ভারতকে এড়াতে হবে এই ৩ ভুল

২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মহেন্দ্র সিং ধোনির সেই রানআউট। ২০২১ এ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে কেন উইলিয়ামসনের দাপট, একই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে হারের ধাক্কা। এসব ঘটনা ভারত মনে করতে না চাইলেও যেন উঁকি মারে। তাতে নিউজিল্যান্ড সামনে এলেই অদৃশ্য চাপে পড়ে ভারত।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আধিপত্য থাকলেও বিশ্বকাপ ইতিহাসে তিনবারের দেখায় নিউজিল্যান্ডের কাছে সবকটি হেরেছে ভারত। আজ (রোববার) সন্ধ্যায় আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে আবারো কিউইদের মুখোমুখি তারা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে সূর্যকুমার ও তার দলকে তিনটি কৌশলগত ও মানসিক ফাঁদ এড়িয়ে চলতে হবে, যেসবের কারণে অতীতে ভুগেছে তারা।
আতঙ্কিত হয়ে ব্যাটি অর্ডারে পরিবর্তন
সম্ভবত সবচেয়ে কুখ্যাত কৌশলগত ভুল হয়েছিল ২০২১ সালের বিশ্বকাপে। হাইভোল্টেজ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আতঙ্কিত ছিল ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট। তারা রোহিত শর্মাকে তিনে নামিয়ে ইশান কিষাণকে ওপেনিং করতে পাঠায়। ফল ছিল হতশ্রী ব্যাটিং, ভারত ৭ উইকেটে ১১০ রানে গুটিয়ে যায়।
সূর্যকুমার ও তার দল ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াড তৈরি করেছে ‘স্বাধীনতা ও সরলতা’র ওপর ভিত্তি করে। ওপেনিং ব্যাটার অভিষেক শর্মার ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ আছে। তাতে ভারত হয়তো ফাইনালের ব্যাটিং অর্ডারে কিছু পরিবর্তন আনতে পারে, যা সাধারণত প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত দেয় যে তারা ভয় পেয়েছে। সূর্যকুমারের তাই এটি পরিহার করা উচিত। ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন না করাই হবে সাহসিকতার পরিচয়।
স্পিনে বোতলবন্দি ভারত
স্পিনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার দারুণ দক্ষতা আছে নিউজিল্যান্ডের, যেটা ভারতের বিপক্ষে তাদের মারাত্মক অস্ত্র হতে পারে। ২০১৬ সালে মিচেল স্যান্টনার ও ইশ সোধি নাগপুরের স্পিন ট্র্যাকে ভারতকে ৭৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে কুখ্যাত হয়েছে আছেন। চলতি টুর্নামেন্টেও স্যান্টনার তার লক্ষ্যের কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন– কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে তিনি গ্যালারির দর্শকদের স্তব্ধ করে দিতে চান।
মিডল অর্ডার যেন চাপে না পড়ে, সেজন্য সূর্যকুমার নিজে ও তিলক ভার্মাকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে। অতীতে ভারতীয় ব্যাটাররা স্পিনারদের দেখেশুনে খেলতে গিয়ে দলের আস্কিং রেট বেড়ে গেছে, সেই চাপ কাটাতে গিয়ে ধসের শিকার হয়েছে।
মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস
এই ভেন্যুর গুরুত্ব অনেক বেশি। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে আহমেদাবাদেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ধসের মুখোমুখি হয় ভারত। অথচ দাপট দেখিয়ে শিরোপার লড়াইয়ের ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ভারত। পিচের ধরন বুঝতে না পেরে বিপদে পড়ে।
এই ফাইনালের আগে সূর্যকুমার স্বীকার করলেন যে নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ তিনি খুব একটা দেখেননি। তার এই মন্তব্য বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে তাদের সূক্ষ্ম পরিকল্পনার অভাবকে প্রতিফলিত করছে। কিউইদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা না করে নামা হবে ভারতের জন্য বড় বিপদের কারণ।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালেও ভারত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নেমেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দাপট দেখানো জয়ের পর নিশ্চিতভাবে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে তারা, সেটাই যেন তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জসপ্রীত বুমরাহর আগুন বোলিং ও স্যাঞ্জু স্যামসনের ফর্মে চড়ে স্বাগতিকরা ‘কিউই জুজু’ কাটাতে পারে।
এফএইচএম/