স্যামসনের ‘জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত’

আগামী রোববার অন্যরকম ভালো লাগার এক অনুভূতি কাজ করবে সাঞ্জু স্যামসনের। প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবেন তিনি। স্যামসনের কারণেই প্রথম ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে ভারত।
গত রোববার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ৯৭ এবং গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ৮৯ রান করেছেন– টানা দুই ম্যাচে হয়েছেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়। আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে স্যামসনের অনুভূতি, ‘এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। আমি এর জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বললেন, ‘আমি অনেক লম্বা সময় ধরে এই ফরম্যাটে খেলছি। আমি প্রায় ৩০০ বা ৪০০ টি-টোয়েন্টি (৩২৮টি) খেলেছি। আমি (ব্যাটিং অর্ডারে) এক থেকে ছয় নম্বর পর্যন্ত সব পজিশনেই খেলেছি। আমি (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজির (রাজস্থান রয়্যালস) অধিনায়কত্ব করেছি। তাই কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে দলের কী প্রয়োজন এবং এই একাদশে আমার সঠিক ভূমিকা কী, তা জানার অভিজ্ঞতা আমার আছে। এই ধরনের স্বচ্ছতা অবশ্যই আপনাকে আপনার মনের মতো রান করতে সাহায্য করে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্যামসনের ম্যাচ জয়ী ইনিংস ছিল রান তাড়া করতে নেমে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। কিন্তু ভারতকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে দলে জায়গা পাওয়া এই ব্যাটার। গতকালকের পিচকে ‘যথার্থ’ বললেন স্যামসন। ওপেনিং সঙ্গী অভিষেক শর্মা ও তিনি শুরুতেই বুঝতে পারেন, এই পিচে অন্তত ২৫০ রান করতে হবে।
স্যামসন বললেন, ‘গত ম্যাচটি ছিল দলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে। যখনই আমরা মোমেন্টাম (গতি) পাচ্ছিলাম, তখনই উইকেট পড়ছিল, তাই আমাকে শেষ বল পর্যন্ত খেলাটি শেষ করে আসতে হয়েছিল। কিন্তু এই ম্যাচটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। যখন আপনি ওয়াংখেড়েতে আগে ব্যাটিং করবেন, তখন আপনি জানেন যে এখানে কোনো স্কোরই যথেষ্ট নয়। তাই, একবার শুরুটা পাওয়ার পর, আমি সেটিকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম এবং যত বেশি সম্ভব চার ও ছক্কা মারতে চেয়েছিলাম।’
অভিষেক, স্যামসন ও ইশান কিষাণ ভয়ডরহীন ব্যাটিং করেন। তারা প্রায় প্রত্যেক বলই মেরে খেলেছেন, বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে। আর স্যামসনের মতে, পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচ নির্ধারণ হয়ে যায়, ‘পাওয়ার প্লেতেই খেলা জেতা বা হারা নির্ধারিত হয়। তাই একবার আপনি তিন বা চারটি বল দেখে নেওয়ার পর আক্রমণ করা শুরু করেন— যেমনটা অভিষেক করে আসছে, কিংবা ঈশান এবং আমি যেভাবে করছি। সুতরাং প্রথম তিন ব্যাটারের কাজ হলো পাওয়ার প্লেতে বিধ্বংসী হওয়া। মাঝেমধ্যে ফলাফলের নেতিবাচক দিকে আপনি শেষ করতে পারেন (হারতে পারেন) এবং মাঝেমধ্যে আপনি জেতেন। কিন্তু আপনি আপনার চরিত্র বা গেমপ্ল্যান পরিবর্তন করতে পারবেন না কারণ আমরা ৮ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং করছি। তাই দল যা চায় আপনি সেই অনুযায়ী খেলবেন এবং যদি দিনটি আপনার হয়, তবে দলকে টেনে নিয়ে যান, অন্যথায় অন্যদের সমর্থন দিন।’
এফএইচএম/