বিজ্ঞাপন

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

এর আগে ওয়ানডেতে ২২ বারের দেখায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ছিল কেবল এক ম্যাচে। সেটা এসেছিল ২০০৫ সালে। ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের উত্থানের পর বাকিসব টেস্ট খেলুড়ে দেশকে এই ফরম্যাটে হারালেও অজিরা ছিল অধরা। এবার ঘরের মাঠে সেই অজি বধ! চার বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ।

মিপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভার ২ বলে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান করার পর বৃষ্টি হানা দেয়। এরপর খেলা আর মাঠে না গড়ালে ডিএল মেথডে ৮৬ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। নতুন বলে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এই ডানহাতি পেসারের খানিকটা নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়েছেন ম্যথু শট। পরের ওভারে মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।

২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন জশ ইংলিস ও কপার কলোনি। তবে রানার গতিতে ভেঙেছে সেই প্রতিরোধ। ১১তম ওভারের প্রথম বলে ইংলিসকে ফেরান এই পেসার। ২৫ বল খেলে ১৯ রান করেছেন ইংলিস।

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ব্যাট হাতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলার পর বল হাতেও দুর্দান্ত শুরু করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট তুলে নিয়েছেন। উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া কলোনিকে বোল্ড করেছেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে কলোনির ব্যাট থেকে এসেছে ৫০ বলে ৩৫ রান। এরপর ম্যাট রেনশকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেছেন মোসাদ্দেক। সবমিলিয়ে ম্যাচে ৩৭ রানে ২ উইকেট তার

Nahid Rana has words with Josh Inglis, Bangladesh vs Australia, 1st ODI, Mirpur, June 9, 2026

অজিদের মিডল অর্ডার ভেঙে দিতে মূল ভূমিকা ছিল রানার। এই ডানহাতি পেসার মিরপুরে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন। ৪১ রানের বিনিময়ে তার শিকার মোট ৪টি। ইংলিসের পর অ্যালেক্স ক্যারি, লিয়াম স্কট ও হ্যাভিয়ার ব্রাটলেটকে ফিরয়েছেন তিনি।

বাকিদের আসা যাওয়ার মাঝেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন ক্যামেরুন গ্রিন। ৬৬ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থেকেছেন তিনি। তাকে কেউই যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি।

এর আগে মিরপুরে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। মাত্র ৫ রান করে ফেরেন ওপেনার সাইফ হাসান। অবশ্য আরেক ওপেনার তানজিদ তামিমকে নিয়ে দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৯১ বলে ৯৬ রানের জুটি। তামিম ৫৪ রানে বিদায় নিলেও লড়াই চালিয়ে যান শান্ত।

তবে চারে নামে লিটনকে নিয়ে বড় পুঁজি গড়ার আগেই ভেঙে যায় জুটি। মাত্র ৭ রান করে বোলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। এর মাঝেই ক্যারিয়ারের দ্বাদশ ফিফটির দেখা পান শান্ত। অর্ধশতক করে শান্ত রানের গতি বাড়াতে চাইলেও সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৭ রান করে ডাগআউটে ফিরেছেন এই ব্যাটার।

আচমকা চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর ইনিংস বড় করার দায়িত্ব নেন তাওহীদ হৃদয় এবং মোসাদ্দেক হোসেন। ৪ বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক নিজেকে চেনাতে থাকেন নতুনভাবে। হৃদয়কে নিয়ে ৭৫ রানের জুটি গড়েন এই ব্যাটার।

মোসাদ্দেক শুরু থেকে আক্রমণাত্মক হলেও হৃদয় ছিলেন ধীরগতির। ৩১ রানের ইনিংস খেলতে ৫১ বল খেলেছেন তাওহীদ হৃদয়। এরপর ব্যাট হাতে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ এবং তানভীর ইসলামও বলার মতো কিছু করতে পারেননি।

মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতার দিনে একাই লড়াই করেছেন মোসাদ্দেক। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটির দিনে খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসও। নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগে ৭০ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার। এর আগে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছেন এই ব্যাটার।

Mosaddek Hossain made an impressive return to the side, Bangladesh vs Australia, 1st ODI, Mirpur, June 9, 2026

মোসাদ্দেকের সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন লোয়ারঅর্ডারে নামা তাসকিন আহমেদ। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ২০ রান রান করেছেন তিনি। টপঅর্ডার ও লোয়ারঅর্ডারের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন নাথান এলিস। এছাড়া ম্যাট রেনশো ও লিয়াম স্কট ২ এবং ব্রাটলেট একটি উইকেট শিকার করেন।

এইচজেএস