। সেটি প্রচার করা নিয়েও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তারা সিরিজ বয়কটেরও হুমকি দিয়েছিল। তবে তেমন কিছু ঘটেনি।
ইমরানপুত্রের সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে ওয়াসিম আকরাম বলছেন, ‘ওই ঘটনায় এখানে (পাকিস্তানে) বেশ তোলপাড় হয়েছিল। আমি পরে পড়েছি– ইমরান কতবার দেখা-সাক্ষাৎ করেছেন এবং কতবার ফোন করেছেন তার সব হিসাব-নিকাশসহ একটি তালিকা পাকিস্তান সরকার প্রকাশ করে। তবে জানেনই তো, এসব বিশ্বাস করা কঠিন। আর এই মুহূর্তে ঠিক কী বিশ্বাস করা উচিত, তা-ও বোঝা দায়। অবসর নেওয়ার পরেও আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আমি গিয়ে তার সঙ্গে সময় কাটাতাম। তার সঙ্গে কথা বলার মুহূর্তগুলো আমার খুব মনে পড়ে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একজন বন্ধু হিসেবেও আমি তাকে খুব মিস করি।’

রাজনৈতিকভাবে ইমরানের ভাগ্যে কী আছে সেটি নিয়ে মাথাব্যথা নেই ওয়াসিম আকরামের। তবে স্বাস্থ্যগত বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন তিনি, ‘ইংল্যান্ড ও অন্যান্য জায়গায় (ইমরানের পরিস্থিতির উন্নতির জন্য) একটি আন্দোলন চলছে, কিন্তু এখানে (পাকিস্তানে)? এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। একজন ব্যক্তি হিসেবে তার জন্য উদ্বিগ্ন হয়েই আমি মনের কথা বলছি, তিনি দোষী সাব্যস্ত হোন বা না হোন, জেলে থাকুন বা বাইরে। তার স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আসলে কী ঘটছে তা আমরা জানি না। সরকারের দাবি, তার নাকি কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। কিন্তু আমি চিন্তিত যে, আমি তাকে খুব মিস করি।’
এএইচএস
