যেসব ব্যর্থতা-ভুলের মাশুল দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, বললেন লঙ্কান অধিনায়ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফেভারিট না হলেও, সম্ভাবনাময় হিসেবেই ক্রিকেট বিশ্লেষকদের তালিকায় নাম ছিল সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার। সুপার এইটে উঠে পরপর দুই ম্যাচেই তারা চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের নজির গড়েছে। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেও ছিটকে গেছে দাসুন শানাকার দল। এই পরিস্থিতিতে কার্যত বিপর্যস্ত ও হতাশায় আচ্ছন্ন লঙ্কান অধিনায়ক। কার–কোথায় ভুল ছিল সেটাই এখন কাটাছেঁড়া করছেন।
পাল্লেকেলেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষ টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল স্বাগতিক দলটি। যেখানে ১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে লঙ্কানরা মাত্র ৯৫ রানে গুটিয়ে যায়। সর্বশেষ গতকাল (বুধবার) কিউইদের বিপক্ষেও যথারীতি টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন শানাকা। এবার ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ২০ ওভার ব্যাট করলেও, লঙ্কানরা সর্বসাকুল্যে ১০৭ রান তুলে ৬৭ রানে হেরেছে। ঘরের মাঠের উইকেটও কি ঠিকঠাক পড়তে পারেনি শ্রীলঙ্কা, নাকি ভুল ব্যক্তিগত কারও। ব্যাটিং লাইনআপই কেন দুটি ম্যাচেই এভাবে ধসে গেল সেসব বিষয়ে কথা বলেছেন শানাকা।
ম্যাচ শেষে লঙ্কান অধিনায়ক জানান, ‘সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই আগে বোলিংয়ের ব্যাপারটি এসেছে। পরের দিকে বল এতটা টার্ন করবে আমরা ধারণাও করতে পারিনি। নতুন পিচ হিসেবে আমরা ভেবেছিলাম সময়ের সঙ্গে উইকেট আরও থিতু হবে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই প্রত্যাশা ছিল এসব উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হবে। শ্রীলঙ্কার সেরা ব্যাটাররা খেলছে এখানে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যাদের সামর্থ্য ও স্ট্রাইকরেট ভালো, তাদেরকে দলে নিয়েছি আমরা। জোর করে কাউকে আনা হয়নি। কিন্তু কখনও কখনও প্রত্যাশামতো কন্ডিশন আমরা পাই না ও অপ্রত্যাশিতভাবে ম্যাচ হেরে যাই। যা হয়েছে, তা নিয়ে আমরা খুবই হতাশ।’
পুরো বিশ্বকাপে চোট-জর্জর ছিল শ্রীলঙ্কা। বড় টুর্নামেন্টে ফিটনেস ঠিক থাকা কতটা জরুরি সেটাই নতুন করে উপলব্ধি হয়েছে দাসুন শানাকার, ‘ফিটনেসের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। আমাদের যে পরিমাণ চোট সমস্যা আছে, এরপর ভালো ফল পাওয়া কঠিন। আমাদের জন্য ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা এত গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার, মাথিশা পাথিরানাও দলের জন্য কতটা জরুরি জানি, ইশান মালিঙ্গাও চোটের কারণে বাইরে আছে। ফিটনেসের সমস্যাই চোট নিয়ে আসে। কিছু ক্রিকেটার ফিটনেসের সমস্যার কারণে দলেই আসতে পারছে না। আমরা এসব বলে আসছি কয়েকটি বিশ্বকাপ ধরে।’
দলের ব্যর্থতার জন্য লম্বা সময় ধরে মাঠের বাইরে থেকে আসা নেতিবাচক সমালোচনাকেও দায়ী করলেন লঙ্কান দলনেতা, ‘অনেক সময়ই আমরা যা দেখি এবং শুনি তা নেতিবাচক। আমরা যতই ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করি না কেন, বাইরের নেতিবাচকতা স্পর্শ করেই। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের জন্য এটা বড় একটা ক্ষতি। আমাদের স্রেফ এই একটি খেলাই আছে এবং জানি না আমরা এটা রক্ষা করতে পারব কি না। আপনি যদি স্টেডিয়ামের বাইরে তাকান, দেখতে পাবেন কত মানুষ মাইক্রোফোন হাতে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে এবং লোকেরা খেলা না দেখেও অনেক কিছু বলে যাচ্ছে।’

তীব্র সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হলেও, ব্যর্থতার জন্য হতাশ সমর্থকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করলেন শানাকা, ‘পারফর্ম করার চেষ্টা ছিল দলের, বিশেষ করে বিশ্বকাপে। এই দলের আর কেউ কখনও দেশের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাবে কি না জানি না। সবারই তাড়না ছিল সেমিফাইনালে খেলার। সবারই ইচ্ছে ছিল। তবে প্রত্যাশার প্রতি সুবিচার করতে পারিনি আমরা। সমর্থকদের চাওয়া পূরণ করতে পারিনি, দুঃখিত।’
এএইচএস