আম্পায়ারিংয়ে ধারাবাহিক সুনাম আর নির্ভুল সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। আইসিসির এলিট প্যানেলে জায়গা করে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। বিশেষ করে ভারতের ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে থাকে বাড়তি নজর।
বর্তমানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের চলমান একমাত্র টেস্টে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এই বাংলাদেশি আম্পায়ার। আইসিসির শীর্ষ প্যানেলের সদস্য হওয়ায় প্রভাবশালী দলের ম্যাচগুলোতে নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে নিয়মিতই দায়িত্ব পান তিনি।
এর আগে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি, ভারত-ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ এবং ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে আম্পায়ারিং করেছেন শরফুদ্দৌলা। বড় ম্যাচে চাপ সামলে সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার সক্ষমতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
২০২৪ সালের বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। যশস্বী জয়সওয়ালের একটি আউটের ক্ষেত্রে স্নিকো প্রযুক্তি পরিষ্কার সংকেত না দিলেও বলের গতিপথ বিবেচনায় আউটের সিদ্ধান্ত দেন শরফুদ্দৌলা। পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের বড় অংশই তাঁর পক্ষেই মত দেন।
এরপর ভারত-ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ এবং টেস্ট সিরিজেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আলোচনা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা গ্রহণযোগ্যতা পায়। আম্পায়ারিংয়ে দারুণ দক্ষতা দেখিয়ে অ্যাশেজের মতো বড় মঞ্চে দায়িত্ব পালন করেন এই বাংলাদেশি আম্পায়ার।
সবশেষ ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজেও টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। একই সময়ে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া ইস্যুতে ক্রিকেট পাড়ায় উত্তাপ চলেছিল। সেবার শরফুদ্দৌলাকে তিন ম্যাচেই টিভি আম্পায়ার হিসেবে দেখা গেলেও এবার টেস্ট ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
ক্রিকেট প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, আইসিসি এলিট প্যানেলের আম্পায়াররা নিরপেক্ষতার নীতিতে বিভিন্ন দেশের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায়ই ভারতের ম্যাচগুলোতেও নিয়মিত দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ আম্পায়ারকে।
আইএইচ
