সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় থেকে ছন্দে নেই ভারতীয় রহস্য স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। দেশটির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলেও তিনি যথারীতি তিক্ত সময় পার করছেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে দুই ম্যাচে কোনো উইকেট তো পাননি, উল্টো রান বিলাচ্ছেন উদার হাতে। অতীত পরিসংখ্যান ভালো হলেও বরুণ যে এখন আত্মবিশ্বাস সংকটে ভুগছেন তা স্পষ্ট। যদিও তাকে পাওয়ার প্লেতে বোলিং করানোয় সমালোচিত হচ্ছেন কলকাতার অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল (বৃহস্পতিবার) ইডেন গার্ডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দেওয়া ২২৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় কলকাতা ৬৫ রানে হেরেছে। যেখানে বরুণকে পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে আনেন রাহানে। ওই ওভারে ২ ছক্কা ও ৩টি চারের বাউন্ডারিতে ২৫ রান নিয়েছে হায়দরাবাদ ওপেনার অভিষেক শর্মা। যা আইপিএলে বরুণের এক ওভারে সর্বোচ্চ (যৌথভাবে) রান খরচের রেকর্ড। ২০১৯ সালে কিংস ইলেভেন পাঞ্চাবের বিপক্ষেও তার এক ওভারে সমান রান খরচের নজির রয়েছে।
আগের ম্যাচেও বেশ খরুচে ছিলেন বরুণ। ৪ ওভারে ৪৮ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি। কলকাতাও ম্যাচটি হেরে যায়। তবে গতকাল ৪ ওভারের কোটা পূরণেরও সুযোগ পাননি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। উইকেটশূন্য থেকে ২ ওভারেই দিয়েছেন ৩১ রান। তাকে পুরো ৪ ওভার না করানোয় ম্যাচ শেষে প্রশ্নের মুখে পড়েন কলকাতা অধিনায়ক রাহানে। জবাবে তিনি বলেন, ‘মাঝে-মধ্যে বোলার কোন মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা আপনাকে দেখতে হবে। কাউকে ৪ ওভার করানো অপরিহার্য নয়। যদি সে সংগ্রাম করে, সেটা আপনাকে মেনে নিতে হবে। বরুণকে আমি ৪ ওভার করাতে চেয়েছি, কিন্তু ব্যাটাররা যেভাবে আগাচ্ছিল…তাদের বিপরীতে অনুকূল রায় (২ ওভারে ১৬/১) ভালো বোলিং করেছে।’
বিজ্ঞাপন
বরুণের অতীত পরিসংখ্যান ও অভিজ্ঞতা তার সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছে অনেকবার। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে তাকে সবার সমর্থন দেওয়া দরকার বলেও মনে করেন রাহানে। অন্যদিকে, ফর্মহীন এই স্পিনারকে পাওয়ার প্লেতে বোলিং করানোর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না ইরফান পাঠান। এর আগে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষেও তাকে পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এনেছিলেন রাহানে, যেখানে বরুণ ১৫ রান দেন। ইরফান বলেন, ‘বোলারকে আত্মবিশ্বাস দিতে বড় ভূমিকা থাকে অধিনায়কের। কখন, কোন মুহূর্তটা তার জন্য বোলিং করার উপযোগী হবে সেটি বুঝে সমর্থন দিতে পারা নেতৃত্বের কাজ। সে কারণে তার পাওয়ার প্লেতে বল করাটা উচিত নয়। আপনার ট্রাম্প কার্ড হতে পারে এমন বোলারকে হারানো যাবে না।’
রাহানের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সে আপনার ম্যাচজয়ী পারফর্মার হতে পারে। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে তাকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিলেন। দ্বিতীয় পর্বে রাহানে ভালো (অধিনায়কত্ব) করেছে, তবে প্রথমদিকে সে গুলিয়ে ফেলেছিল বরুণকে পাওয়ার প্লেতে বোলিংয়ে এনে।’ তবে ভিন্নমত দিলেন আরেক সাবেক ভারতীয় তারকা সঞ্জয় বাঙ্গার, ‘আমার মতে বরুণ দ্বিতীয় ওভার ভালো করেছে, ২৫ রান খরচের পর ভালোভাবে কামব্যাক দিয়েছে। তবে আমার মনে হচ্ছিল তার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস ছিল না এবং সে কারণে রাহানেও তাকে আর ব্যবহার করেনি।’

বিজ্ঞাপন
‘তাকে (বরুণ) আরও বেশি ব্যবহার করা যেত, কিন্তু হাতে তো অপশন (অনুকূল রায় ও সুনীল নারিন) আছে। সে (রাহানে) কী করতে চায় আপনাকে বুঝতে হবে। অ্যারিয়াল স্ট্রাইকস যাতে না করতে পারে সে কারণে স্লো বল করানো হয় বলে আমি মনে করি। কারণ হেইনরিখ ক্লাসেন ও নীতিশ রেড্ডি সেভাবে খেলতে চেষ্টা করেছে। সেই বিবেচনায় রাহানের ভাবনা দারুণ ছিল, তবে বরুণ কিছুটা আত্মবিশ্বাস সংকটে থাকায় তাকে সিম বোলারও ব্যবহার করতে হয়েছে। যদিও অনুকূলকে আরও ওভার করানো যেত, যেটা সে করেনি। পুরো ইনিংসে নয়টি ছক্কার মধ্যে সাতটিই পাওয়ার প্লেতে হয়েছে, যার মানে ছয় হাঁকানোও সহজ ছিল না।’
এএইচএস
