বিজ্ঞাপন

বিসিবির প্রধান নির্বাচক সুমন আরেকটি বড় দায়িত্বে

অ+
অ-
বিসিবির প্রধান নির্বাচক সুমন আরেকটি বড় দায়িত্বে

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। অনেক দিন ধরে বিসিবির নির্বাচক প্যানেলের সঙ্গে যুক্ত থেকে অবশেষে প্রধান নির্বাচক হয়েছেন। জাতীয় দল নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কাজের পাশাপাশি আবার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্যও হয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গনের সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যা নিরসন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সুপারিশ প্রদানে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি গঠন করেছে।

বিজ্ঞাপন

৬ এপ্রিল ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ক্রীড়াঙ্গনের স্থবিরতা নিরসনের জন্য ১৯ সদস্যের কমিটি করেছিল। সেই প্রজ্ঞাপনে এই কমিটির মেয়াদ ও কার্যপরিধি কিংবা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াগত মাধ্যম কিছুই উল্লেখ ছিল না। সাত দিন পর সেই কমিটি আবার পুনঃগঠন হয়েছে। ১৯ সদস্য থেকে বেড়ে ২৫ করা হয়েছে। আজকের প্রজ্ঞাপনে অবশ্য বলা হয়েছে, ‘দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যা নিরসন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিম্নরূপ কমিটি গঠন করা হলো।' 

আজকের বর্ধিত কমিটিতে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের পাশাপাশি, অ্যাথলেটিক্স ও ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের দুই সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন, মহিউদ্দিন বুলবুল, নারী ক্রীড়া সংগঠক ফরিদা ইয়াসমিন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক ক্রীড়া, কর্পোরেট বিশেষজ্ঞ ডি এম রফিকুল ইসলাম অর্ন্তভূক্ত হয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচকের অত্যন্ত ব্যস্ততা ও চাপ রয়েছে। সেই ব্যস্ততা কাটিয়ে এই কমিটিতে তিনি কেমন সময় দিতে পারবেন সেটাই দেখার বিষয়। নারী ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে যিনি আছেন তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকটাই অসুস্থ।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন এই কমিটির সদস্য হওয়া নিয়ে বলেন, ‘জাতীয় দল নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে আমার ব্যস্ততা বেশ নিঃসন্দেহে। মন্ত্রণালয় যেহেতু আমাকে এখানে বিবেচনা করেছে ফলে অবশ্যই সভাগুলোতে উপস্থিত থেকে দেশের সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গন ও ক্রীড়াবিদদের সুরক্ষা সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করব।’

বিজ্ঞাপন

কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আজকের অফিস আদেশে কার্যপরিধিও দেয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে ক্রীড়াসংস্থা সমূহের বিদ্যমান সমস্যাসমূহ চিহ্নিতকরণ, পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন; ক্রীড়া সংস্থাসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্যকর প্রতিষ্ঠানরুপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়নের নিমিত্তে সুপারিশ; ক্রীড়াঙ্গনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বিধানকল্পে সুপারিশ প্রদান; এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনাকরণ ও এবং পরামর্শ প্রদান।

এই কমিটি এই কাজগুলো কত দিনে করবে সেই সময়সীমা অফিস আদেশে উল্লেখ নেই। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটিও মূলত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮ আলোকে গঠনতন্ত্র, ফেডারেশন নির্বাচন বিধিমালা ও বিদেশ গমন নীতি সহ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেয়ার কথা ছিল। সেই কমিটিকে পরবর্তীতে এগুলোর পরিবর্তে ফুটবল, ক্রিকেট বাদে অন্য ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি গঠনে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই সংস্কারমূলক কাজ আর বাস্তবায়ন হয়নি। সেই সময় জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ফেডারেশনের কমিটি গঠনে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়ার পাশাপাশি সার্চ কমিটিরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তিনি ক্রীড়া মন্ত্রী হয়ে সমস্যা নিরসনমূলক কমিটিতে আবার সার্চ কমিটির একজনকে রেখেছেন।

২৫ সদস্য কমিটির সদস্য সচিব বিসিবির সাবেক সচিব ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান। তিনি বলেন, 'আশা করছি এই সপ্তাহে আমরা প্রথম সভায় বসতে পারব। এই কমিটিতে সাবেক খেলোয়াড়, সংগঠক, পৃষ্ঠপোষক, সাংবাদিক, সার্ভিসেস সংস্থা, বিকেএসপি, ক্রীড়া প্রশাসন সহ ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই রয়েছেন। সকলের মতামতের ভিত্তিতে আমরা ক্রীড়াঙ্গনের চিরায়িত সমস্যা চিহ্নিত করে টেকসই সমাধানের চেষ্টা করব।'

বিজ্ঞাপন

গুরুত্বপূর্ণ কমিটির আহ্বায়ক ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া অনুবিভাগ), উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ, সাবেক জাতীয় ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরি, ক্রীড়া সংগঠক রফিকুল ইসলাম বাবু, সাতার ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক দেওয়ান সজল,দেশের চার জন বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক সহ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক,বিকেএসপির পরিচালক প্রশিক্ষণ সহ ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট আরো অনেকে।

এজেড/এইচজেএস